কুষ্টিয়ার পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালে গৃহবধুর মৃত্যুর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি

অভিযোগের তীর নিহতের স্বামী, দালাল ও ক্লিনিক মালিকের দিকে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় ভূল অপারেশনে নিহত গৃহবধু ফাতেমা খাতুন  রেশমার নিহতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার পরিবার। রেশমার মা রঙ্গিলা খাতুন দেশের বাইরে অবস্থান করায় সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয়েছে জানিয়ে ইতিমধ্যে মডেল থানা পুলিশের সাথে মামলার বিষয়ে কথা বলেছে। নিহতের মা রঙ্গিলা খাতুনের অভিযোগ, ফাতেমা খাতুন  রেশমা ও আব্দুর রশিদ একে অপরকে ভালবাসতো, দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে ফাতেমা খাতুন  রেশমার শাশুড়ি যৌতুকের জন্য শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। আব্দুর রশিদের সাথে ফাতেমার বিয়ের আগে আমরা কেউ বুঝতে পারিনি আব্দুর রশিদ মাদকাসক্ত। বুঝতে পারার পরেও মেয়ের সংসার আর সুখের কথা চিন্তা করে সব নির্যাতন সহ্য করে গেছি। আমি পরিবার  ছেড়ে বিদেশে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেছি শুধুমাত্র আমার এই মেয়ে আর একটা ছেলের সুখের কথা চিন্তা করে। নিজের রক্ত পানি করে উপার্জন করা টাকা প্রত্যেক মাসে পাঠিয়েছি ওদের সুখের কথা চিন্তা করে। কিন্তু ওদের চাহিদার কাছে আমার সাধ্যের সবটুকু  দেওয়ার পরেও ওদের মন ভরাতে পারলাম না। আমার মেয়েটাকে  মেরে ফেললো। ফাতেমার মায়ের অভিযোগ আব্দুর রশিদ নেশায় আসক্ত। আমি বিদেশ থেকে যে টাকা ওদের কাছে পাঠাতাম তা সবটাই  নেশা করে শেষ করে দিতো। এমনও মাস গেছে মাসে দুই থেকে তিনবার টাকা পাঠিয়েছি, তারপরেও ওরা আমার মেয়েটাকে মেরে  ফেললো। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। অভিযোগ উঠেছে, ফাতেমার স্বামী আব্দুর রশিদ তার মা তহুরা খাতুন, তার নিকট আত্বীয় নগর সাঁওতা গ্রামের মোঃ আলালের ছেলে মোঃ জালাল, পরিকল্পিতভাবে কুষ্টিয়া শহরের পেয়ারাতলা এলাকার পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক দিলওয়ার হাসানের সাথে যোগসাজেশে ওই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ফাতেমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। ঘটনার পর  থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। শুধু তাই নয় ঐদিন পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালে কোন ডাক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করেছিলো, ফাতেমার ডায়াগনষ্টিক পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র সবকিছু সরিয়ে  ফেলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ঠান্ডা মাথায় ফাতেমাকে হত্যা করা হয়েছে, যে হত্যার নীল নকশা আগে থেকেই করেছিলো ফাতেমার স্বামীসহ তার সহযোগিরা। শুধু তাই নয় ফাতেমাকে রাজশাহী নেওয়া হয়েছিলো হত্যার নাটকটা পরিপূর্ণ করার জন্য যাতে কোন সন্দেহ না থাকে। ফাতেমা মারা গেলে তার লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের জন্য  তোড়জোড় শুরু করে ফাতেমার স্বামী আব্দুর রশিদ এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই ফাতেমার লাশ তারা দাফন সম্পন্ন করে। ফাতেমার মা সৌদি আরব থেকে বার বার লাশ ময়নাতদন্তের কথা বললেও আব্দুর রশিদ ও তার সহযোগিরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করে। চলতি মাসের ৯ মার্চ এই ঘটনার পর ফাতেমার মা রঙ্গিলা খাতুন ১২ মার্চ দেশে আসেন।  দেশে আসার পর তিনি মামলার প্রস্তুতি নেন বলে জানান।

আরো খবর...