কুমারখালীতে অসহায় বাগদি স¤প্রদায়ের আবাস রক্ষায় পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সাংসদ জর্জ

বাগদি স¤প্রদায়কে উচ্ছেদের পাঁয়তারা প্রভাবশালী মহলের 

কুমারখালী প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সরকারি জমি থেকে বাগদি স¤প্রদায়কে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। উচ্ছেদের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে যুগের পর যুগ কুমারখালীতে বাস করা ক্ষুদ্র এ স¤প্রদায়ের মানুষ। তবে তাদের অধিকার রক্ষায় স্থাণীয় সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ একাত্মতা প্রকাশ করে প্রভাবশালী গোষ্ঠির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন। একই সাথে বাগদি স¤প্রদায়ের জন্য আরো জমি বন্দোব¯Í দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। সাংসদের সহমর্তিতা পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। অভিযোগ ওঠে গত বুধবার কুমারখালী মহিলা কলেজের বাণিজ্য বিভাগের প্রভাষক ও স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন বিশ^াস পৌরসভার বুজরুক দুর্গাপুর মৌজার বাগদি স¤প্রদায়ের আদি ভিটার জমি দখলের চেষ্টা করে। বাগদি স¤প্রদায় শতাধিক মানুষ প্রতিবাদ করে। তারা কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কে মানববন্ধন শেষে প্রায় তিনঘণ্টা ধরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে ও উপজেলা সহকারি কমিশার (ভূমি) অফিসের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান নেয়। তারা ধারাবাহিক নানা কর্মসূচী পালন করে আসছে। উপজেলা ভূমি কার্যালয় ও ভুক্তোভোগি আদিবাসী পরিবার সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে কুমারখালী বাসস্ট্যান্ট সংলগ্ন বুজরুখ দুর্গাপুর মৌজায় কয়েক বিঘা জমির ওপর অন্তত ৪০০ আদিবাসী বাগদি স¤প্রদায়ের পরিবার বসবাস করে আসছে। সরকার অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট জায়গা লীজ দিয়েছে। এদিকে আদিবাসীদের জায়গার পাশে তুহিন বিশ^াস নামে এক ব্যক্তির ব্যক্তিমালিকানা জমি রয়েছে। স¤প্রতি তিনি দাবি করেন- আদিবাসীদের জায়গাটাও তার মালিকানাধীন। এ ব্যাপারে মামলাও করেছেন তিনি। উচ্চ আদালতের দেওয়া একটি রায় উল্লেখ করে তিনি আদিবাসীদের জায়গাটি নিজের দাবি করে উচ্ছেদের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে আদিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গত বুুধবার সকালে তুহিন বিশ্বাস তার লোকজন নিয়ে বসতি উচ্ছেদ করতে গেলে আদিবাসী স¤প্রদায়ের লোকজন প্রতিবাদ করে। দখল করতে যাওয়াদের ধাওয়া করে। এসময় সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। আদিবাসী পরিবারের ছোট থেকে বড় নারী -পুরুষ সবাই সড়কে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেন। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া আদিবাসী পরিবারের সদস্য প্রীতম সরদার অভিযোগ করে বলেন, বাসস্ট্যান্ডের পাশের (পশ্চিম) দুর্গাপুর মৌজার সরকারি জমিতে তাদের পূর্ব পুরুষেরা প্রায় শত বছর ধরে বসবাস করে আসছে। প্রায় ৩০-৩৫ বছর ধরে ওই জমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তাদের নামে লীজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স¤প্রতি দুর্গাপুর গ্রামের তুহিন বিশ্বাস নিজের জমি দাবি করে ওই জমিতে বিপনী বিতান নির্মাণসহ জলাশয় ভরাট শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার তুহিন বিশ্বাস তাদের বসতভিটার মধ্যেও তার জমি রয়েছে বলে দাবি করে আদিবাসী স¤প্রদায়ের টাঙানো সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে। অভিযোগের ব্যাপারে তুহিন বিশ্বাস বলেন,‘আদিবাসীদের বসতভিটা ও আমার নিজস্ব জমির দাগ নম্বর ও মৌজা আলাদা। সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তির জন্য কয়েক মাস আগে পৌরসভার মেয়র ও সার্ভেয়ারের উপস্থিতে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমি আমার নিজের কেনা জমিতেই মার্কেট নির্মাণ করেছি। জমি দখল করার অভিযোগ সত্য নয়। চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গত শনিবার সকালে বাগদি পল্লীতে যান স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার  সেলিম আলতাফ জর্জ। এসময় তার সাথে কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন খান তারেক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আক্তারুজ্জামান নিপুন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ, পৌরসভার ৫নং কাউন্সিলর এস এম রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ তাদের আশ্বস্থ করে বলেন, ‘তাদের (বাগদি) পূর্বপুরুষ হতে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে এখানে। তারা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে একবিন্দু বঞ্চিত হবে না। কেউ তাদের ভূমি বেদখল করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।’ আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দারা সাংসদকে কাছে পেয়ে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাংসদ তাদের সাথে প্রায় ঘন্টাব্যাপী কথা বলেন। তারা জমি রক্ষাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বাগদি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মদন সাংসদকে কাছে পেয়ে বলেন- তাদেরকে উচ্ছেদের যে পায়ঁতারা করা হচ্ছে  সেটা মোকাবেলায় যেন জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। না হলে তারা মাথা গোজার মত কোন ব্যবস্থা থাকবে না।’ এ বিষয়ে সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জের সাথে কথা হলে বলেন- বাগদি স¤প্রদায়ের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে। তারা যেভাবে সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়ে বাস করে আসছে তাদের জায়গায় কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। স্থায়ী একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর তাদের দিকে দখলের চোখে তাকাতে না পারে। প্রয়োজনে আরও জমি দেওয়া যায় কি না সেটাও দেখা হবে। চক্রান্তকারীদের সনাক্ত করে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

আরো খবর...