কুমারখালীতে টাকা দিলেই মাদক মেলে অবস্থা, শঙ্কায় অভিভাবকেরা

নানা কৌশলে সেবনকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা সহ ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে গেলেও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মাদকের কারবার। উপজেলার পৌর এলাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ইয়াবা, বাংলা মদসহ হরেক রকমের নেশার সামগ্রীর। মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে দিনে দিনে মাদক সেবীদের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও যুবকেরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এ কারণে সচেতন অভিভাবকেরা গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের আটক করা হলেও কমছে না মাদকের কারবার। বরং দিনে দিনে আরো ভয়াবহ আকারে বিস্তার ঘটছে মাদকের। এখন পাড়া-মহল্লায় বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য। মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের গভীর রাত পর্যন্ত পাড়া মহল্লার রাস্তা-ঘাটে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। নানা কৌশলে সেবনকারীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য।

অনুসন্ধানকালে, কুমারখালী পৌর এলাকার হরিজন কলোনীর সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে টাকা ও মাদকদ্রব্য লেনদেন করতে দেখাযায়। সন্ধ্যা নামলেই ওই এলাকায় মাদকদ্রব্যের সন্ধানে আসে ক্রেতারা। হরিজন করোনীতে নারীদের বিরুদ্ধেও মাদকের কারবারের অভিযোগ রয়েছে। শহরের বিভিন্ন ঔষধের ফার্মেসীতে নেশার বড়ি বিক্রি হচ্ছে। টাকা দিলেই ট্যাপেন্টা ট্যাবলেট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাদকসেবীদের কাছে। মাদকসেবীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও সহিংস আচরণের কারণে মাদক বিক্রেতা ও সেবীদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না।

সম্প্রতি উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের একজন অভিভাবক তার মাদকসেবী ছেলেকে টাকা না দেওয়ায় এবং সংশোধন হতে বলার কারণে বাবাকে মারধর শুরু করে। বাবাকে বাঁবাতে গেলে মায়ের শরীরও জখম হয় ওই ছেলে লাঠির আঘাতে। মাদকাসক্ত ছেলেদের হাতে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অভিভাকেরা নিরবে কান্নাকাটি করলেও তা দেখার কেউ নেই। বরং তারা সামাজিকভাবে বঞ্চনা শিকার হচ্ছেন স্বজনসহ এলাকাবাসীদের কাছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সদকী ইউনিয়নের এক গৃহবধু ছাগল ও হাঁস-মুরগী বিক্রি করে কিছু টাকা গচ্ছিত রেখেছিলেন তার ব্যক্তিগত আলমারির ড্রয়ারে। কিন্তু মাদকাসক্ত স্বামী তার গচ্ছিত টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। পরে ওই গৃহবধু কৌশলে স্বামীর খোঁজ করতে গিয়ে মাদকাসক্ত আরেক যুবকের বাড়ির একটি কক্ষের মধ্যে স্বামীকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায়  দেখতে পান। এ ঘটনায় ওই গৃহবধু স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে কেউ তার মাদকাসক্ত স্বামীকে শাসন করতে এগিয়ে আসেনি। এখনো পর্যন্ত স্বামীকে মাদকের গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে এলাকাবাসীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ওই গৃহবধু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, শহর ও গ্রামাঞ্চলে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বিভিন্ন চা-স্টলে বসে সময় কাটাতে দেখা যায়। আর কিছু কিছু চা-স্টল থেকেই মাদকের হাত বদল হয়ে থাকে। ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা এসব তথ্য জানলেও অজ্ঞাত কারণে তারা জনপ্রতিনিধি কিংবা থানা পুলিশকে তথ্য দিচ্ছেনা। বরং কিছু কিছু গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মাদকসেবীদের সাথেই আড্ডা দিতে দেখাযায় বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। একজন জনপ্রতিনিধি (কাউন্সিলর) নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কুমারখালী পৌর এলাকায় মাদকাসক্তদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। আর এই মাদকাসক্তদের বিভিন্ন আড়ালে আবডালে বসে মাদক সেবন করতে দেখে ও তাদের সাথে ঘুরে কিশোর-যুবকেরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। অভিভাবকেরা উঠতি বসয়ের ছেলেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা। ওই জনপ্রতিনিধি আরো জানিয়েছেন, আগে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা দূর করতে হবে। তাই মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযানসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরী। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সক্রিয় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। তবে এ জন্য এলাকাবাসী যদি মাদক বিক্রেতাদের মাদক সহ অবস্থান ও সেবনকারীদের আসরের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করেন তাহলে খুব দ্রুত মাদকমুক্ত করা সম্ভব।

আরো খবর...