করোনা নিয়ন্ত্রণে এলেই স্কুল খুলুক

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের স্কুল-কলেজসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা শর্তে স্কুল খোলার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সেসব সংবাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত আসেনি। সেদিন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও সাংবাদিকদের কাছে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল খোলার সময় হয়নি এখনও। মানুষের চলাফেরায় স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ করোনা এখনও আগের মতোই বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের সাহস এবং চলাফেরার স্বাভাবিকতা দেখে কর্তৃপক্ষ হয়তো মনে করছেন স্বাস্থ্যবিধির শর্ত মেনে স্কুল খোলা যেতেই পারে। এটা অবশ্য সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত ধারণা। কিছুদিন আগেও স্পেন, ইতালিতে স্কুল খুলে করোনা সংক্রমনের মুখে আবার বন্ধ করে দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল খোলার তোড়জোড়ের মাঝেই লাখের কাছে শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্তের খবর বের হয়েছে। এসব দেশে এতো উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকার পরও এই অবস্থা হলে আমরা কী করছি! সুতরাং স্কুল, কলেজ খোলার পূর্বে বিশ্বের অন্যান্য  দেশের অবস্থা পর্যালোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। কারণ, আমাদের দেশে যেখানে বয়ষ্করাই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেনা সেখানে শিশুদের কীভাবে মানানো সম্ভব হবে তা আমার বুঝে আসছেনা। যত শর্তই দেওয়া হোকনা কেন কিংবা শিক্ষকদের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও বাচ্চারা সেগুলো মেনটেইন করবে বলে মনে হয়না। ওদের চঞ্চল স্বভাবকে আমি, আপনি কীভাবে সামলাব? ক্লাশে ওদের দুষ্টুমি, মাঠে  খেলাধুলা, ছুটোছুটি এসব কি শর্ত দিয়ে মানানো যাবে? সে কারণে করোনা সংক্রমন নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্কুল খোলা যৌক্তিক মনে হচ্ছেনা। তড়িঘড়ি করে কোন ধরণের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। স্কুল খুললেও বাবা-মা রা সন্তানদের পাঠাবে কিনা সেটাও বড় বিষয়। তাই ভেবে-চিন্তে অগ্রসর হতে হবে। নানা ধরণের প্রজ্ঞাপন জারি করেও সাধারন মানুষের ভেতর করোনার ভয় ঢুকানো যাচ্ছেনা। নেই মাস্ক, সামাজিক দুরত্বের তো কোন বালাই নেই। তাই শুধু স্বাস্থ্যবিধির শর্ত আরোপ করে স্কুল খুলতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয় কিনা বলা মুশকিল! তাছাড়া, এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীর কারো কোন সমস্যা হলে এর দায়ভার নেবে কে? হ্যাঁ, কিছু নিয়ম প্রতিপালনের কথা বলা হচ্ছে। তার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ভাগ করে বিদ্যালয়ে আনার যে শর্ত সেটা অবশ্য যুক্তিসংগত। অন্যসব শর্তের মাঝে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি আগের একটি লেখায় এ ধরণের একটি কথা বলেছি। সেখানে, এক এক ক্লাসকে একেকদিন আনার কথা বলা আছে। এরপরও তাতে শিক্ষার্থীদের কতটুকু অংশগ্রহণ করানো যাবে  সেটা বলা যাচ্ছে না। করেনার কারণে শিক্ষাবর্ষ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটাও যৌক্তিক। কী দরকার শিক্ষার্থীদের বিপদে ফেলার! এতবড় একটা বিপদসংকুল পরিস্থিতিতে হুটহাট করে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা  কোনভাবেই ইতিবাচক হবেনা। পাশাপাশি সব ধরণের পাবলিক পরীক্ষা  দেরিতে নিতে হলেও বহাল রাখা উচিত। করোনার ভ্যাকসিন এভএইএভেল হলে পরে স্কুল খুললে কঠিন কোন শর্তের প্রয়োজন হবে না। তখন অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্থ হবেননা। উপরের সব মতামত আমার একান্তই ব্যক্তিগত। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই আসল কথা। সরকার যদি মনে করে, এই মুহুর্তে স্কুল খুললে কোন সমস্যা হবেনা তাহলে সেটাই হবে। আমি মনে করি, সরকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণের দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

 

 

আরো খবর...