কুষ্টিয়ায় দু’দিনব্যাপী ‘সুশাসনের জন্য কৌশলগত যোগাযোগ’ বিষয়ক কর্মশালার সমাপনী

নিজ সংবাদ ॥ জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এবং পিফোরডি আয়োজিত সুশাসনের জন্য কৌশলগত যোগাযোগ বিষয়ক দু’দিনব্যাপী কর্মশালা শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। দুপুরে কর্মশালা শেষে অংশগ্রহনকারী সাংবাদিকদের মাঝে  সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরন করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র তথ্য অফিসার তৌহিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এর উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম, গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এর উপ-পরিচালক আবদুল গাফ্ফার, কোর্চ পরিচালক আইরিন সুলতানা। কালেরকন্ঠ প্রতিনিধি ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তারিকুল হক তারিক, আরশীনগর পত্রিকার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের প্রথম পর্বে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এর উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম তথ্য অধিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তথ্য কী, তথ্য অধিকার কী, তথ্য অধিকার আইন ও এর বৈশিষ্ট, তথ্য অধিকার আইন কেন?, তথ্য অধিকার আইনে কি আছে? আবেদনের উপায়, তথ্য চেয়ে তথ্য না পেলে করনীয়, বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের বাস্তবতা, তথ্য অধিকার  আইনের সুফল অর্জনে সাংবাদিকদের করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী সিটিজেন চার্টার নিয়ে  আলোচনা করেন। তিনি সিটিজেন চার্টার বিষয়ে আলোচনায় সরকারী সকল প্রতিষ্ঠানে এর গুরুত্ব  তুলে ধরেন। সিটিজেন চাটারের মাধ্যমে জনগনের নাগরিক সুবিধা গ্রহন সহজ হয়। নাগরিকরা তাদের সেবা সম্পর্কে অবহিত হয় এবং সেই মোতাবেক নিজেদের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত করতে পারেন। তিনি বলেন, সিটিজেন চার্টারে সরকারী সকল সেবার নাম উল্লেখ থাকে। এ বিষয়ে কোন দপ্তরের অনীহা বা কার্পন্যতার সুযোগ থাকে না। জেলা প্রশাসনের ২৩২টির বেশি সেবা প্রদানের সুযোগ রয়েছে। অনুরূপ উপজেলা প্রশাসনের অনেক সুযোগ রয়েছে। সুশাসন ও সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভিশন ও মিশন থাকতে হবে। সরকার ২০২১ ও ২০৪১ সালকে যথাক্রমে ভিশন ও মিশনের ঘোষনা দিয়ে সরকার সেই পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর সরকারের এই উদ্যোগের সাথে সকল বিভাগকে যথারীতি কাজ করে যেতে হচ্ছে। সরকারের এই উদ্দ্যেশ্য লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের ভুমিকা কোনভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সিটিজেন চার্টাররের পুর্ণবাস্তবায়নে ও সুফল অর্জনে সাংবাদিকদের করনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা এবং সেই মতে কাজ করলে সমাজ উপকৃত হবে। পরে ৪টি গ্র“পে দুই দিনের কর্মশালা নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এর উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম বলেন- সকলের সমন্বয়ে সরকারের ৫টি মুল উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব আর এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে সাংবাদিকদেরকে সজাগ এবং সচেতন করে তোলা এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য বোধকে জাগ্রত করা হয়। আপনারা সাংবাদিকেরা জাগ্রত হয়ে সরকারের লক্ষ্যে পৌছানোর কাজে সহযোগিতা করলে দেশ ও দেশের জনগন অনেকাংশে উপকৃত হতে পারে। তিনি আরো বলেন- দেশের ৪৬০টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। যাতে সাংবাদিকদের পেশাগত মান বৃদ্ধি এবং তথ্য সম্পর্কে জানা ধারনা গুলোকে শেয়ার করতে পারেন। উল্লেখ্য গত সোমবার থেকে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউস হলরুমে সরকারের ৫টি পলিসি টুলস নিয়ে দুদিনের কর্মশালার সূচনা হয়। কর্মশালার উদ্বোধন করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহিন ইসলাম (এনডিসি)। জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক মঞ্জুরুল আলমের সভাপতিত্বে এপিএ ও জিআরএস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ। জেলা প্রশাসক মো, আসলাম হোসেন  বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বিষয়ক আলোচনা করেন। কর্মশালায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এর উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম। তথ্য অধিকার বিষয়ে আলোচনা করেন কুষ্টিয়ার জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা  তৌহিদুজ্জামান, এছাড়া কর্মশালায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে জবাব দেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এর উপ-পরিচালক আবদুল গাফ্ফার। কোর্চ পরিচালক হিসেবে ছিলেন আইরিন সুলতানা। কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত ২৫জন গণমাধ্যম কর্মী কর্মশালায় অংশগ্রহন করেন।

আরো খবর...