কুমারখালীতে পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় দুর্ভোগে মানুষ ও পশু

ত্রাণ সহায়তার আশ্বাস প্রশাসনের
বিস্তীর্ণ জমির ফসল বিনষ্ট

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ অসময়ে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের প্রায় দুই’শ পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। সেই সাথে খোলা আকাশের নীচে খাদ্য সংকটে রয়েছে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু। ওই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমির নানা-ধরণের ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে এবং তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান জগন্নাথপুর ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী এলাকা নৌকায় ঘুরে দেখেছেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে ইউএনও রাজীবুল ইসলাম খান ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।

বন্যা কবলিত এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অসময়ের এই বন্যায় উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর মহেন্দ্রপুর, চর জগন্নাথপুর, চরভবানীপুর ও চর দয়ারামপুর এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। চরাঞ্চালের কোথাও উঁচু জায়গা না থাকায় গৃহপালিত পশুগুলোর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকার উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খোলা আকাশের নীচে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে গরু-মহিষ ও ছাগল-ভেড়াগুলোকে। ফসলী জমি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় পশু খাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান জানান, অসময়ে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের পদ্মা তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। আর ওই এলাকায় নানা ধরণের ফসলসহ জমি পানির নীচে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে, কয়া ইউনিয়নের কালোয়া, বেড় কালোয়া, সুলতানপুর ও শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি ও কল্যাণপুর এলাকার মানুষ ভাঙ্গন আতঙ্কে রয়েছেন। গত বুধবার কয়া ইউনিয়নের কালোয়া গ্রামে একটি বসত ঘর সহ গ্রামরক্ষা বাঁধের আরসিসি ব¬ক ধসে নদীতে চলে গিয়েছে। বাঁধ ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অনেকেই ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ধসে যাওয়া স্থানে আরসিসি ব¬ক ও বালির বস্তা ফেলানো শুরু হয়েছে।

আরো খবর...