করোনাভাইরাসে মৃত্যু বেড়ে ৩৩৮৩

ঢাকা অফিস ॥ ইউরোপ-আমেরিকায় দ্রুত ছড়াতে থাকা নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ৮৫টি দেশ ও অঞ্চলে, আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার মানুষ। কভিড-১৯ নাম পাওয়া এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩৮৩ জনের মৃত্যু হযেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন। দুই মাস আগে চীনের যে অঞ্চলে প্রথম নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল, সেই হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে নতুন রোগী আরও কমেছে। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে উহানে নতুন রোগীর সংখ্যা শূন্যের ঘরে নামিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন চীনা চিকিৎসকরা। কিন্তু চীনের বাইরে প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশে এ ভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, বসনিয়া, স্লোভেনিয়ার পর ভুটানে ও ক্যামেরুনেও প্রথমবারের মত  কভিড-১৯ আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। লন্ডনের একটি হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রথম মৃত্যুর খবর এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়া,ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা।  চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বৃহস্পতিবার দেশটির মূল ভূখন্ডে আরও ১৪৩ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়েছে। এদের মধ্যে ১২৬ জনই হুবেই প্রদেশের। তাতে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৮০ হাজার ৫৫২ জনে। আর চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৩০০ জন হয়েছে। তাতে বিশ্বে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৯৭ হাজার ৮৫০ জনে দাঁড়াচ্ছে।  চীনে বৃহস্পতিবার আরও ৩০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। আর চীনের বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে আরও ৭০ জনের মৃত্যুর খবর। সব মিলিয়ে চীনে নভেল করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪২ জনে। আর বিশ্বে এ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ জনের। সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ফ্লুর মত উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কভিড-১৯। এখন পর্যন্ত এ রোগে মৃত্যুহার ৩.৪ শতাংশ, যেখানে মৌসুমি ফ্লুতে মৃত্যুহার থাকে ১ শতাংশের নিচে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন বলছে, সেখানে যারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৫৩ হাজার ৭২৬ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। নভেল করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। নভেল করোনাভাইরাস এর কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানেত ৬ হাজার ২৪৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মারা গেছে ৪২ জন। তবে চীনের বাইরে চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। সেখানে ৩ হাজার ৮৫৮ জন আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে ১৪৮ জন। ইতালি থেকৈই পুরো ইউরোপ এবং আফ্রিকা, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। ইরান সরকার ৩৫১৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ এবং ১০৭ জনের মৃত্যুর তথ্য দিলেও প্রকৃত চিত্র আরও খারাপ বলে পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সেখানে মন্ত্রিসভা ও পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্যও কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রেও; সেখানে এ পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। আর জাপানে ১ হাজার ৪৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মারা গেছেন ১২ জন। এর বাইরে ফ্রান্সে সাতজন, স্পেনে তিনজন, হংকংয়ে দুইজন, ইরাকে দুইজন এবং তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে একজন করে মারা গেছেন নভেল করোনাভাইরাসে।

আরো খবর...