করোনায় মৃতদের শেষকৃত্য

দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে অনিশ্চয়তার  বোধ বেড়েই চলেছে। এর চিকিৎসা এবং এই পরিস্থিতির অবসান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত ধারণা কেউ দিতে পারছেন না। ফলে মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে। সেটি এমন পর্যায়ে  পৌঁছেছে যে, করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজের আপনজনের মৃত্যু হলে তাকেও অনেকে ফেলে রাখছেন। শেষকৃত্যের ব্যাপারে নিজের দায়িত্ব পালনে বিমুখ হয়ে পড়ছেন অনেকেই। এ অবস্থায় করোনায় মৃতদের শেষকৃত্য পালনে সহযোগিতার জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উদ্যোগী হয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে আল-মারকুজুল ইসলাম ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন অন্যতম। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে এ কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তারা কারও আর্থিক সহযোগিতার অপেক্ষায় থাকেননি। যেসব প্রতিষ্ঠান বিশেষ দায়িত্ব হিসেবে নিজেদের কর্মীদের দিয়ে এ কাজ করাচ্ছে, তাদের এ ব্যাপারে কিছু ব্যয় রয়েছে। অনেকেই বলছেন, এ কাজে সরকারি সাহায্য ছিল অপ্রতুল। ফলে গত তিন মাসের কাজের পর তারা অর্থসংকটে ভুগছেন। এ বিষয়ে সরকার ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি তারা সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী করোনার সময়ে মানবিক মূল্যবোধ  থেকে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে নিজের পিতা-মাতা, সন্তান বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের প্রতি কর্তব্য পালনে সবাইকে নিষ্ঠাবান হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পত্রিকায় এমন অনেক খবর প্রকাশিত হয়েছেÑ যাতে দেখা গেছে, সন্তান করোনা আক্রান্ত পিতা-মাতার লাশ হাসপাতালে ফেলে এসেছে অথবা তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ি থেকে বাইরে রাস্তায় রেখে এসেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা দেশে অনেকটি হয়েছে। এই সংকটকাল কাটাতে মানুষের মানবিক চেতনার বলিষ্ঠ ভূমিকা জরুরি। অথচ আমরা দেখছি, অনেক ক্ষেত্রে সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তা থেকে চরম অমানবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এটি সামাজিক অবক্ষয়ের একটি বড় প্রমাণ। আমরা মনে করি, যে  কোনো অবস্থাতেই মৃতদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন মানুষ মাত্রের কর্তব্যÑ এ কথা সব ধর্মের ক্ষেত্রেই খাটে। ফলে সামাজিকভাবেই সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বাস্তব অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সরকার ও সমাজÑ উভয়ই এক ধরনের দিশাহীনতায় ভুগছে। সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও এর মধ্যে সমন্বয় ও দক্ষতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিকে যে সমাজ সব বিষয়ে উৎসাহের সঙ্গে সেবা দিয়ে থাকে, ওই সমাজকে করোনার ব্যাপারে নিষ্কিয় দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থা শেখ হাসিনার সরকার বা বাংলাদেশের সমাজের জন্য স্বাভাবিক নয়। পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক, আমাদের নিজ নিজ ঐতিহ্যগত শিক্ষা ও বৈশিষ্ট্য যেন হারিয়ে না যায়। করোনা যদি এখানেও থাবা দেয়, তা হলে একটি বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবার গুরুত্বসহ বিবেচনা দাবি করে।

আরো খবর...