কুমারখালীর শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে দ্রুতগতিতে

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাথে গড়াই নদীর অপর পাড়ের ৫টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষের প্রাণের দাবি ছিলো কুমারখালীর সাথে গড়াই নদীর অপর প্রান্ত যদুবয়রার সাথে সংযোগ শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু নির্মাণ। বিগত সময়ে অনেক আশ্বাস আর প্রতিশ্র“তি মিললেও সেতু নির্মানের উদ্যোগ কেউ নেইনি। ফলে এই পাঁচটি ইউনিয়নের দেড় লাখ মানুষের উপজেলা সদরের সাথে  যোগাযোগ করতে হতো প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার ঘুরে। ব্যবসা বাণিজ্য, জরুরী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নেওয়া, ফায়ার সার্ভিস সেবা  থেকে বঞ্চিত ছিলো এই অঞ্চলের মানুষ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কুষ্টিয়া-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ’র অগ্রণী ভূমিকার কারণে নির্মান কাজ শুরু হয়েছে শহীদ  গোলাম কিবরিয়া সেতু নির্মাণ কাজ। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ৬৫০ মিটার সেতু এবং সেতুর উভয়পাশে ৮০০ মিটার এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মানে ব্যয় ধরা হয় ৮৯ কোটি ৯১ হাজার ৩৫ হাজার ৫৩১ টাকা। যার কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর। তবে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে দ্রুত গতিতে নির্মাণ কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতু এলাকায় চলছে দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করার কর্মযজ্ঞ।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নেশনটেক কমিউনিকেশন লিমিটেড ও রানা বিল্ডার্স  যৌথভাবে বর্তমানে দিন-রাত দুই শিফটে সেতুটির নির্মাণ কাজ করছে  বেশ  জোরেসোরেই। গত বছর ১৭ এপ্রিল কাজের ওয়ার্ক অর্ডার পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই ১০টি পাইলিংয়ের কাজও সমাপ্ত করেছে। আগামী ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর সেতুটির নির্মাণ কাজ সমাপ্তির কথা রয়েছে। এদিকে সেতুর নাম সাবেক সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের ঘনিষ্ঠ সহচর, “শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু“ করার দাবী উঠে আসছে শুরু থেকেই। আপামর জনগন এই নামকরণ যথাযথ সঠিক হয়েছে বলে মনে করেন।  গড়াই নদীর উপর এই সেতুটি নির্মাণ হলে কুমারখালী উপজেলার সাথে নদীর অপর পাড়ের ৫ টি ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের পাশাপাশি ঝিনাইদহ, মাগুরার দূরত্ব অনেকাংশে লাঘব হবে। কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুন বলেন, অনেক রাজনৈতিক নেতা ভোট নেওয়ার জন্য অনেকবার এই সেতু নিয়ে মানুষের সাথে মসকরা করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসায় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন তার অন্যতম দৃষ্টান্ত গড়াই নদীর উপর এই সেতু নির্মান। সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ছিলো সেটি আজ দৃশ্যমান হচ্ছে। এই নির্মানের ফলে এই এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।

যার প্রচেষ্টায় শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু নির্মান কাজ শুরু কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ জানান, এই  সেতুটি নির্মাণ আমার নির্বাচনী অঙ্গিকার ছিলো। আমি সংসদ সদস্য হওয়ার নয় মাসের মাথায় সেতুটির কাজ শুরু করতে পেরেছি। এর আগেও এই সেতু নির্মান নিয়ে অনেক মিথ্যা আশ্বাস পেয়েছে এলাকাবাসী, আমরা মিথ্যা আশ্বাস নয় আমার এলাকার মানুষকে দেওয়া কথা রেখেছি। সেতুর নির্মান কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করা যায় খুব দ্রুত সময়ে কাজ শেষ হবে বলেও তিনি আশা করেন।

সেতু নির্মান প্রকল্প এলাকায় দায়িত্ব পালন করা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুটির নির্মান কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। নকশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কাজের মান যথেষ্ট ভালো, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানও খুব আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।

সেতুর নির্মাণ কাজ দেখাভালের দায়িত্বে থাকা প্রজেক্ট ম্যানেজার আশিক আলী জানান, সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই সেতুটি হস্তান্তর করতে চাই।

সেতুর নির্মান কাজ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মান নেশনটেক কমিউনিকেশনস লিমিটেডের অডিটর সোহেল পারভেজ জানান, সেতুর কাজ খুব দ্রুত সময়ে কাজ শেষ হবে। আমরা নেশনটেক কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি খুব স্বল্প সময়ে আমরা কোয়ালিটি সম্পন্ন কাজ শেষ করে সেতুটি হস্তান্তর করতে পারবো।

নেশনটেক কমিউনিকেশনস লিমিটেডের এমডি এফতেখার ইসলাম আলামিন শিমুল জানান, কুষ্টিয়া জেলাতে আমাদের বেশকিছু প্রকল্প চলমান। কাজের গুনগতমান নিয়ে আমরা কোন আপোষ করিনা। সারাদেশে আমরা কাজ করি কিন্তু কুষ্টিয়ার প্রতি আমার আলাদা একটা আবেগ কাজ করে। আমি আমার সকল স্টাফদের নির্দেশনা দিয়ে  রেখেছি কুষ্টিয়া জেলায় যত রকম কাজ আমরা করবো কোন কাজে কেউ যাতে কোন প্রকার বিরুপ মন্তব্য বা সমালোচনা না করতে পারে। আল্লাহর রহমতে আমরা খুব ভালো ভাবে সকল কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, গড়াই নদীর উপর নির্মিত সেতুর কাজটিও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে আমরা আশা করি নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা সেতুটি হস্তান্তর করতে পারবো।

উল্লেখ্য, পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ  সেতু বাস্তবায়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯০  কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নেশনটেক কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও রানা বিল্ডার্স লিমিটেড নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ কাজের দায়িত্ব  পেয়েছে।

আরো খবর...