কুমারখালীতে পোল্ট্রি খামারিদের ব্যবসা ভয়াবহ বিপর্যয় মুখে

প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ব্রয়লার-সোনালী মুরগীর বিকল্প নেই

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমন আতঙ্কে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাল্ট্রি খামারি ও ডিলারদের ব্যবসা। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে হাট-বাজারে না যাওয়ার ঘোষনার কারণে বাজারে মানুষের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যাচ্ছে। জরুরী প্রয়োজনে অনেকেই বাজারে আসলেও প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী কিনে নিয়েই চলে যাচ্ছেন। কিন্তু কেউই যেন মুখ ফিরে তাকাচ্ছেন না জীবন্ত মুরগীর দোকানের দিকে। তাই ব্যাপক হারে কমেছে জীবন্ত মুরগী বেচাকেনা। গতকাল সরেজমিনে কুমারখালী পৌর বাজারে গিয়ে দেখাযায়, জীবন্ত মুরগী বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে নেই কোন মানুষের আনাগোনা। ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে রেখেছে ঠিকই কিন্তু ক্রেতা নেই। এ সময় জীবন্ত মুরগী বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন জানান, আগে প্রতিদিন ৪০/৫০ হাজার টাকা বেচাকেনা করতাম। কিন্তু গত কয়েকদিন যাবৎ ১০ হাজার টাকাও বেচাকেনা হচ্ছেনা। জীবন্ত মুরগীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিনই খাবার দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। দুর্গাপুর এলাকার পোল্ট্রি খামারী (ব্রয়লার) শাওন জানান, ব্রয়লার মুরগী নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। বাজারের লোকজনের আনাগোনা নেই। তাই জীবন্ত মুরগীর বেচাকেনাও কম। আবার এক শ্রেণীর মানুষ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী খেতে চাচ্ছেন না। তাই আমরা কুমারখালী উপজেলার সকল খামারীরা চরম বিপর্যয়ের মুখে আছি। মুরগীগুলো সব বিক্রি করার উপযোগী হয়ে গেছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। পাইকারি কিংবা খুচরা বিক্রেতাদের কেউই নিতে চাচ্ছেন না। তাহলে আর কতোদিন খাওয়ার দিয়ে এগুলোকে বাঁচিয়ে রাখবো। আর কবেই বা বিক্রি করতে পারবো এবং পূঁজি ফেরত পাবো, জানিনা। তবে এই খামারি মানুষ যেন ব্রয়লার এবং সোনালী মুরগী খেতে আগ্রহী হয় সে জন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন। তিনি বলেন, যদি প্রশাসন শহর ও গ্রামাঞ্চলের মাইকিং করার অনুমতি দিতেন তাহলে হয়তো আমরা কিছুটা হলেও উপকৃত হতাম। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা পোল্ট্রি ফিড ডিলার সমিতির উদ্যোগে জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জেলার কোথাও কোথাও মাইকিং করা হয়েছে কিন্তু কুমারখালীতে এখনো পর্যন্ত মাইকিং করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন বলেন, মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয়  প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য নিয়মিত মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও ভিটামিন সি খাওয়ার প্রয়োজন। আর প্রোটিনের ঘাটতি পূরণের জন্য ব্রয়লার, সোনালী মুরগী ও ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই।  অন্যদিকে, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণের অন্যতম উপাদান হচ্ছে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী (পোল্ট্রি)। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ভয়ে বর্তমানে অনেকেই ব্রয়লার ও সোনালী মুরগী খেতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে এই পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িতরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। পোল্ট্রি শিল্পকে বাঁচাতে ও কম দামে মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য ব্রয়লার ও সোনালী মুরগীর বিকল্প নেই।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশন নামক একটি সংস্থা কুমারখালীতে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বাজারজাত করণে খামারীদের প্রশিক্ষণসহ খামার পরিচালনায় নানাধরণের সহযোগীতা দিয়ে আসছেন। এ ছাড়াও সংস্থাটি স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের সচেতন মানুষকে নিয়ে ভোক্তা কমিটি গঠন করে নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বাজারজাত করণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরো খবর...