কুষ্টিয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় আলোচিত আওয়ামীলীগ নেতা মোমিজ কারাগারে

সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের নামে ফেসবুকে আপত্তিকর তথ্য
অপর ৪ আসামীকে ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের নামসহ পাপিয়ার ডেরায় যাতায়াতকারী ২১ জনের একটি কথিত তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাসহ ৫ জনের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে কুমারখালী থানায় সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থক ও উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আজের আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক কুষ্টিয়া শহর আ’লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক  মোমিনুর রহমান মোমিজকে গ্রেফতার ও কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। বৃহষ্পতিবার ভোর রাত ৪টার দিকে শহরের নারকেলতলা এলাকাস্থ তার শ^শুড় মতিউর রহমান মতির বাড়ি থেকে  গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানা পুলিশ।

মামলার অন্য আসামীরা হলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিধারী রবি রহমান, শিমুল আহমেদ, শেখ নাঈম এবং সাপ্তাহিক ভোরের আলো নামক অনলাইন পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। এদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮র দ:বি: ২৪/২৫/২৯/৩১/৩৫ ধারায় অভিযোগ এনে মামলাটি করেন। মামলা নং ০২/৩৮, তারিখ: ০৫.০৩.২০২০।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ’র নাম সম্বলিত ওয়েষ্টিন কুইন পাপিয়ার ডেরায় যাতায়াতকারী ২১জনের একটি কথিত তালিকা প্রকাশ করে বলা হয়েছে “পাপিয়ার সাথে কুষ্টিয়া-৪ এর সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের সম্পর্ক কি ? র‌্যাবের কাছে পাপিয়া যার যার নাম বলেছে সেই লিস্টে সাংসদ জর্জ এর নাম ১৪ নম্বরে আছে। লিষ্টের সবাই পাপিয়ার কাছে যাতায়াত করতো”। মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মনগড়া ও বিভ্রান্তিমুলক তথ্য ছড়িয়ে কার্যত: তাকে সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্নসহ সম্মানহানি ঘটিয়েছে। সেই সাথে এমন ভিত্তিহীণ বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে তার প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টিসহ উস্কানীমুলক আইন শৃংখলার অবনতি ঘটানোর কারণ ঘটিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারখালী থানার পরিদর্শক আব্দুল আলীম জানান, মাননীয় সংসদ সদস্যের নামে কুৎসা রটনার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার ৫ জন আসামীর মধ্যে ৩নং আসামী মোমিজ রহমানকে গ্রেফতার করে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সৌপর্দ করা হয়। বৃহষ্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে আদালত শুনানী শেষে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় আইসিটি আইনের মামলায় মোমিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাংসদের নামে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে আইসিটি আইনে কুমারখালী থানায় মামলা হয়েছে।

মামলার বাদি জহুরুল ইসলাম বলেন, সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জকে নিয়ে মানহানিকর ও মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ও শেয়ার করার অপরাধে মামলা করেছি।

দলীয় সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা অবস্থায় মোমিনুর রহমান মোমিজের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠে। সেসময় পর্ণোগ্রাফি মামলাসহ নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে মোমিজ। তার কর্মকান্ডে দলের সুনাম চরমভাবে ক্ষুন্ন হতে থাকায় দল থেকে মোমিজকে বহিস্কার করা হয়। পর্ণোগ্রাফি মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর তাকে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ লাভ করে মোমিজ। সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাশের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রেরিত তালিকায় এই আলোচিত নেতা মোমিজকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

আরো খবর...