কুষ্টিয়ায় বটতৈল ইউনিয়নের সেই সমালোচিত শিল্পী মেম্বর অবশেষে বরখাস্ত

নিজ সংবাদ ॥ বয়স্ক, বিধবা, পঙ্গু, মাতৃকালিন ভাতা, ভিজিএফ, চালের কার্ড, নলকুপ প্রদান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেয়ার নামে মিথ্যা প্রতিশ্র“তি দিয়ে শত শত মানুষের সাথে প্রতারণা করে মোটা অংকের নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত কুষ্টিয়া বটতৈল ইউনিয়নের সমালোচিত শিল্পি মেম্বারকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগ ইপ-১ অধিশাখা। গত বছরের ১৭ নভেম্বর বটতৈল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য শিল্পি খাতুনের বিরুদ্ধে উপজেলার নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ৩২ জন ভুক্তভোগী নারী। পরে সাংবাদিকরা বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হলে তাৎক্ষনিক বটতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ মোমিন মন্ডল সাংবাদিকদের জানান অভিযুক্ত ইউপি মহিলা সদস্য শিল্পি খাতুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিস্তারিত না জানিয়ে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। ওই সময়ই সেখানে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, শিল্পি  মেম্বার বিভিন্ন সময়ে বিধবা, মাতৃত্বকালীন, বয়স্ক ভাতার কার্ড ও চাকুরী  দেয়াসহ বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। যা বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়।  সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩ ডিসেম্বর  ২০১৯ এই অভিযোগের তদন্ত করে কুষ্টিয়ায় সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মর্জিনা খাতুন ও সমাজসেবা অফিসার আবু রায়হানের তদন্ত দল। বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদে তদন্ত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে সটকে পড়েন ওই শিল্পী মেম্বর। এ সময় খবর পেয়ে সেখানে অভিযোগ জানাতে উপস্থিত হন আরো প্রায় ৫০ জন ভুক্তভোগী অভিযোগকারী। সে সময় বটতৈল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম এ মোমিন মন্ডল উপস্থিতিতে চলে তদন্ত। পরে তখন তদন্তকারী কর্মকর্তারা অভিযোগের শতভাগ সত্যতা পাওয়া কথা সাংবাদিকদের জানান। এরপর শিল্পি মেম্বার পুনঃতদন্ত চেয়ে আবার আবেদন করেন এবং বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। এতে শিল্পী  মেম্বারকে রক্ষা করতে ক্ষমতাসীন দলের জেলা পর্যায়ের একজন নেতা শিল্পী  মেম্বারের পক্ষে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। সে সংবাদও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া শিল্পীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা যেন আর কোন প্রকার অভিযোগ না দিতে পারে সে জন্য অন্যান্য ইউপি সদস্যদের চেয়ারম্যান নানা পরামর্শ প্রদান করেন  বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এক ইউপি সদস্য। অপরদিকে আর কোন সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিক অর্পণ মাহমুদকে ফোনে হুমকী দেন ওই মেম্বার।  আবেদনের প্রেক্ষিতে পরে ৩ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় পুনঃতদন্ত করা হয়। সে সময় তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে হবে জানান তদন্তকারী দলের কর্মকর্তা। পরে গত ২৪ ফেব্র“য়ারি ২০২০ তারিখ সরকার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিষয়ক ইপ-১ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহামেদ  চৌধুরী স্বাক্ষরিত ৪৬.০০.৫০০০.০১৭.২৭.০০১.১৯-২১৮ স্মারকে এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোছাঃ শিল্পি খাতুনের বিরুদ্ধে বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও বয়স্কভাতার কার্ড প্রদানের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তে প্রমানিত হওয়ায় জনস্বার্থে তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। মোছাঃ শিল্পি খাতুন কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী উল্লেখিত ইউপি মহিলা সদস্যকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো মর্মে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

আরো খবর...