কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলেই সফলতা আসবে

কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, আমাদের প্রত্যেকের পরিশ্রম ও আন্তরিকতার কারনে সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি প্রকল্পের উন্নয়নমুলক কাজ। এসব কাজ বাস্তবায়নে আপনার সমস্যা যদি আপনি সৃষ্টি করেন তা কোনভাবেই মেনে নেয়া হবে না। প্রত্যেকটি উন্নয়নমুৃল কাজে সঠিকভাবে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। উন্নয়নমুলক প্রতিটি কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সফলতা আসবেই। সঠিক তদারকী করে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সরে দাড়াতে হবে। কাজের প্রতি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিবেন না। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে  জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সামনে আসন্ন ঈদুল আযহার (কোরবানীর) ঈদ। কুষ্টিয়ার কোরবানীর গরু মোটাজাতাকরণ সারা দেশে সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করেছে। এই সুনাম ধরে রাখতে হবে। গরু মোটাজাতাকরণের নামে অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতি ষ্টয়েট কিংবা কোন পদ্ধতি যেন ব্যবহার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সঠিক গো-খাদ্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে ডেঙ্গু জ¦র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে কুষ্টিয়ায়। এপর্যন্ত ১০ জনের খবর পাওয়া গেছে। এডিশ মশার বংশ ধ্বংশ করতে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি বলেন, কুমারখালী-রাজবাড়ী সড়ক প্রসস্থকরণ কাজের অগ্রগতি অনেক দুর এগিয়ে গেছে। তবে আরো বেশি লোকবল কাজে নিয়োগ করে জনভোগান্তি বাড়ার আগেই দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। কোন কাজেই গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না। জেলাব্যাপী ব্যাপকহারে চলছে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভংগুর পরিস্থিতি বার বার জনগণের মুখোমুখি করলেও আজকে সেই অবস্থা আর নেই। দ্রুত রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই যোগাযোগ ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি কমে আসবে। তিনি বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকেল এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। যে এলাকার যত বেশি উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সেই এলাকা তত বেশি উন্নত। আমরা যারা উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট তারা যদি দেশের জন্য এ জেলার জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে ছোট্ট ছোট্ট পরবির্তন আনতে পারেন তাহলেই আমাদের উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরন হবে। তবেই তো এগিয়ে যাবে দেশ। আর এক্ষেত্রে সবার আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জেলার উন্নয়নে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তবেই দেশের মধ্যে কুষ্টিয়া হয়ে উঠবে পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ একটি জেলা। এজন্য সরকারী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কোনভাবেই অনিয়ম না করতে পারে এবং জনগনকে সঠিকভাবে যথাসময়ে  সেবা প্রদান করতে পারে সে জন্য সরকারী সব কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। নিজেকে একজন দেশ প্রেমিক হিসেবে মানসিকভাবে তৈরী হতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আগামীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কুষ্টিয়া পিছিয়ে থাকতে পারে না। যে কাজ করবেন সেটি যেন দেশের উন্নয়নে ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত হয়। বিগত মাসের বিস্তারিত তুলে ধরে তাকে সহযোগিতা করেন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশনা আরা বেগম, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, কুষ্টিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মারুফ আল ফারুকী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম,  জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব কুমার, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক বজলুর রশিদ, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আতিয়ার রহমান, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসিনা বেগম, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান প্রমুখ।

আরো খবর...