কুষ্টিয়ায় পিয়াজের মূল্য বৃদ্ধিতে প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা

নিজ সংবাদ ॥ সারাদেশের মত মাত্র একদিনের ব্যবধানে কুষ্টিয়ায় পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ দিশেহারা। কুষ্টিয়ায় সোমবার যেই পিয়াজ পাইকারী বাজার ছিল ৩৫ থেকে ৪০টাকার সেই পিয়াজ গতকাল মঙ্গলবার পাইকারী বিক্রি হয়েছে ৭৫টাকা থেকে ৯০টাকা পর্যন্ত আর খুচরা বাজারে সোমবার  পিয়াজের কেজি ছিল ৫০/৫৫ টাকা আর মঙ্গলবার পিয়াজের খুচরা দাম বেড়ে হয়েছে ৮০/১০০টাকা কেজি। ব্যবসায়ী, আড়তদার আর কৃষকের বাড়িতে হাজার হাজার মন পিয়াজ মজুদ থাকলেও  ভারত থেকে পিয়াজ আসা বন্ধের খবরে পিয়াজের মুল্য দ্বিগুনের চেয়ে বেশি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। গতকাল সকালে পিয়াজের আকর্ষিক মুল্য বৃদ্ধিতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রনে জররী সভা আহবান করে। জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব তৌফিকুর রহমান। শহরের পিয়াজের আড়তদারদের উপস্থিতিতে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুৎফুন্নাহার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাইফুর রহমান ও জেলা বাজার মনিটরিং অফিসার। সভায় বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব তৌফিকুর রহমান বলেন- ব্যবসায়ীদের ট্রাডিশন থেকে ফিরে আসতে হবে। ভোক্তার চাহিদামত পিয়াজ সরবরাহ এবং ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে পিয়াজের মূল্য নির্ধারন করতে হবে। তাতে মানুষেরা উপকৃত হবে। অন্যাথায় মানুষকে জিম্মিী করে কেউ বিশেষ ফায়দা লুটতে চাইলে সেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগে প্রশাসন পিছপা হবে না। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারকে বিপদে ফেলে কেউ যদি লাভবান হতে চাই তাহলে সেটা হবে বোকার স্বর্গে বাস করার মত। তিনি পিয়াজের মুল্য উর্ধোগতি থেকে নিম্নমুখি রাখার জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আড়তদার আপনারা যদি বাজার নির্ধারনের ক্ষেত্রে নিজেরা লাভবান হওয়ার চিন্তা করে সাধারন মানুষের গলায় চাকু মারতে চান সেটা কখন বরদাস্ত করা হবে না। পিয়াজের আকর্ষিক মুল্য বৃদ্ধিতে আপনাদের পরস্পর যোগশাজস রয়েছে। নিয়ম না মেনে নিজেদের মনগড়া চিন্তা নিয়ে আড়তদারী করার কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন- এখন থেকে আড়তে উঠা মালগুলোর রেট ব্যবসায়ী বা কৃষকদের নাম এবং মোবাইল নম্বর লিখিত থাকতে হবে। আড়ত থেকে কেনা মাল খুচরা বাজারে একটি নির্ধারিত মুল্যে বিক্রি করতে হবে। অতিরিক্ত মুল্যে বিক্রিকারী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও বাজার কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রতিদিন সকালে পিয়াজের বাজার মনিটরিং করতে হবে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় পিয়াজের পাইকারী হাটগুলোতে বিশেষ নজরদারী রাখতে হবে। পিয়াজ মজুদদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি  জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পিয়াজের বাজার মনিটরিং ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক বলেন- ভোক্তাদের কষ্টে না ফেলে সহযোগিতা করতে হবে। ব্যবসায়ী নিয়ম ও সরকারী আইন মেনে চলতে হবে অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসন বিন্দুমাত্র কার্পন্যতা করবে না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন- পিয়াজ নিয়ে কোন রকমের ছলচাতুরী বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে মজুদখানায় অভিযান চালানো হবে। তিনি আড়ত এবং মজুদদারদের হুশিয়ারি করে বলেন- আড়তদারদের কারসাজি ধরতে প্রয়োজনে মোবাইল টেকিং করা হবে। তিনি আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের বাজার অস্থিরতা না করে স্বাভাবিক রাখার আহবান জানান।

আরো খবর...