করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩৮২৮

ঢাকা অফিস ॥ চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মারা গেছে ৩ হাজার ৮২৮ জন। শুধু চীনেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৯ জন। চীনের বাইরে বাংলাদেশসহ আরও ১০৭ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। এসব দেশে মারা গেছে আরও ৭০৯ জন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও আলজাজিরার। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৯৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৩৫ জন। চীনের বাইরে ২৯ হাজার ২৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ হাজার ১২৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ২৪০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৪০ জন এবং মারা গেছে ২২ জন। চীনের হুবেইপ্রদেশের রাজধানী উহানের একটি জীবন্ত বুনোপ্রাণী বিক্রির বাজার থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের হুবেইপ্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। ওই অঞ্চলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। চীনের সব প্রদেশসহ বর্তমানে বিশ্বের ১০৭ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ২৪২ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইতালিতে ৭ হাজার ৩৭৫ জন, যা চীনের বাইরে সর্বোচ্চ। ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীন ভ্রমণে সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিশ্বের প্রায় সব দেশ। ভাইরাসের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। চীনে অধিকাংশ বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে বলে রোববার জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এদের মধ্যে দুই পুরুষ ও একজন নারী। রবিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি জানান, রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে তাদের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুজন ইতালি থেকে এসেছেন। এদের বয়স ২০-৩৫ বছরের মধ্যে। এ তিনজন ছাড়াও আরও দুজনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে রেখে লক্ষণ-উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তারা বর্তমানে ভালো আছেন। এই বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রাস্তাঘাটে চলাফেরায় সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সৌদি আরবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত দেশটির বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। একই দিন দেশটির পূর্ব কাতিফ রাজ্য পুরোপুরি কোয়ারেন্টাইন করে রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ওই এলাকায় একদিনে ৪ জন করোনাভাইরাস আক্রান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এই ৪ জনসহ সৌদি আরবে মোট ১১ জন আক্রান্ত হয়েছে। সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ মোতাবেক ‘প্রতিরোধ ও সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যাতে ছাত্র ও কর্মকর্তাদের এই ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। পাবলিক ও প্রাইভেট, কারিগরি ও ভোকেশনালসহ সব রকমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনার আওতায় থাকবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে করোনাভাইরাসে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। এ অবস্থায় দেশটির সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাকে লকডাউন (অরুুদ্ধ) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উত্তর ইতালির লম্বার্দি অঞ্চলসহ এবং ১৪ প্রদেশে অন্তত ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। এপ্রিল মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত এ অবস্থা বিদ্যমান থাকবে। দেশটিতে করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায়- জিম, পুল, মিউজিয়াম এবং স্কি রিসোর্টও বন্ধ করে দেয়া হবে। এই ভাইরাসে ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নিহত হয়েছে ১৩৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৯২ জন। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৩৭৫।

 

আরো খবর...