কুষ্টিয়ায় তিন ভূমি দস্যুর ভয়ে তটস্থ মিলপাড়ার সাইফুল

কষ্টের পয়সায় কেনা জমি বেদখলের আশঙ্কা

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া শহরের বাহাদুরখালী মৌজায় অনেক কষ্টে পয়সা জমিয়ে সোয়া এক টুকরো জমি কিনেছিলেন মিলপাড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম রাজা। সেই জমিতে শকুনের দৃষ্টি পড়েছে। ৩ ভূমিদস্যু সেই জমি জবর দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। জমি দখলে বাধা দিলে তারা সাইফুলকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আবার কখনও তারা সাইফুলের কাছে মোটা অংকের চাঁদাও দাবি করছে। এ নিয়ে থানায় জিডিও করেছেন সাইফুল। মিলপাড়া রবীন্দ্র স্মরনীর বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম রাজা অভিযোগ করে বলেন, তিনি ২০১৭ সালে ইয়াসমিন নামে এক মহিলার থেকে বাহাদুরখালী মৌজার ১১৯৯ খতিয়ান ১০৫০ দাগে সোয়া ৩ শতক জমি কিনেন। আড়–য়াপাড়ার দত্তপাড়া রোডের আব্দুল হামিদ ড্রাইভারের ছেলে মো. পিয়াস, আড়–য়াপাড়া বাহাদুর আলী লেনের ১ নং গলির মৃত আবুল হায়াতের ছেলে সওকত আলী ওরফে টন ও বাহির বোয়ালদহ গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মো. রাসেল এক বছর ধরে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছে। সাইফুল জানান, ওই ভূমি দস্যুরা এখন ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করছে। জমি ছেড়ে না দিলে ভুমি দস্যুরা সাইফুলকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া সাইফুলকে জানিয়েছে এই জমি নিজ দখলে রাখতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, না হলে জমির মায়া ছেড়ে দিতে হবে। এ কারণে সাইফুল ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে। সাইফুল আশঙ্কা করছে যে কোন সময় ওই  ভুমি দস্যুরা তার জমিটি দখল করে নিতে পারে। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরণের করে দিতে পারে। তিনি এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানায় জিডি করেছেন। তিনি এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে পুলিশের কাছে জমি নিয়ে প্রায় শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। জমা পড়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এর মধ্যে অন্যায়ভাবে দখল বা জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে এমন বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সওকত আলী টন বলেন,‘ জমিটি নিয়ে ঝামেলা আছে। আমাদের বিরুদ্ধে দখলের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা ঠিক নয়।’ কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন,‘ অনেকেই অভিযোগ নিয়ে আসছে। সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরো খবর...