করোনাকাল : করোনা-উত্তর জীবন-জীবিকা ও আচরণ

 ॥ ড. ফোরকান উদ্দিন আহাম্মদ  ॥

মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা সহসাই আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেবে না। করোনাসহনশীল জীবনযাপন চর্চায় অভ্যস্ত থাকতে হবে। অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি  থেকে রক্ষা পেতে সরকারি পর্যায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন- যা জিডিপির ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এই সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। উন্নয়নশীল দেশে দুর্যোগ ও মহামারির প্রভাবে প্রথমেই ভূক্তভোগী হয় শ্রমজীবী মানুষ। তারা দিন আনে দিন খায় ব্যবস্থায় অভ্যস্ত। স্বল্প আয়ের এ মানুষগুলোর বাঁচার করুণ আকুতি দ্রুতই ফুটে ওঠে। লকডাউনে কর্মহীন মানুষগুলোর সীমিত সঞ্চয় অতিদ্রুতই ফুরিয়ে যাওয়ায় এবং কাজ না থাকায় মানবিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। সরকার এ সব মানুষের কাজের পথ সুগম করতে সামাজিক নিরাপত্তা  বেষ্টনীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ হাতে নিয়েছে। খাদ্য সাহায়তা, নগদ অর্থ সহায়তা এবং সহজ শর্তে বা বিনা সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। উন্নয়নের মূল স্রোতধারাকে এগিয়ে নিতে নারীদের সার্বিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা  তৈরিতে ঋণ সহায়তা প্রদান করে তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। জনবহুল এ দেশে রোগীর সংখ্যা বেশি।  দেশের জনসংখ্যা ও রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট, নার্স ও ডাক্তারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মাঠ প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ বিভাগ, সেনাবাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, জনপ্রতিনিধি, মিডিয়াকর্মী, সৎকার কাজে নিয়োজিত টিম, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে দিন-রাত কাজ করছেন- যা আমাদের জাতি হিসেবে গর্বিত করেছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিকল্পিত জনসংখ্যাই সম্পদ। তাই পরিকল্পিত পরিবার গঠন ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় কৃষি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হওয়া দরকার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও অধিকতর উৎপাদনশীল কৃষিতে আমাদের মনোযোগ বেড়েছে। তবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি ও ভিটামিন সমৃদ্ধ  দেশীয় ফলের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে কৃষি পণ্যের আমদানি না বাড়িয়ে  দেশীয় উৎপাদনে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। দেশের মোট খাদ্য চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সুসমন্বয় প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে আইটি, কারিগরি, ভোকেশনাল ও  টেকনিক্যাল শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে। সব ছাত্রছাত্রীকে ন্যূনতম দশম শ্রেণি পর্যন্ত এসব বিষয়ে জ্ঞানলাভ করতে হবে। অবরুদ্ধ জীবন মানুষকে প্রযুক্তিনির্ভর করেছে। নানা সহজলভ্য মাধ্যম ব্যবহার করে কত কিছুই তো সেরে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে; জরুরি মিটিং থেকে আড্ডা, সভা থেকে  সেমিনার, স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ; কাঁচাবাজার থেকে ওষুধ কেনা, শপিংও। মহামারি ঠেকানোর নামে কিছু কিছু দেশ এরই মধ্যে এরকম কাজ শুরু করে দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে চীন। সেখানে সব মানুষের স্মার্টফোন মনিটর করা হচ্ছে। চেহারা চিনতে পারে এরকম লাখ লাখ ক্যামেরা দিয়েও নজর রাখা হচ্ছে মানুষের ওপর। লোকজনকে তাদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য শেয়ার করতে বাধ্য করা হচ্ছে, ফলে কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত শনাক্ত করতে পারছে কে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। শুধু তাই নয়, তার সংস্পর্শে এসেছিল এমন লোকদেরও দ্রুত খুঁজে বের করা হচ্ছে। লকডাউন থাকুক বা উঠে যাক, আমরা যেভাবে চলি, শপিং করি, খেতে যাই, বেড়াতে যাই, কাজ করি, পড়াশোনা করি- এই সমস্ত কিছুই আমূল বদলে দিতে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। কিছু পরিবর্তন এরই মধ্যে ঘটে  গেছে। বিশ্বের বহু মানুষ এখন ঘরে বসেই কাজ করছেন। প্রযুক্তি খুব সহজ করে দিয়েছে ব্যাপারটি। অনেক স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পাঠদান করছে অনলাইনে। ডিজিটাল ও তথ্য প্রযুক্তির সুবিধার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অনলাইননির্ভর সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানের হার ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। এতে সুশাসন নিশ্চিত হবে পাশাপাশি জবাবদিহিতা বাড়বে। অনলাইন  পেমেন্ট সিস্টেম ও ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এ সব খাতকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহার বহুগুণে বেড়ে যাবে- যা ইতিমধ্যেই বেড়ে গেছে। আগামীতে সময় বাঁচানোর জন্য এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মানুষ সামনাসামনি দেখা-সাক্ষাৎ এড়িয়ে যাওয়ার এই বিকল্প ব্যবস্থাকে বেশি বেছে নেবে- এটা বলাই বাহুল্য। মিটিং,  সেমিনার ইত্যাদিতে অংশ নিতে ৩-৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া, নাস্তা-পানি-দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা, ব্যানার-পোস্টার বানানো ইত্যাদি ঝামেলা কমে আসবে- বলাই বাহুল্য। অনলাইন  যোগাযোগে সময় ও অর্থ ব্যয় কমে আসবে। তাছাড়াও শারীরিক  নৈকট্যের মাধ্যমে রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়া রোধ, কিংবা কোনো বিষয়ে খোলা মনে মতামত প্রকাশের প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি বিবেচনা করবে আগের চাইতে অনেক  বেশি। করোনার কারণে অফিসের কাজ যেহেতু অনলাইনেই চালিয়ে  নেয়া যাচ্ছে, আগামীতে হয়তো অফিসে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলে ধারণা। অতিরিক্ত কাজ করা যে আসলে ভালো নয়, বরং সামন্তবাদী ধ্যান-ধারণার প্রতিফলন, সেই আত্মপোলব্ধি হবে অনেক প্রতিষ্ঠানের। ‘হোম অফিস’ আসলে কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়  সেটি বুঝে এর প্রচলনও বাড়বে অনেক। ঘরে বসে কাজ করাকে উৎসাহিত করে জ্যাম, যাতায়াত খাতে সময় ও অর্থ ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। ন্যূনতম ৩০ শতাংশ স্টাফকে  রোস্টারে কাজ করিয়ে ছোট অফিস ভাড়া নিয়ে সাশ্রয়ও করার প্রচলন শুরু হবে ধীরে ধীরে। গত কয়েকশ বছর ধরে মানুষ নানা কারণে পারিবারিক কাঠামো থেকে সরে এসে ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছিল। বাবা-মার সঙ্গে সন্তানের, নানি-দাদির সঙ্গে নাতি-নাতনির, চাচা-মামাদের সঙ্গে ভাগিনা-ভাতিজির দূরত্ব বেড়ে গেছে চোখে পড়ার মতো। মানুষ ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের কথা বিবেচনা করে বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসছিল। জাগতিক সুখ-বিলাসের কারণে মানুষ তাদের আত্মীয়স্বজনদের থেকে দূরে সরে গেছে অনেকটাই। কয়েকশ বছর আগে পশ্চিমা বিশ্বে শুরু হওয়া এই সংস্কৃতি আস্তে আস্তে খুঁটি গেড়েছে আমাদের উপমহাদেশেও। করোনার এই সময়েও আমরা দেখেছি, কিছু মর্মান্তিক চিত্র। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে চায়নি কেউ। করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেও পাওয়া যায়নি কোনো আত্মীয়স্বজনকে। অন্যদিকে অসুস্থ সন্তানকে কেউ অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে রাজি হয়নি বলে বাবা তাকে কাঁধে নিয়ে গেছেন। আবার এও দেখেছি, সমাজে পাড়া-প্রতিবেশী লোকজন সাহায্য করতে এগিয়ে না আসায় অজানা অচেনা পুলিশ ও ইউএনও উপস্থিত থেকেছে মৃত ব্যক্তির জানাজায় ও দাফনে। নাম পরিচয়বিহীন ও বিভিন্ন অসহায় মানুষকে পরম মমতায় চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন ডাক্তার ও নার্স। হাজার বছর ধরে চলে আসা পুরুষ নেতৃত্বের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সময় এসেছে বিষয়টা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। গত কয়েক দশক ধরেই আমরা দেখে আসছি, নারী  নেতা হিসেবে ভালো, ধীরস্থির, অবিচল-কঠিন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা, সারাবিশ্বের পররাষ্ট্রনীতিতে হিলারি ক্লিনটনের দাপট, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জার্মানির চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেলের দৃঢ়তা, ভারতের স্থানীয় রাজনীতিতে মমতা ব্যানার্জির সাহসিকতা, সন্ত্রাস ও মৌলবাদ দমনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আরডার্নের অবিচল অবস্থান মানুষকে সাহস জুগিয়েছে। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত পৃথিবীতে তারা ছাড়াও সবচেয়ে সফল নেতৃত্বের জন্য ডেনমার্কের মেটে  ফ্রেডেরিকসেন, আইসল্যান্ডের ক্যাটরিন, নরওয়ের আর্না সলবার্গ, তাইওয়ানের সাই ইং ওয়েন এবং সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ফিনল্যান্ডের সানা মার্টিন প্রশংসিত হয়েছেন- যারা সবাই নারী। অন্যদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর কিন্তু করোনা মোকাবিলায় সমালোচিত ও ব্যর্থ নেতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন- যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের বরিস জনসন, চীনের শি জিনপিং সবাই পুরুষ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে নাম নেয়া যায় ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর। শুধু রাজনীতিতেই নয়, সমাজের অন্যান্য  ক্ষেত্রেও, যেমন চিকিৎসা ও নার্সিংয়ে নারী কর্মীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। উন্নত দেশগুলোর গ্রোসারি স্টোর ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় জরুরি সেবাদানে নারীর ভূমিকাই অগ্রগণ্য। এছাড়া করোনা সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করলেও দেখা যায়, আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নারী। তাই সার্বিক বিবেচনায় করোনা উত্তর পৃথিবীতে নারী নেতৃত্বে সুখ ও সমৃদ্ধি আসবে বলে প্রতীয়মান হয়। রোনা উত্তর পৃথিবীতে চীন, রাশিয়া ও আমেরিকার একক দাপটের অবসান ঘটাবে এবং বিশ্ব অন্তত নিকট ভবিষ্যতের জন্য সুপার পাওয়ার কনসেপ্ট থকে বের হয়ে আসবে বলে মনে হচ্ছে। রাজনীতিবিদদের শুধু রাজনীতিতে নয়, বিভিন্ন বিষয়ে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। করোনা তা বুঝিয়ে দিয়েছে আমাদের। করোনা পরিস্থিতিতে আমরা  দেখছি, কিছু কিছু বিষয়ে অযোগ্যদের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে নানা সংকটের তৈরি হয়েছে। সঠিক মানুষটিকে সঠিক জায়গায় না বসানোর অভিজ্ঞতা পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আছে। সামনের দিনগুলোতে বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষক, বিজ্ঞানীরা তাদের যোগ্য স্থান ফিরে পাবেন এবং তারাই এগিয়ে নেবেন পৃথিবীকে। করোনা আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক নিগ্রহ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ আমাদের নৈতিক ও মানবিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে ফেলে যাওয়া বা করোনায় মৃত্যুবরণকারীকে রেখে স্বজনদের পলায়নের ঘটনা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। অপরদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই এ মহাবিপর্যয়ে এগিয়ে এসেছে, তাদের আমরা সাধুবাদ জানাই। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়  থেকে দায়িত্ববোধের শিক্ষা চর্চা করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রবক্তাদের অনেকেই অনেক রকম মন্তব্য করে যাচ্ছেন- কেউ বলেছেন, করোনা স্বল্প স্থায়ী হলে মানুষ তার পুরনো অভ্যাস বা আচরণে ফিরে যাবে- তবে এই মহামারি  বেশি স্থায়ী হলে মানুষের আচার-আচরণেরও স্থায়ী পরিবর্তন ঘটবে। জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রেও ঘটবে পরিবর্তন। বর্তমান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে সারা দুনিয়াব্যাপী উন্নয়নের জগতের যে প্রাধান্য হয়তো বা এই পরিবর্তনের ফলে জীববিজ্ঞান বা অন্য কোনো দার্শনিক মতবাদের প্রাধান্য পেয়ে পৃথিবী পরিচালিত হতে থাকবে। বদলে যাওয়া পৃথিবীতে মানুষের আচরণ ও জীবন-জীবিকার প্যাটার্ন বদলে যাবে। লেখক ঃ সাবেক উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

 

আরো খবর...