কুষ্টিয়ায় নার্স বিলকিসকে গণধর্ষণ শেষে হত্যা

ডক্টরস ল্যাব’র মালিক ইয়ারুল ও তার ভাগ্নে উজ্জল জড়িতের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় নার্স বিলকিস আক্তারকে গণধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছেন নিহত বিলকিসের স্বজনরা। এমন অভিযোগ তুলে এবং প্রকৃত জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার।

গতকাল রবিবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ পাঠ করে শোনান মামলার বাদি নিহতের ভাই পারভেজ হোসেন এবং স্বামী রফিকুল ইসলাম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন- নিহতের মা মর্জিনা খাতুন, পালিত কণ্যা কুয়াসা ইয়াসমিনসহ নিহতের লাশ প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পরিবারের অভিযোগ, একজন সুঠামদেহী সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষকে নৃশংস ভাবে একাধিক ব্যক্তি যৌন নির্যাতন শেষে হত্যা, বস্তাবন্দি এবং তা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে খালের পানিতে ভাসিয়ে দেয়া কোনভাবেই একক কোন ব্যক্তির দ্বারা সম্ভব নয়। তাছাড়া হত্যাকান্ডের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী গুরুত্বপূর্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার যোগসূত্র থাকার পরও পুলিশ নিজের মতো করে কেবলমাত্র জসিম নামের একজনকে আসামী করে মামলা রেকর্ড এবং তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সৌপর্দ করেন। অথচ মামলার এজাহারে জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তি নাম দেয়া হলেও সেগুলি বাদ দিয়েছেন কুমারখালী থানার (ওসি তদন্ত) পরিদর্শক সুভ্র প্রকাশ দাস।

নিহতের মা মর্জিনা খাতুনের অভিযোগ বিলকিসকে তার কর্মস্থল শহরের হাসপাতাল মোড় এলাকার ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ইয়ারুল ইসলাম, তার ভাগ্নে উজ্জল এবং সহকর্মী জসিমসহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো। ওইসবে সাড়া না দেয়ায় বিলকিসকে নানাভাবে হেনস্থা করত তারা। নিহতের পালিত কন্যা কুয়াসা আক্তার ঋতুর অভিযোগ আমার মা’কে দৈহিকভাবে চরম নির্যাতন করেছিলো ওরা। লাশের গোসল করানার সময় তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আচড়ের চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করন।  ওদের সকলের গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই। এবিষয়ে কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বলেন, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এ মুহুর্তে খুব বেশী কিছু বলার সুযোগ নেই। তবে তদন্তকালে পরিবারের দেয়া অভিযোগের বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে। এজাহার নামীয় আসামীর বাইরেও যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তা অবশ্যই তদন্ত প্রতিবেদনের উঠে আসবে। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাদির অভিযোগ আমলে না নেয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। আদালতে জসিম জবানবন্দি দিয়েছে বিলকিসকে প্রথমে বুকের ওপর লাথি মারে। পরে সে একাই তাকে গলাটিপে হত্যা শেষে লাশ বস্তাবন্দি করে ক্যানেলে ভাসিয়ে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি দেওয়া জসিম ২০১৮ সাল প্রমোশন  দেওয়ার নাম করে বিলকিসের কাছ থেকে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সে টাকা ফেরত চাইলে নানাভাবে গড়িমসি করতে থাকে জসিম। সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ তার সাথে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানেনো হয়।

উল্লেখ্য গত ১৬আগষ্ট বিকেল থেকে নিখোঁজের চারদিন পর ২০ আগষ্ট কুমারখালী উপজেলার কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকো নামক এলাকায় জিকে খাল থেকে ওই ক্লিনিক নার্স কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়াস্থ রফিকুল ইসলামের স্ত্রী বিলকিস আক্তারের অর্ধগলিত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিখোঁজের পর কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরীও করা হয়েছিলো পরিবারের পক্ষ থেকে।

আরো খবর...