কুষ্টিয়ায় করোনায় একদিনে সর্বাধিক ১৬ জন আক্রান্ত

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে পুলিশ আজ থেকে আরও কঠোরভাবে কাজ শুরু করবে
একই পরিবারের ৮ জন পজেটিভ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ঈদের পর রোগী বৃদ্ধির হার বাড়ছে। গতকাল বুধবার নতুন করে আরও ১৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছে। ঈদে বাড়িতে আসা মানুষ ও ঈদের আগে হাটেবাজারে কেনাকাটায় ভিড়ের কারণে ভাইরাস জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

কুষ্টিয়ায় গতকাল বুধবার করোনা ভাইরাসে একদিনে সর্বাধিক ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯০ জন। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সব মহলের মানুষের মাঝে ভীতি শুরু হয়েছে। দেশে করোনা প্রার্দুভাব শুরু হলে অন্যান্য জেলায় আক্রান্ত ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া গেলেও কুষ্টিয়ার জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপতরায় এ জেলা ছিল করোনামুক্ত। করোনা রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া জেলায় প্রবেশের সকল সড়কে বসানো হয় চেক পোষ্ট।  নিয়মিত তদারকীতে  আক্রান্ত প্রবন জেলা হিসেবে খ্যাত রাজধানী ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর থেকে আগতদের জেলায় প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সরকারী নির্দেশনা মেনে সাধারন ছুটিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নিরাপদ জেলা হয়ে ওঠে কুষ্টিয়া। আর এ কারণে অনেকেই প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে কুষ্টিয়াতে প্রবেশ করতে থাকে। ফরে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা। এক এক করে গতকাল বুধবার পর্যন্ত জেলায় ৯০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

গতকাল ৩ জুন রাতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এক বার্তায় জানানো হয়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৩ জুন বুধবার মোট ১৭৬টি স্যাম্পল পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ৮৬, চুয়াডাঙ্গা ৫২ ও মেহেরপুরের ৩৮ টি। কুষ্টিয়ার ৮৬টি স্যাম্পলের মধ্যে ১৬ জন নতুন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে।

নতুন ১৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ১১ জন, ভেড়ামারা উপজেলায় ৪ জন ও  দৌলতপুর উপজেলায় ১ জন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আক্রান্ত ১১ জনের মধ্যে ৮ জনের ঠিকানা উজানগ্রামের বরইটুপি, ১জন শহরের মোল্লাতেঘরিয়া, ১জন হরিপুর ও ১জন কোর্টপাড়ার। ভেড়ামারা উপজেলায় আক্রান্ত ২ জনের ঠিকানা বারোদাগ ও ১ জনের ঠিকানা ষোলদাগ। দৌলতপুর উপজেলায় আক্রান্ত ১ জনের ঠিকানা প্রাগপুরের মহিশকুন্ডি গ্রামে।

সদর উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, বরুইটুপি গ্রামের এক ব্যক্তি কয়েকদিন আগে নারায়নগঞ্জ থেকে বাড়িতে আসে। তিনি পজিটিভ ছিলেন। এরপর আজ (বুধবার) তার থেকে পরিবারের আরও আটজন পজিটিভ হয়েছে। তাদের বাড়িসহ আশেপাশের আরও কয়েকটি বাড়ি লকড্উান করে দেওয়া হয়েছে।

ভেড়ামারা উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও সোহেল মারুফ বলেন, ভেড়ামারায় যে চারজন শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের। ওই পরিবারের এক ব্যক্তি ঈদের ঢাকায় নমুনা দিয়ে বাড়ি আসে। এবং ঈশ্বরদীতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জানতে পারেন তিনি পজিটিভ। তার বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল। আজ ওই ব্যক্তির দুলাভাই বোন ও ভাগ্নে পজিটিভ পাওয়া যায়।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন জানান, ঘরের বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। অতি-প্রয়োজনীয় না হলে বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন আরো জানান, সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। অনুগ্রহ করে সতর্ক থাকুন, সাবধানে থাকুন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়ায় জেলায় আজকেই এযাবৎ একদিনে সবোর্চ্চ  ১৬ জন রোগী শনাক্ত হল। এবং ঈদের পর থেকে জেলায় প্রতিদিনই পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯০ জন। কুষ্টিয়া জেলায় মোট ৯০ জনের মধ্যে, দৌলতপুর উপজেলায় ২২ জন, ভেড়ামারা ১৫, মিরপুর ১০, কুষ্টিয়া সদরে ২২, কুমারখালি ১৬ ও খোকসা উপজেলায় ৫ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। মোট ৯০ জন করোনা রোগীর মধ্যে পুরুষ রোগী ৬৮ ও নারী রোগী ২২ জন। এছাড়া সুস্থ্য হয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ২৯ জন।  হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬২ জন। সিভিল সার্জন বলেন- তবে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় এবং বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ তাপস কুমার সরকার জানান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে সুস্থ্য হয়েছেন ৬ জন। বর্তমানে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ১ জন চিকিৎসাধিন রয়েছে।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, আক্রান্ত প্রত্যেকের বাড়িসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে পুলিশ সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে আরও কঠোরভাবে কাজ শুরু করবে।

আরো খবর...