করোনার ত্রাণ নিয়ে চলছে আত্মীয় করণ ও ভোটের রাজনীতি

মিরপুরের তালবাড়ীয়ায় ত্রাণ হরিলুট

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত ত্রাণ হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ত্রাণ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আত্মীয়করন ও ভোটের রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে ইউনিয়নবাসী। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মিরপুর উপজেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির তহবিল থেকে এ পর্যন্ত উপজেলার সব ইউনিয়নে দুই দফায় ১৭ লক্ষ টাকার ত্রাণ পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট হস্তান্তর করে উপজেলা প্রশাসন। সেই সুবাদে তালবাড়িয়া ইউনিয়নে দুই দফায় ৪শ’  থেকে  ৫ শত প্যাকেট ত্রাণ বরাদ্দ আসে কিন্তু সেই ত্রান তালবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের  তালিকাভুক্তরা ওই ত্রাণের খাদ্য সামগ্রী পাননি। সরেজমিন ঘুরে ও একটি বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়,  চেয়ারম্যান হান্নান মন্ডল তার নিজস্ব আত্মীয়-স্বজন কিছু স্থানীয় উঠতি গোছের নেতা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মাঝে এসব  খাদ্য সামগ্রী ভাগাভাগি করে দেয়। তাতে করে ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বারদের দিয়ে তালিকা করানো সাড়ে চারশত দুস্থ অসহায় গরীব মানুষেরা এসব খাদ্য সামগ্রী থেকে বঞ্চিত হন। ইউনিয়নের কয়েকজন মেম্বর এর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আমরা ৯ওয়ার্ডের মেম্বাররা প্রথমে প্রত্যেক ওয়ার্ড এর গরীব অসহায় দুস্থ মানুষ বেছে বেছে একশোটি করে তালিকা করে  চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিই। পরে চেয়ারম্যান আমাদেরকে এই তালিকার মধ্যে থেকে বেছে পঞ্চাশটি চূড়ান্ত করতে বলে। আমরা সেই অনুযায়ী ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বাররা ৫০টি করে  মোট  সাড়ে চারশত চূড়ান্ত তালিকা জমা দিয়েছিলাম পরিষদে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই তালিকা অনুযায়ী কোন ত্রাণ সামগ্রী আমরা পাইনি। যে সমস্ত গরিব অসহায় মানুষের তালিকা করেছিলাম তারা আমাদের বাড়িতে সকাল-বিকাল ধর্না দিচ্ছে কিন্তু আমরা কোনো সহায়তা তাদের করতে পারছি না। কোথায়  গেল এই ত্রাণ জানাও নেই আমাদের। স্থানীয় কিছু সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, চেয়ারম্যানের যারা নিকটাত্মীয়  ও ভোটের সময়  ভোট করে তাদের বেছে বেছে এইসব সামগ্রী দেওয়া হয়েছে তাদের  ভেতর অনেক ধনবান পরিবারও আছে। এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ পাননি  এমন কয়েকজন বৃদ্ধ  দুস্থদের  সাথে  কথা বললে  তারা বলেন- ভাইরাস ধরে মরার আগেই  আমরা না খেয়ে মারা যাবো বাবা । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, আমি দশ প্যাকেট  পেয়েছিলাম অসহায় গরীবদের মাঝে তা বিতরণ করে দিয়েছি এর বেশি কিছু বলতে পারব না। মিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাশেম কাসেম জোয়ার্দ্দার এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের দেশের যে পরিস্থিতি এই মুহূর্তে আমার নেতা কামারুল আরেফিন বর্তমান মিরপুর উপজেলা  চেয়ারম্যান এই সমস্ত ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ভোটের রাজনীতি করেন না। তিনি দল-মত নির্বিশেষে এই করোনা দুর্যোগ মোকাবেলাই সকল ছিন্নমূল মানুষের নিকট ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার অসীম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদি  কোন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমন অনিয়ম করে থাকেন তাহলে সম্পূর্ণ দায়ভার তার নিজের। এসব নানা অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ  চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরো খবর...