কুমারখালীর চাচা হত্যা মামলায় ভাতিজার মৃত্যুদন্ড

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়
তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার আলোচিত হোগলা মহেন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওই শিক্ষকের আপন ভাতিজা মুন্সী মোহাম্মদ সোহাগকে মৃত্যুদন্ড ও ৩ জনের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাসহ যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার সময় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী আসামীদের উপস্থিতিতে এক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী হলেন-কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার কোমরকান্দি গ্রামের মৃত মুন্সী রেজাউল করিমের ছেলে মুন্সী মোহাম্মদ সোহাগ এবং যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- একই থানার দয়রামপুর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে রাজু আহম্মেদ, কোমরকান্দি এলাকার ইয়াকুবের ছেলে রুবেল ও দূর্গাপুর এলাকার হাতেম শেখের ছেলে আজাদ।

আদালত ও মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার কোমরকান্দি গ্রামের মৃত মুন্সী রেজাউল করিমের ছেলে মুন্সী মোহাম্মদ  সোহাগের সাথে তার আপন চাচা উপজেলার হোগলা মহেন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলামের বিদেশে লোক পাঠানোর নামে পাওনা টাকা ও ইটভাটা দেখাশোনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ইটভাটার দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসামীরা। চাচা রবিউলকে হত্যা করার জন্য হত্যাকারীদের অস্ত্র কিনতে টাকাও দেয় মুন্সী সোহাগ। ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারী দিনগত রাত ১টায় দয়রামপুর এম এম আর ব্রিকস ইটভাটা দেখাশোনা করে বাড়ী ফিরছিল ভিকটিম হোগলা মহেন্দ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলাম। বাড়ীতে তার ব্যবহৃত মটর সাইকেল উঠানোর সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা মুন্সী মোহাম্মদ সোহাগের নির্দেশে এসে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে রবিউলের মাথায় ঠেকিয়ে একটি গুলি ও ডান পাঁজরে একটি গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে মুন্সী রবিউল ইসলামকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এঘটনায় নিহত প্রধান শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলামের মা হাওয়া খাতুন বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার মামলা নং-১০, তারিখ-২৫-০১-২০১৫ইং। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারখালী থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) এস এম আরিফুর রহমান ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল চারজনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে সেশন ১৭২/২০১৭ নং-মামলায় নথিভূক্ত হয়ে বিচার কাজ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী জানান, রাষ্ট্রপক্ষের একাধিক স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে শিক্ষক রবিউল ইসলাম হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীদের হত্যায় ব্যবহার করা অস্ত্র কিনে দেয়া ওই শিক্ষকের আপন ভাজিতা মুন্সী মো. সোহাগের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সবোর্চ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আদেশ ও তিনজনকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা সহ যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাড. সুধীর কুমার শর্মা ও এ্যাড.খন্দকার আবু শাহী মোঃ ইলিয়াস।

আরো খবর...