কুমারখালীতে নিয়ন্ত্রণহীন আড্ডাবাজ মানুষ ও অবৈধ যানবাহন

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্বেও

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রোমন ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক মাঠে ব্যাপক সক্রিয় রয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। তা সত্বেও এক শ্রেণীর আড্ডাবাজ মানুষ ও অবৈধ যানবাহন রয়েছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রায় প্রতিদিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার (ভূমি), সেনা সদস্য ও পুলিশ নিয়ে পৌর এলাকাসহ গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে নিয়মি অভিযান পরিচালনা করছেন। সেই সাথে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চলাচ্ছেন। তবুও শহরের কিছু কিছু এলাকা ও গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ বাজারের চায়ের দোকান খেলার মাঠ ও বাগানে চলছে জমজমাট আড্ডা। এসব আড্ডায় শিশু থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষকে দেখা যাচ্ছে। কেউই যেন করোনার ভয়বহতাকে তোয়াক্কা করছেন না। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির কারণে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাড়া মহল্লার তথাকথিত নেতা ও মিয়া ভাইদের সাথে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, মসজিদ থেকেও করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও সরকারি নির্দেশনা নিয়ে তেমন গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে না। আর সে কারণে এখনো পর্যন্ত মসজিদে আগতদের সংখ্যা কমেনি। বরং বেড়েছে। তবে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার অংশ হিসাবে সামাজিক দুরত্ব ও হোমকোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর কঠোর হওয়ার ঘোষনা দেওয়ার পরেও কোন পরিবর্তন নেই। খুব ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মানুষ সমবেত হওয়া সহ এক সঙ্গে চলাফেরা করছে। সেই সাথে গ্রামাঞ্চলের রাস্তায় ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলাচল করছে বালি ও মাটিবাহী অবৈধ যানবাহন। স্থানীয় প্রশাসন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং জরিমানা আদায় করলেও অবৈধ এই যানবাহনের চলাচল বন্ধ হচ্ছেনা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো মহাসমারোহে চলছে ইটভাটা। নতুন ইট তৈরী ও ইট পোড়ানোর কার্যক্রম চলছে সেই আগের মতোই। করোনা ভাইরাসের কোন প্রভাবই পড়েনি ইটভাটাগুলোতে। এ ছাড়াও কিছু কিছু ইটভাটার শ্রমিক ও শ্রমিক সরদারেরা ইট তৈরী বন্ধ এবং ছুটি নিতে চাইলেও ভাটা মলিকেরা নানা ধরণের হুমকী দিয়ে তাদেরকে কাজ করতে বাধ্য করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আকুল উদ্দিন বলেন, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। কেননা এই প্রাণঘাতি ভাইরাসের সংক্রমণ চরম  ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রতিটি পরিবারের অভিভাবক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষকেই সচেতন-সতর্ক হতে হবে এবং নিরাপদ থাকতে হলে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে।

 

 

আরো খবর...