কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে

করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাও হারিয়েছে। সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ৪১ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, মারা  গেছে ২ লাখ ৮২ হাজারেরও বেশি। দেশেও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে, মারা গেছে ২০০-র বেশি মানুষ। এমন অবস্থায় করোনা সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে এরই মধ্যে জানা যাচ্ছে, বিশ্বঅর্থনীতি বিপর্যস্ত হলেও রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব মতে, এবার প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হবে, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তথ্য মতে, করোনাসংকটের মধ্যে সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভারত ছাড়া বাংলাদেশের ধারে-কাছেও কেউ নেই। বড় অর্থনীতির দেশগুলো প্রবৃদ্ধি অর্জনে মাইনাস অবস্থায় চলে  গেছে। এ ক্ষেত্রে উলে¬খ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৯০৯ ডলার। আমরা মনে করি, যেখানে বড় অর্থনীতির  দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি মাইনাসে চলে যাচ্ছে সেখানে  দেশের প্রবৃদ্ধির এই পরিস্থিতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এখন সংশি¬ষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সূত্র মতে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসের (জুলাই-ফেব্র“য়ারি) তথ্য বিশে¬ষণ করেছে বিবিএস। সংস্থাটির প্রাথমিক হিসেবে জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই প্রাক্কলন করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এবার প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। ফলে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ২৮ লাখ ৫ হাজার ১২১ কোটি টাকা। আর মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ হাজার ৯৬৮ দশমিক ৭৩ ডলার (প্রতি ডলার ৮৫.০৯ টাকা ধরে)। মাথাপিছু আয়ের এই গড় হিসাবের ক্ষেত্রে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৭৪ লাখ ধরা হয়েছে। ৮ মাসের প্রাক্কলন করেছে বিবিএস। প্রসঙ্গত বলা দরকার, করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো ভুগবে বলে মনে করছে আইএমএফ। তাদের মতে, ২০২০ সালে এশিয়ার মধ্যে ভারতের প্রবৃদ্ধি বেশি হবে ৪ দশমিক ৮ থেকে ৫ শতাংশ। আর সংস্থাটির পূর্বাভাস হলো, প্রায় সব দেশের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যাবে। এ ছাড়া বড় দাতা সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। আর বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২  থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর আগে বলেছে, করোনার কারণে বাংলাদেশের জিডিপির দশমিক ২ শতাংশ থেকে দশমিক ৪ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। দ্য ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিট মনে করে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে। যদিও এসব সংস্থা অর্থবছরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে বিবিএস বলছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বিশ্বের কোনো দেশ অর্জন করতে পারবে না। আমরা মনে করি, সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র আমলে নিতে হবে এবং যে কোনো সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি থাকতে হবে। উলে¬খ্য, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ মাসের একটা প্রাক্কলন করার বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছেন, করোনাকালে সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিঃসন্দেহে বিরাট ব্যাপার।  কেননা সর্বক্ষেত্রে নেগেটিভ। এক্সপোর্ট নেগেটিভ ও ঋণপ্রবাহ সিঙ্গেল ডিজিটে। রেমিট্যান্সপ্রবাহ ২০ শতাংশ থেকে নেমে ১০ শতাংশ হয়েছে। বিনিয়োগের অবস্থা শোচনীয়। শুধু কৃষিতে বোরো ভালো হয়েছে। কৃষি খুব ভালো হলে সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার শতাংশের বেশি হয় না। এর মধ্যে মাছ, মুরগি, দুধ ও ডিমের অবস্থা ভালো নয়। অনেক কিছু নষ্ট হচ্ছে। তারপরও সাড়ে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি খুবই আশার এমনটিও বলেছেন। সর্বোপরি আমরাও বলতে চাই, বিশ্বের অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হবে, এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য।

আরো খবর...