করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৭২

ঢাকা অফিস ॥ দেশে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) মৃত্যুর তালিকা। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাস কেড়ে নিয়েছে আরও ৩৭ জনের প্রাণ। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মারা গেলেন দুই হাজার ৯৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা মিলেছে আরও দুই হাজার ৭৭২ জনের মধ্যে। ফলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এখন দুই লাখ ২৬ হাজার ২২৫। গতকাল সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক দৈনন্দিন বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি পিসিআর-ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৫৪৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয় ১২ হাজার ৮৫৯টি নমুনা। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১১ লাখ ২৪ হাজার ৪১৭টি। নতুন পরীক্ষায় করোনা মিলেছে দুই হাজার ৭৭২ জনের মধ্যে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল দুই লাখ ২৬ হাজার ২২৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৭ জনের। ফলে ভাইরাসটিতে মোট মারা গেলেন দুই হাজার ৯৬৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও এক হাজার ৮০১ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ২৫ হাজার ৬৮৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের পুরুষ ২৬ জন, নারী ১১ জন। এদের মধ্যে ২০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব সাতজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব সাতজন, ষাটোর্ধ্ব ১২ জন, সত্তরোর্ধ্ব আটজন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ছিলেন ২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচজন, রংপুর বিভাগের তিনজন, খুলনা বিভাগের দুইজন, বরিশাল বিভাগের দুইজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন ছিলেন। গত রোববারের বুলেটিনে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৪ জন মারা গেছেন। ১০ হাজার ৭৮টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয় আরও দুই হাজার ২৭৫ জনের দেহে। সে হিসাবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে রোগী শনাক্তের সংখ্যা। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড আছে ৬৪ জনের। সে তথ্য জানানো হয়, ৩০ জুনের বুলেটিনে। সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড চার হাজার ১৯ জনের, যা জানানো হয় ২ জুলাইয়ের বুলেটিনে। গতকাল সোমবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১২ শতাংশ। আর রোগী শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ২০২০ সালের আগে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ছিল মাত্র ২২টি। করোনা সংক্রমণের পর সম্প্রতি স্থাপিত হয়েছে আরও আটটি লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক। বর্তমানে আরও ৪৩টি লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। দেশের লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্কের তথ্য তুলে ধরে নাসিমা সুলতানা বলেন, ২০২০ সালের আগে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থাপিত লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক ছিল ২২টি। সম্প্রতি ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ) ৬টি লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক স্থাপন করেছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরও সম্প্রতি একটি লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করে। নিজস্ব উদ্যোগে সরকারি হাসপাতালে স্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্ট বা লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়েছে একটি। নিমিউ’র অধীনে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক নির্মাণের কাজ চলমান ২০টি প্রতিষ্ঠানে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে ২৩টি প্রতিষ্ঠানে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাঙ্ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সারা দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৪১টি। হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলার সংখ্যা ৩০৫টি। আর অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের সংখ্যা ১১২টি বলেও জানিয়েছেন নাসিমা সুলতানা। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত ও সুস্থ থাকতে বরাবরের মতো সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয় বুলেটিনে। চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে গোটা বিশ্বকে। গত ডিসেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৬৪ লাখ ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছয় লাখ ৫২ হাজারের বেশি। তবে সুস্থ রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৫২ হাজার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর এতে প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

আরো খবর...