কামরান কেন কোয়ারেন্টিনে নেই, প্রশ্ন রিজভীর

ঢাকা অফিস ॥ নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরা সিলেট আওয়ামী লীগের নেতা বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। নভেল করোনাভাইরাস ঠেকাতে সরকারি তৎপরতায় কোয়ারেন্টিনে না থাকা বিদেশ ফেরতদের জরিমানার সমালোচনা করতে গিয়ে ক্ষমতাসীনদের এই ‘দ্বিচারিতা’ তুলে ধরেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। নভেল করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারী রূপ নেওয়ার পর বিদেশ থেকে যেই আসবেন, তাকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করে ১৬ মার্চ সিদ্ধান্ত দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর বিভিন্ন জেলায় কোয়ারেন্টিনের নিয়ম না মেনে বাইরে ঘোরায় বিদেশ ফেরত অর্ধশত ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে ঢাকায় কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেটের সাবেক মেয়র কামরানকে দেখে সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয় সমালোচনা। তিনি তার দুদিন আগে লন্ডন থেকে ফিরেছিলেন। করোনাভাইরাস নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকায় দলীয় প্রচারপত্র বিলির সময় এই প্রসঙ্গ তুলে রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, “কামরান সাহেব লন্ডন থেকে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের সভায় যোগদান করছেন। কই, তাকে আপনারা অর্থদ- তো দেননি। তাকে তো কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বলেননি। অথচ বিমান থেকে নেমেই তিনি আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করেছেন।” কোয়ারেন্টিন সম্পর্কে কামরান সিলেটে সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমি ইনশাল্লাহ শতভাগ নিশ্চিত যে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত না। কারণ তারা (স্বাস্থ্য বিভাগ) যে ফরম দিয়েছে তা ফিলআপ করে দিয়েছি। আর সিলেট এয়ারপোর্টে নামার পর তারা আমাকে চেকআপ করে দেখেছে। আর ওই ধরনের রোগের উপসর্গ যেটা, এগুলো কিছুই আমার মধ্যে নেই।” বিদেশ ফেরতদের অর্থদন্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “তাদের (বিদেশ ফেরত) তো বোঝাতে হবে যে, আপনারা নিজেদের ঘরে থাকুন, আপনারা নিজের বাড়িতে থাকুন। “সরকার সেই ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের উপর নির্যাতন করছেন, অর্থদন্ড দিচ্ছে। এই যে ব্যবস্থা যেটা চলছে, এটা একটা বেপরোয়া, স্বৈরাচারের গৃহীত ব্যবস্থা। এটা জবাবদিহিমূলক সরকারের বৈশিষ্ট্য নয়।” অনুমতি ছাড়া হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট না করার সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ বলেছেন বিএনপি নেতা রিজভী। তিনি বলেন, “সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো হাসপাতাল আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে পারবে না। এটা সরকারের একটি অমানবিক সিদ্ধান্ত, এটা সরকারের নির্মমতার একটা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত।” “আমরা মনে করি, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল আছে তাদেরকে এই দায়িত্ব দিলে হয়ত করোনাভাইরাস সংক্রমণের সংখ্যা বৃদ্ধি অনেক রোধ করা যেত,” বলেন রিজভী। হটলাইনে অব্যবস্থা নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে পরামর্শের জন্য আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন করেও সাড়া না পাওয়ার সমালোচনা করেন বিএনপি নেতা রিজভী। তিনি বলেন, “তামান্না তসলিমা নামে একজন মহিলার গলা ব্যথা হয়েছে, তারপরের দিন তার জ্বর হয়েছে। তিনি আইইডিসিআরে হটলাইনে সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত টেলিফোন করে কোনো রেসপন্স পাননি। ওই সময়ের পরে রাতে একজন ডাক্তার টেলিফোন ধরেছেন … ১২ ঘণ্টা অতিক্রম করার পর ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যায়। “এ থেকে বুঝতে পারেন যে, করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করার জন্য কোনো পদক্ষেপ এই সরকারের নাই, তারা লিপ সার্ভিস দিচ্ছে, যেটা আমি আগেও বলেছি। দেখুন প্রতিদিন করোনা সংক্রামক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তারপরেও কিন্তু কোনো ব্যবস্থা তারা নিচ্ছে না “ “আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, এই মুহূর্তে ম্যাসিভ ড্রাইভের ব্যবস্থা করুন। নইলে মরণঘাতি এই ভাইরাসে কত মানুষের জীবন যে বিপন্ন হবে তার কোনো ইয়ত্তা থাকবে না,” বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সকাল ১১টায় মালিবাগ মোড়ে বিভিন্ন বিপণি বিতানসহ ফুটপাতে পথচারীদের হাতে দলীয় লিফলেট বিলি করেন রিজভী। এতে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

আরো খবর...