কুষ্টিয়ায় এক শিশু ধর্ষন মামলা নিয়ে ছেলে খেলা ?

বিষয়টি জেলা ও দায়রা জজের নজরে

হাসান আলী ॥ প্রতিনিয়ত দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষনের ঘটনা সংক্রামকের ন্যায় গ্রাস করে চলেছে। বেপরোয়া এই সংক্রামক রুখতে একের পর এক নানা কঠোরতার বিধান রেখে আইনও প্রনীত হয়েছে। এমনকি এই আইনের প্রয়োগে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আদালত পর্যন্ত আলাদা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তবুও যেন লাগামহীন এই সংক্রামক ব্যাধীর কীটগুলির বেপরোয়াপনা থামছে না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে শাস্তিদন্ডের মধ্যদিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস অব্যহত। কিন্ত এতো কিছুর পরও ধর্ষনের মতো পাষন্ডীয় অপরাধ করেও এই আইনের হাত থেকে রেহায় পেতে সমাজের তৃণমূল থেকে শুরু করে বিচারিক প্রক্রিয়ার পূর্ব পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা নানা অপপ্রায়াসে লিপ্ত আছেন। ফলে প্রতিনিয়ত দেশে যে পরিমান ধর্ষনের ঘটনা ঘটে তার এক চতুর্থাংশই থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ধর্ষন ঘটনাস্থলের স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও জনপ্রতিনিধি, কিছু কিছু সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী অথবা আইনজীবীদের সম্পৃক্ততায় কানের বিষ কানে মারার পরামর্শ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে থাকে। এযেন গনিমতের মাল, পুরুষ মানুষ নারী বা শিশুকে ধর্ষন করেছে ? যাও বিষয়টি চেপে যাও। তাদের কথা মতো কাজ না হলেই কখনওবা ধর্ষিতাকে পতিতা, কলগার্ল অথবা দুশ্চরিত্রার অপবাদ, আবার কখনও ধর্ষকের বিবাহিত স্ত্রী কিংবা অবৈধ সম্পর্ক চর্চার অপবাদ। এভাবে সমাজের প্রভাবশালীদের অব্যহত নানমুখি চাপের মুখে ধর্ষিতা নারী, শিশু ও ভুক্তভোগী পরিবার শেষাবধি দৃষ্টান্তমূলক ন্যায় বিচার প্রার্থনার হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

কেস ষ্টাডি ঃ চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারী রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওদা গোবিন্দপুর গ্রামে তালবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রী (১৩) কে পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে মামাতো ভাই দুই সন্তানের জনক জসিম (৩৫) ধর্ষন করে এবং বিষয়টি কাউকে না বলতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনার ৫ সপ্তাহ পর বিষয়টি পিতা-মাতার দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তারা কণ্যার কাছে বিষদ বিবরন শুনে গত ১২ জুন ডাক্তারি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন তাদের কন্যা অন্ত:সত্ত্বা। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা পরিবহন চালক ধর্ষণের অভিযোগে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত ধর্ষক জসিম সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনাবেদন করলে আদালত শুনানী শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। ভুক্তভোগী শিশু ছাত্রীর ২২ধারায় জবানবন্দীতেও ঘটনার সত্যতা উঠে এসেছে। মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এই ধর্ষক জসিমকে আইনের হাত থেকে রক্ষার নানা অপকৌশল। এ মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, এজাহারকারী তার লিখিত অভিযোগে কন্যার বয়স দেখিয়েছেন ১৩ বছর এবং সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী। ২২ সপ্তাহের অন্ত:সত্ত্বা। আসামী জসিমের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। মাত্র কয়েকদিন পেরুতে না পেরুতেই হঠাৎ এজাহারকারীর সমর্থনে আসামী জসিমের পক্ষে জামিনাবেদনের সাথে একটি হলফনামা আদালতে উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী। সেখানে ওই ছাত্রীর বয়স দেখানো হয়েছে ১৬ বছরের উর্দ্ধে এবং ধর্ষক জসিমের সাথে ওই ছাত্রীর ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর বৈবাহিক সম্পর্কের কাবিননামা দাখিল করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবী। বিষয়টি কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামীর নজরে আসায় এই গরমিল তথ্যের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাকে। বিজ্ঞ আদালত এমন গরমিল তথ্য উপস্থাপনের প্রকৃত কারণ জানতে চেয়েছেন। আদালত মনে করছেন সত্য তো একটাই হবে। এজাহারে উল্লেখিত তথ্য সঠিক হলে ভুয়া হলফনামার দায়ে হলফকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হতে পারে। নতুবা ভুয়া এজাহারের দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন এজাহারকারী নিজেই। আদালত মনে করছেন ওই শিশু ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছে তার সন্দেহাতীত প্রমান থাকার পরও আদালতকে বিভ্রান্তের চেষ্টা দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন ভুয়া কাবিননামা অথবা বাল্যবিবাহের কাবিননামা প্রস্তুতকারী কাজীসহ সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা প্রকৃত ঘটনা চিত্র কি বলে।

আরো খবর...