করোনা সংক্রমন রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রমের একাংশ

সারা বিশ্বের মতই করোনার লকডাউনে ধুকছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ। কলকারখানা-দোকানপাট বন্ধ। বন্ধ চুল কাটার সেলুন থেকে শুরু করে মাল্টি গ্র“প অব কোম্পানি। আর এমন অবস্থায় অনেকেই রয়েছেন অর্থের অভাবে। নিম্নবিত্তের কিছু মানুষ সাধারণ ডাল-ভাত যোগাড় করতে পারছেন না। সেখানে চিকিৎসা খাতের কাজ ঠিকমত পরিচালনা হয়ে যাচ্ছে আরো কষ্টসাধ্য। আর সে কারণেই দেশের গতানুগতিক চিকিৎসা খাতের পাশাপাশি অবস্থান নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ  সেনাবাহিনী। যেই প্রান্তিক অঞ্চলে পৌঁছাচ্ছে না সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থা,  সেখানেও ভ্রাম্যমান মেডিকেল ক্যাম্প নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর অঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তিক এলাকার দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা।  দেশপ্রেম আর মানবিকবোধ থেকেই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজেরা বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন তারা। মাঠ পর্যায়ে নিজেদের রেশন থেকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান, মানুষকে সচেতন করতে  রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে টহল দেয়া এবং সেই সঙ্গে দুস্থ ও অসুস্থদের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে বর্তমানে ভরসার অন্যতম নাম বাংলাদেশ  সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন । গতকাল যশোর সেনানিবাসের পার্শ্ববর্তী নূরপুর এলাকায় একটি  মেডিকেল ক্যাম্পেইন এর ব্যবস্থা করা হয় চিকিৎসা সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যে। এতে করে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত প্রতিটি মানুষের আস্থা আর ভালোবাসার অপর নাম হয়ে উঠেছেন সেনাবাহিনীর চিকিৎসকরা। সবাই একবাক্যে সেনা চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় নিজেদের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে ঘরবন্দি জীবনে কর্মহীন, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও দুস্থদের টান পড়েছে পেটে। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলোর সামান্য আয় রোজগারেরও জো নেই। কঠিন এমন বাস্তবতায় কেবলমাত্র সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি যশোর সেনানিবাসে সদস্যরা। মানবিকতাবোধে জাগ্রত হয়ে যশোর অঞ্চলের প্রতিটি এলাকার কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্যপণ্য বিতরণের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। হুড়োহুড়ি বা  শোডাউন প্রবণতার বাইরে গিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের ত্রাণের প্যাকেট  পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি।  আর এসব খরচাপাতি হচ্ছে সেনাবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে; নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত রেশন থেকে। একই সঙ্গে বিশেষ এই পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করতেও তারা বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। কৃষির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নানা জাতের উন্নত সবজির বীজ। যশোর সেনানিবাসের এ সকল উদ্যোগ সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আর  সে কারণেই এই অঞ্চলে চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে আরো বিভিন্ন  ক্ষেত্রে ভরসার অন্যতম নাম হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরো খবর...