কুষ্টিয়ার অবৈধ অর্ধশতাধিক নসিমন-করিমন তৈরির কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিল পুলিশ

নিজ সংবাদ ॥ আল্টিমেটাম দেয়ার এক মাস পর কুষ্টিয়া জেলার অর্ধশতাধিক নসিমন-করিমন কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ। এর মধ্যে ভাদালিয়া এলাকায় আব্দুর রশিদের সব থেকে বড় কারখানাও রয়েছে। শুধু কারখানা নয় যন্ত্রাংশ তৈরিসহ যেসব ওয়ার্কশপে নষ্ট নসিমন-করিমন মেরামত করা হয় সেগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক মাস আগে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত মালিকদের ডেকে এক আল্টিমেটাম দেন।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর বলেন,‘ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে জেলার সব অবৈধ যান নসিমন-করিমনসহ সব কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কোন কারখানায় এখন থেকে আর অবৈধ যান তৈরি করা চলবে না। এসব যান সড়কে না চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

পুলিশ ও নসিমন করিমন মালিকদের হিসেবে মতে জেলায় অর্ধশতাধিকেরও বেশি অবৈধ নসিমন-করিমন তৈরির কারখানা আছে। গক কয়েক যুগ ধরে এসব কারখানায় অবৈধ ফিনটেস বিহীন যানবাহন তৈরি করছিল মালিকরা।

কুষ্টিয়ায় তৈরিকৃত এসব যাববাহন সারা দেশে বাজারজাত করে আসছিল কারখানার মালিকরা। অবৈধ যানবাহন তৈরি করে অনেকেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

এর আগে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিলেও রাজনীতিবিদ ও অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের কারনে কারখানা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতি মাসে কারখানা মালিকরা বিভিন্ন দপ্তরকে অবৈধ অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে আসছিল।

এদিকে অবৈধ যানবাহন তৈরির কারখানা বন্ধের জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। তিনি সবাইকে এক মাস আগে ডেকে সতর্ক করে দেন। কারাখানা সরিয়ে সেখানে অন্য কোন বৈধ ব্যবসা করার অনুরোধ করেন। নির্দেশ অমান্য করলে জেল-জরিমানার ঘোষনা দেন। কিছু রাজনীতিবিদ অবৈধ যানবাহন চলাচলের জন্য তদবির করলেও তিনি বন্ধের বিষয়ে তার কঠোর অবস্থান ধরে রাখেন।  শেষ পর্যন্ত গতকাল রবিবার সারা দিনে জেলার সব কারখানা একে একে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

কুষ্টিয়া মডেল থানা, ইবি থানাসহ আশেপাশের ক্যাম্পগুলোর সদস্যরা ফ্যাক্টারিতে গিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। আল্টিমেটাম দেয়ার পরও কয়েকটি কারখানায় কাজ চলছিল।

এদিকে নসিমন করিমন কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যাত্রী কল্যান সমিতি, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও বাস মিনিবাস মালিক সমিতিরি নেতারাসহ বিভিন্ন মহল।

বাস মিনিবাস মালিক গ্র“পের কার্যকরি সভাপতি আতাহার আলী বলেন,‘ এক যুগ ধরে আমরা কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছি। এর আগে কেউ এমন উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান পুলিশ সুপার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। এসব কারখানা বন্ধ করা অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। সেটা তিনি পেরেছেন।’

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম টুকু বলেন,‘ নিরাপদ সড়ক সবার প্রত্যাশা। কুষ্টিয়ায় সড়কে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী এসব অবৈধ যানবাহন। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে সড়কে এসব গাড়ি কমে যাবে। চালকরা অন্য কোন পেশা বেছে নিবে।’

জেলার সব থেকে বড় কারখানাটি ছিল সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকায়। তার মালিক ছিলেন আব্দুর রশিদ। তিনি এ কারখানা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তার দেখাদেখি একই এলাকা আরও ৩০টির বেশি কারখানা গড়ে উঠেছিল। কারখানা বন্ধের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অবৈধ যানবাহন তৈরির যে কাজ চলছিল তার ইতি ঘটলো। ফেব্র“য়ারি মাসের ১ তারিখে আল্টিমেটাম দেন পুলিশ সুপার।

আরো খবর...