করোনাকালে আগামী অর্থ বছরের বাজেট

 ॥ ডা. এস এ মালেক ॥

আমাদের উন্নয়নের গতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮.২% হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে করোনার মরণ থাবার কারণে বাজেট কাটছাঁট করে এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা হিসেবে ইতিমধ্যেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক চাপ আসছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে করোনা সৃষ্ট লকডাউনের কারণে। সঙ্গত কারণে এই বছর উন্নয়নের গতিধারা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। আমাদের উন্নয়ন তৎপরতার সম্পর্কে তাই আইএমএফ যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, এবার বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হবে না এটা দুই থেকে তিন পার্সেন্টে নেমে আসবে। তবে এ দেশের অর্থনীতিবিদ ও অর্থমন্ত্রীর ধারণা এতটা খারাপ পর্যায়ে যাবে না আমাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। আগামী ১১ জুন মহান জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। বেশ কিছুদিন গুঞ্জন চলছিল, এবার বাজেট পেশ কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া হবে। এর পিছনে বেশকিছু যুক্তি খাড়া করা হয়েছিল। মূলত কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের মহামারি আকারে প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সবকিছু লকডাউন ঘোষণার এরূপ চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দৃঢ়চেতা মনোভাবের কারণে প্রচলিত নিয়মনীতির অনুসরণ করে আর পিছানো হয়নি। বলা যেতে পারে, এটা একটা সঠিক সিদ্ধান্ত। সংসদে বাজেট পেশ একটা রেওয়াজ। প্রতি অর্থ বছরের জন্য সরকারের আয়-ব্যয়, রাজস্ব আহরণ, কর ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, কোন কোন খাতে কত বরাদ্দ হবে এবং সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনা কেমন হবে, কোন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে এর একটা সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, থাকে অনেক প্রতিশ্র“তিও। গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে বাজেট গণমুখী ও জনকল্যাণমূলক হবে এটাই স্বাভাবিক। একটা দেশের বাজেটের আকার দেখালে বোঝা যায়, দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামো কতটা মজবুত ও অগ্রসরমান। বাংলাদেশের গত অর্থ বছরে জাতীয় বাজেট ছিল ৫ লাখ কোটি টাকার উপরে। বাজেট বাস্তবায়ন প্রথম ৮ মাসে সন্তোষজনক ছিল। করোনার মরণ থাবায় শেষের ৪ মাসে উন্নয়ন তৎপরতা মুখ থুবড়ে পড়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জুন প্রথমবারের মতো সংসদে যে বাজেট পেশ করা হয়েছিল তার আকার ছিল খুবই ছোট অর্থাৎ ৭৮৬ কোটি টাকা। উন্নয়নের গতি-প্রকৃতি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই দিন দিন বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে এ কথা ঠিক- সব সরকারের আমলে উন্নয়নের ধারা একই রকমের ছিল না। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে দেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, তাতেই অর্থনৈতিক  ক্ষেত্রে গতিশীলতা সৃষ্টি হয়। শুধু উন্নয়ন নয়, দেশকে দ্রুত পরনির্ভরশীলতা থেকে স্বনির্ভর করার অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন তিনি। ১৯৯৬-২০০১ সালকে উন্নয়নের স্বর্ণযুগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই নভেল করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত যে রঙিন স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ নিজেকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষমতা অর্জন করে। কিন্তু আগামী অর্থ বছরের জন্য যে বাজেট পেশ করা হবে মহান জাতীয় সংসদে তা বিবেচনার জন্য জনগুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে, তা নির্ভর করবে আমাদের অর্থনীতির ওপর করোনাভাইরাসের ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা শেষে। আজ ২ মাস অতিক্রম হয়েছে করোনাভাইরাসের তান্ডবলীলা। অর্থনীতির চাকা বন্ধ। দুইমাস অফিস-আদালত, মিল-কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবই সাধারণ ছুটি। একমাত্র কৃষি ছাড়া সব খাতে প্রবল ধাক্কা লেগেছে। আমাদের রপ্তানি আয় রেমিট্যান্স, যার ওপর  দেশ নির্ভরশীল তাও বিদেশে সবকিছু বন্ধ থাকায় দ্রুত নিম্নমুখী হতে চলেছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে- কতদিনে এই অবস্থার পরিবর্তন আসবে। অর্থনৈতিক কর্মকান্ড কতদিনে স্বাভাবিক হবে, তাও বলা যাচ্ছে না। হতে পারে কয়েকমাস পর আমরা স্বাভাবিকতার দিকে ফিরে আসব। আর তা না হলে এও হতে পারে অবস্থার এমন অবনতি হতে পারে, আমাদের অর্থনীতিতে সচল রাখাই অসম্ভব হয়ে পড়বে। গণমাধ্যমে আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভবিষ্যতে কি হবে তাই নিয়ে চরমভাবে আমরা উদ্বিগ্ন, তবে বর্তমান বাস্তবতায় যা কিছু করা যায়, তা থেকে বিরত থাকব, তা কখনই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, চলমান অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোকে বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান দেওয়া হবে। অর্থের অভাবে এই প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে যাতে না পড়ে সেই ব্যবস্থাই নেওয়া হবে। তার মতে তিনটি বিষয়কে আমাদের অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থির করতে হবে। প্রথমত, মেগা প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্প, যা শেষ হওয়ার পথে। মেট্রোরেল, কর্ণফুলী ট্যানেল, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং বড় বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। যার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। সবচেয়ে বড় অর্থের জোগান এ  মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে এসব প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাবে। একই কারণে বৈদেশিক সুদের হার বেড়ে যাবে এবং ঠিক সময়ে কাজ শেষ না হলে জনগণ উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনৈতিক চাকা আরও বেশি গতিশীল হবে। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য খাতের জন্য বাজেটের অতিরিক্ত অর্থের জোগান। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও অন্যান্য কারণে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা  যে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, তা সফলতার সঙ্গে  মোকাবিলা করতে না পারলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে যাবে।  যে স্বাস্থ্য অবকাঠামো ভিত্তিতে দেশ চলছিল, করোনার আঘাতে হঠাৎ করে তা আমূল পরিবর্তন করার সময় এসেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা  যেতে পারে, এ দেশে বড় বড় হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট ছিল ২০-৩০টি। হঠাৎ করে তা বৃদ্ধি করে কয়েক শতে উন্নীত করা হয়েছে। এখন দরকার কয়েক হাজারে উন্নীত করা। মানবদেহে করোনাভাইরাস শনাক্তে যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তা আমাদের ছিল না বলে তারও দ্রুত উন্নত করতে হয়েছে। আমাদের গত অর্থ বছরের বাজেটে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ ইতিমধ্যেই দেয়া হয়েছে এবং  বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণ গ্রহণ করা হচ্ছে। মাত্র দুই মাসে যা করা হয়েছে তা বলা যায় অসাধারণই একটি ব্যাপার। আগামীতে এই ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃতি করতে হবে। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে সমস্যা আছে সত্য; কিন্তু করোনাভাইরাসে সৃষ্ট এই মহামারি  মোকাবিলা না করতে পারলে আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে যাবে। সংকট নেই কোথায়? সংকট সর্বত্র বিরাজমান। শিল্পোৎপাদন সঠিক  রেখে আমদানি, রপ্তানি বাণিজ্য আবার কার্যকর করে শিল্পায়নে চলমান গতি ফিরিয়ে আনতে না পারলে অর্থনীতি ক্রমাগত বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে থাকবে। আমরা যদি উন্নত দেশের দিকে তাকাই  সেখানে কোটি কোটি মানুষ আজ বেকার-ভাতার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে। আমাদের দেশে মাত্র দুই মাস গার্মেন্টশিল্প বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মচারী আজ মহাসংকটে। সুতরাং সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামী বাজেট উপস্থাপন করতে হবে। আমাদের উন্নয়নের গতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল, এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮.২% হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে করোনার মরণ থাবার কারণে বাজেট কাটছাঁট করে এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা হিসেবে ইতিমধ্যেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক চাপ আসছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে করোনা সৃষ্ট লকডাউনের কারণে। সঙ্গত কারণে এই বছর উন্নয়নের গতিধারা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। আমাদের উন্নয়ন তৎপরতার সম্পর্কে তাই আইএমএফ যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, এবার বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হবে না এটা দুই থেকে তিন পার্সেন্টে নেমে আসবে। তবে এ দেশের অর্থনীতিবিদ ও অর্থমন্ত্রীর ধারণা এতটা খারাপ পর্যায়ে যাবে না আমাদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় করণীয় কর্তব্য নিয়ে দিন-রাত ভাবছেন। তিনি অতীতেও বিভিন্ন সময়ে কি সরকারি দলে  থেকে কিংবা বিরোধী দলে থেকেও দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ  মোকাবিলায় অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই উন্নয়নের গতি এগিয়ে নেওয়ার চেয়েও বিপর্যস্থ জনগণকে কতটা স্বস্তি প্রদান করা যায়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া নিয়ে তিনি ভাবছেন। নিশ্চয়ই করোনার কারণে সৃষ্ট বিশ্ববাস্তবতার চিরস্থায়ী  কোনো সমাধান নেই। কিন্তু সবাই এই অবস্থা থেকে মুক্তি  পেতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ গবেষণার পর করোনা প্রতিশেধক ওষুধ প্রায় আবিষ্কারের পথে। প্রশ্ন হচ্ছে- এই মহাবিপর্যয়ে ধনী-দরিদ্র, শিল্পসমৃদ্ধ দেশ এবং পিছিয়ে পড়া সব  দেশই করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্থ। সম্পদশালী  দেশগুলো বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনা ধনী-দরিদ্র ও করোনার দ্বারা কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য সমন্বিত প্রয়াস চালিয়ে যুক্তিসঙ্গতভাবে সাহায্যের হাত সম্প্রসারণ করে ও নতুন করে শিল্প-বাণিজ্য ব্যবস্থায় অসমতার সৃষ্টির চেষ্টা না করে, উন্নত দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে ভিন্নতর আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকে ঝুঁকে না পড়ে, তা হলে বাংলাদেশের আর্থিক যে সক্ষমতা রয়েছে, তাতে এখানে চরম মন্দা বা দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা নেই বলে মনে হয়। অবশ্য অনেক দেশই দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিচ্ছেন। প্রকৃতি সৃষ্ট একটা বিশেষ সুযোগ এবার আমাদের জন্য তৈরি হয়েছে। এবার বোরোতে বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের দেশে খাদ্য মজুত আছে ২১ লাখ টন। আর কম হলেও ব্যবসায়ীদের কাছে রয়েছে ৩০-৪০ লাখ টন। সুতরাং সরবরাহ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলে কোনো মানুষই না  খেয়ে মরার কথা নয়। কৃষিনির্ভর আমাদের এই অর্থনীতি যদি পরের বছরেও সক্রিয় রাখা যায়, তাহলে অন্যান্য দেশের চেয়ে অপেক্ষাকৃত সহজভাবে আমাদের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। সুতরাং আগামী বাজেট হতে হবে এমন, দেশের সর্বশ্রেণির মানুষের সংকট যতটা সম্ভব পূরণ করা যায়, তারপর উন্ননের গতিকে আগের মতো না হলেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পৃথিবীর অনেক দেশ এভাবেই তাদের ভয়াবহ মন্দা মোকাবিলা করে থাকেন। আমাদেরও তাদের পথ অনুসরণ করতে হবে ও তাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। একদিকে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হবে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যদিকে করোনাজনিত ক্ষয়-ক্ষতি পুশিয়ে নিতে হবে। এ ব্যাপারে জনগণকে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করতে হবে। অস্থিরতার কারণে যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে সেদিকে সরকারের কঠোর দৃষ্টি দিতে হবে। তবে মানবিক কারণে এ ক্ষেত্রে কি সরকারি দল, কি বিরোধী দল বা সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংঘঠন সবাইকে  দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে। এখন রাজনীতি করার সময় নয়- সবাই মিলে মানুষ বাঁচানোই বড় কর্তব্য। যদি দেশকে ভালোবাসেন, মানুষের কল্যাণ চান, তবে অবশ্যই যার যার অবস্থান  থেকে সাধ্যমতো দুস্থ, গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। মানবতার মানবসেবার মতো মহৎ ও কল্যাণকর কাজ আর পৃথিবীতে কিছু নেই। সরকারের ভুল ধরার সময় এখন নয়। একটা কথা প্রায় আমার মনে হয় জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছেন বলে আমরা নিরাপদ বোধ করছি। এর কারণ অত্যন্ত পরিষ্কার। নতুন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। জননেত্রী  শেখ হাসিনা বারবার ক্ষমতাসীন হয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি দুঃখী মানুষের  নেত্রী। তিনি সবসময় জনগণের কল্যাণ ও অগ্রগতি চান। বিপদে-আপদে সবসময় জনগণের পাশে থাকেন। জনগণের জন্যই তার রাজনীতি। অবশ্য রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সবকিছুই যে জনগণের জন্য যথার্থ হয়ে থাকে, তাও নয়- কিছু কিছু ভুল-ভ্রান্তি তার হতে পারে। তবে তা কিন্তু জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি নয়। বিরোধী দলগুলো শুধু সরকারের সমালোচনাই করে থাকে। ভালো কাজ তাদের  চোখে পড়ে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতি  মোকাবিলায় অঘোষিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং এই যুদ্ধে জয়ী হতেই হবে। আজ নামিদামি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সবাই  শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন। সাহসী ও দূরদর্শী  নেতৃত্ব আছে বলেই আমরা আশা করি করোনা সৃষ্ট মহাদুর্যোগ  মোকাবিলা করে সরকার উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সফলকাম হবেন। এটা বাজেটের ওপর  কোনো মতামত বা পরামর্শ নয়। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকেই সামান্য কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।  দেশের বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ, পরামর্শক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠন এবং মহান সংসদের সম্মানিত সদস্যরা জাতির এই চরমক্রান্তিকালে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ দিয়ে একটি জনকল্যাণ ও গণমুখী বাজেট পাস করবেন সেই প্রত্যাশা করছি। আমার লেখা  শেষ করার আগে মার্কিন অর্থনীতিবিদ নোবেল বিজয়ী রোবাট জে শিলারের (২০১৩ সালে) তার একটি মতামত দিয়েই লেখা শেষ করছি। তিনি বলেছেন, সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির গতি পরিবর্তিত হয়। বেশিরভাগ সময়ে হয় যুদ্ধের সময়। এবার শক্ত কোনো বিদেশি আক্রমনকারী নয়, বরং একটা ভাইরাস। যুদ্ধ যেমন এক পক্ষের সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসে তেমন এই ভাইরাসটিও বিশ্বের সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে। ধনী রাষ্ট্রের জনগণ দরিদ্র দেশটির মতোই বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের অবস্থাটা বুঝতে পারছে। সব রাষ্ট্রই এই যুদ্ধে একই পক্ষে আছে। এ কারণে সামষ্টিকভাবে ঝুঁকি প্রশমনের উদ্যোগ শুরু হতে পারে। যথাযথ পদক্ষেপে আগামীতে বৈষম্য কমবে। লেখক ঃ রাজনীতিক ও কলাম লেখক

আরো খবর...