করোনাকালে ডেঙ্গু

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির পর ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার ভবনের নির্মাণকাজ আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, মার্কেট-শপিংমল ও স্কুল-কলেজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জনশূন্য এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা নানা পাত্র, ওয়াটার রিজার্ভার ও ছাদে বৃষ্টির পানি জমছে, যা পরিষ্কার করার কেউ না থাকায় সেখানে নির্বিঘেœ ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে- সম্প্রতি যখন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে এমনটি জানা যাচ্ছে, তখন তা কতটা উদ্বেগের বলার অপেক্ষা রাখে না। এ ছাড়া করোনা প্রতিরোধে চলমান সরকারি ছুটি ঈদের পর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হওয়ায় এসব স্থানে এডিস মশার বিস্তার আরও ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে স্বাস্থ্যসংশি¬ষ্টরা আশঙ্কা করছেন। আমরা মনে করি, এই আশঙ্কার বিষয়টি অমূলক নয়, সঙ্গত কারণেই সংশি¬ষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। একদিকে করোনায় থমকে গেছে বিশ্ব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশে যেমন দ্রুত বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, তেমনি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার বাসায় থাকার কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছে। আর এমন পরিস্থিতির মধ্যে যদি মশাবাহিত আরেক আতঙ্ক ‘ ‘ডেঙ্গু’ হানা দেয় তবে তা কতটা ভীতিপ্রদ সেটি আমলে নেওয়া জরুরি। তথ্য মতে, ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি পাড়া-মহল¬ায় ২০ থেকে ৫০টি নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। যার বেশিরভাগই মার্চের মাঝামাঝিথেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানকার ওয়াটার রিজার্ভার,  বেজমেন্টের গর্ত, খোলা ছাদ ইত্যাদি স্থানে এডিস মশার উপযুক্ত প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এছাড়া ঢাকার কর্মজীবীর বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ায় তাদের ঘরের বারান্দা, কার্নিস, বাথরুমের উন্মুক্ত কমোড ও ছাদে লাগানো ফুলের টবে জমা পানি এডিস মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে এমনটিও খবরে উঠে এসেছে। আমরা বলতে চাই, করোনার ডামাডোলের ভেতরেই এডিসসহ সব ধরনের মশা নিধন কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশা নির্বিঘেœ বংশ বিস্তার করছে। অফিস-আদালত, মার্কেট-শপিংমলসহ বন্ধ থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও একইভাবে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। অথচ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনও এখন এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেও জানা যাচ্ছে। আমরা মনে করি, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একদিকে করোনার আতঙ্ক অন্যদিকে  ডেঙ্গু- এমন পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে মশা নিধনে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই। উলে¬খ্য, রাজধানীতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ১০ মের পর থেকে দুই সিটি করপোরেশনের অভিযান চালানোর কথা থাকলেও তা কার্যত শুরু হয়নি। দীর্ঘ ছুটিতে বন্ধ থাকা  বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদ, বাথরুমের কমোডসহ অন্যান্য জায়গায় পানি জমে থাকলে, তা স্ব স্ব কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিষ্কার করার তাগিদ দেওয়া হলেও সরকারি সে নির্দেশনা প্রায় কেউই মানছে না এমনটিও খবরে উঠে আসছে। সরকারি ভবনে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ করবে বলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আশ্বস্ত করলেও এ ধরনের  কোনো তৎপরতা এখনো চোখে পড়েনি বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশসহ সারা বিশ্বই যখন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে আরেকটি মরণব্যাধি ‘ডেঙ্গু’ দরজায় কড়া নাড়ছে যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।  ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে- এমন আলামত আগেই পাওয়া গেছে। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি,  যে কোনো মূল্যে মশা নিধন কার্যক্রম গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় মশার উপদ্রব রোধ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এমনটি কাম্য।

 

আরো খবর...