কুষ্টিয়ার হা-রা বাহিনীর বর্তমান প্রধান রঞ্জু অস্ত্র ও গুলিসহ র‌্যাবের হাতে আটক

নিজ সংবাদ ॥ পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত এক সময়ের কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী হামিদুল-রাশিদুল (হা-রা) বাহিনীর বর্তমান প্রধান রঞ্জু শেখ (৩২) কে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-১২’র একটি অভিযানিক দল শহরের বড় রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১২ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সে শহরের মিলপাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে কুখ্যাত সন্ত্রাসী রঞ্জু শেখ শহরের পুরাতন বড় বাজার এলাকায় অবস্থান করছে। এ সময় ঐ স্থানে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব তাকে আটক করে দেহ তল্লাশী করে তার কাছ থেকে ১টি রিভালবার ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, ‘রঞ্জু’ বন্দুকযুদ্ধে নিহত কুষ্টিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী হামিদুল ও রাশিদুলের ভাগ্নে। ২০০৯ সালে পুলিশের সাথে রাশিদুল নিহত হলে হামিদুল গা ঢাকা দেয়। এরপর হামিদুল পুলিশের হাতে ধরা পড়লে দীর্ঘদিন জেল খাটার পরে আবারো বের হয়ে শুরু করেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এ সময় তার সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পালন করে তার ভাগ্নে ‘রঞ্জু’। ২০১৪ সালে তার নেতৃত্বে ১০নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম অফিসে বোমা হামলা ও পূর্ব মিলপাড়া জামে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালায় তার বাহিনীর ক্যাডারা। সে সময় তাদের গ্রেফতারের দাবিতে মহাসমাবেশ করে স্থানীয়রা। সুত্র জানিয়েছে, হামিদুলের অস্ত্রের ভান্ডার নিয়ন্ত্রন করতো তারই কাছের বন্ধু বাচ্চু। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে হামিদুল র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। বন্দুকযুদ্ধে হামিদুল বাহিনী প্রধান হামিদুল নিহত হওয়ার পর সবাই এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেই ‘রঞ্জু’। পুনরায় বাহিনী সংগঠিত করে কার্যক্রম চালাতে থাকে। এ সময় তার সহযোগি হিসেবে এলাকা নিয়ন্ত্রন করতো ভাটাপাড়া এলাকার জনি,তারা ও মুক্তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় নেতাদের হাত ধরে ‘রঞ্জু’ রাজনৈতিক শেল্টারে বেপরোয়া হয়ে উঠে। তাদের মদদ ও আর্থিক সহায়তায় চলতে থাকে চর মিলপাড়া, ইটভাটা এলাকায় তার নিয়ন্ত্রন। হামিদুলের অবৈধ অস্ত্রের ভান্ডার তার হাতে। একটি অস্ত্র নিয়ে ধরা পড়লেও রয়েছে আরো। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়ে স্থানীয়রা। ২০১৫ সালে  স্থানীয় এক গৃহবধু ‘রঞ্জু’ বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে তার উপর হামলা করে। তারা জানান, রঞ্জু’ নামে কুষ্টিয়া মডেল থানায় দুইটি মামলাসহ অসংখ্য জিডি রয়েছে। খুন, ডাকাতি ও মাদকের মামলা থাকলেও স্বাক্ষী প্রমানের অভাবে মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায়।

আরো খবর...