কুষ্টিয়ায় গেন্ডারী আখ চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চাষীরা

শরীফুল ইসলাম ॥ ‘সৃষ্টিকর্তার কুদরত লাঠির ভেতর শরবত’ এই লাঠিই এখন কৃষকসহ বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী বা আত্মনির্ভরশীল করে তুলেছে। যাকে বলা হয় গেন্ডারী আখ বা গ্রামে গেন্ডারী কুসর নামে বেশী পরিচিত। অর্থকরী ফসল হওয়ায় তামাক অধ্যুষিত কুষ্টিয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে সুগার মিল আখ চাষের পাশাপাশি গেন্ডারী আখ চাষের। নরম ও মিষ্টি রসের গেন্ডারী আখ খেতে সুস্বাদু হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের কাছেও এর চাহিদা বেশী। কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে মিল আখ চাষের পাশাপাশি ৩১৫ হেক্টর জমিতে গেন্ডারী আখের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে মিরপুর উপজেলায় অন্যান্য উপজেলা থেকে বেশী চাষ হয়েছে। গেন্ডারী আখ চাষে ক্ষতিকর দিক কম থাকায় এবং অর্থকরী ফসল হওয়ায় দিন দিন এ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনার এ দুঃসময়ে গেন্ডারী আখ চাষীরা খুচরা ও পাইকারীভাবে গেন্ডারী আখ বিক্রয় করে করোনা ক্রান্তিকাল পার করছেন। আর্থিকভাবে হয়েছেন অনেকে স্বাবলম্বী। আবার অনেক বেকার যুবক গেন্ডারী আখ চাষেও আগ্রহী হচ্ছেন। খুচরা বাজারে প্রতি পিস গেন্ডারী আখ বিক্রয় হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা করে। আবার কৃষকের জমি থেকে গেন্ডারী আখ সংগ্রহ করে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রয় করে করোনার এই দুঃসময়ে সংসার স্বচ্ছলতা ফিরিয়েছেন। দৌলতপুর উপজেলা বাজারের মহিদুল ইসলাম ইসলাম নামে এক খুচরা ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধরণের ফল বিক্রির পাশাপাশি গেন্ডারী আখও বিক্রয় থাকেন। গেন্ডারী আখ লাভজনক উল্লেখ করে তিনি খন্ড খন্ড গেন্ডারী আখ বিক্রিয় করে লাভবান হওয়ার জানিয়েছেন। করোনা পরবর্তী সময়ে কৃষিই আশ্রয়স্থ উল্লেখ করে কৃষকরা অর্থকরী ফসল গেন্ডারী আখ চাষে ঝুঁকেছে এবং প্রতি বিঘা জমি থেকে ৫ লক্ষ টাকার গেন্ডারী আখ বিক্রয় করে অনেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা জানিয়েছেন মিরপুর কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ।  মিল আখ চাষের পাশাপাশি গেন্ডারী আখ চাষ বৃদ্ধি পেলে কৃষকদের আর্থিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ক্ষতিকর তামাক চাষ হ্রাস পাবে। এমনটাই মনে করেন এ অঞ্চলের কৃষক ও কৃষি বিভাগ।

আরো খবর...