করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দিশাহারা পরিস্থিতি সারা বিশ্বেই। মানুষ এখন মহাতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছে। কখন কে সংক্রমিত হয়, কে মারা যায় তা বলা যাচ্ছে না। সারা বিশ্বের মানুষ ভীতিকর অবস্থায় সময় পার করছে। যেখানে ৩৮ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণে। মারা গেছে ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। দেশেও দ্রুত বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, ইতিমধ্যে সাড়ে ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০০-র বেশি মানুষ মারা গেছে। এমন অবস্থায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহতা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে চাই, এই সংক্রমণের ক্ষেত্রে করোনাযোদ্ধা- যারা সম্মুখ  থেকে সরাসরি দিন-রাত কাজ করছে তারাও আক্রান্ত হচ্ছে, নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে- যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে। এ ক্ষেত্রে সংশি¬ষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়টি যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করা।  কেননা দিন-রাত সেবা দিয়ে রোগীদের সুস্থ করা, মানুষকে সচেতন করাসহ বিভিন্নভাবে করোনার সংক্রমণ রোধে দায়িত্বপালন করতে গিয়ে যদি করোনাযোদ্ধাদের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে তবে তা অত্যন্ত উৎকণ্ঠাজনক ও ভীতিপ্রদ। প্রসঙ্গত বলা দরকার, করোনাযোদ্ধারা তাদের দায়িত্বপালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে, আক্রান্ত হয়ে কেউ কেউ মারা যাচ্ছে, ফলে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যারা সেবা দিচ্ছে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে পুরো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। এ প্রসঙ্গে আমরা এটাও বলতে চাই, একদিকে করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি, অন্যদিকে যদি করোনাভাইরাসের মতো এই অদৃশ্য শক্রর বিরুদ্ধে সম্মুখযোদ্ধারা যদি আক্রান্ত হন এবং এই সংকট বাড়তে থাকে তবে পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক হতে পারে সেটি এড়ানোর সুযোগ নেই। এর আগে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছিল, চিকিৎসক ও চিকিৎসা সেবাদানকারীরা আক্রান্ত হতে থাকলে আগামীতে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। এছাড়া এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, চিকিৎসক-নার্সের পাশাপাশি, সেনা সদস্য, পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হয়েছেন এমন খবর সামনে এসেছে। এ পর্যন্ত তিন জন সাংবাদিক ও দুই জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পুলিশ মারা গেছেন ৭ জন। ফলে যারা সরাসরি মানুষের সুরক্ষার জন্য কাজ করছেন তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব। সঙ্গত কারণেই করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়টিকে সামনেরেখে সংশি¬ষ্টরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে সঠিক মানের পিপিই, এন-৯৫ বা এর সমমানের মাস্ক প্রদান, আবাসনসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে সংশি¬ষ্টদেরই। এটা বলা দরকার, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সারা বিশ্বই কার্যত থমকে গেছে। বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে লাশের সারি। এই পরিস্থিতিতে অসচেতনতার বিষয়ও সামনে আসছে। অথচ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্য নির্দেশনা মানা অত্যন্ত জরুরি। একদিকে আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসক-নার্সরা দিন-রাত কাজ করছেন, অন্যদিকে জনসাধারণকে স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলতে, সচেতন করতে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে আমরা মনে করি, করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি জরুরি। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই. এমনিতেই দেশে চিকিৎসক সংকটসহ নানা ধরনের সমস্যা আছে এর মধ্যে যদি আশঙ্কাজনক হারে করোনাযোদ্ধাদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকে তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। সঙ্গত কারণেই আমরা বলতে চাই, অদৃশ্য শক্র করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে হলে করোনাযোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। করোনা মোকাবিলায় যেমন করোনাযোদ্ধাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি মানুষের সচেতন করতে এবং স্বাস্থ্য নির্দেশনা যেন মেনে চলে  সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সামগ্রিক বিষয়গুলোকে সামনে রেখে করোনাযোদ্ধদের সুরক্ষার বিষয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত  হোক এমনটি প্রত্যাশিত।

 

আরো খবর...