করোনাকালেও সামাজিক অবক্ষয়

নভেল করোনাভাইরাস। চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হওয়ার পর এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে। প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যা তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের হার। ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস ধরা পড়লেও এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লাখের অধিক আর মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি। গোটা পৃথিবী এখন ব্যস্ত করোনাযুদ্ধে। এমন অবস্থায় থমকে আছে পুরো পৃথিবী স্থবির অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসায়নীতি।  থেমে থাকা স্থবির অর্থনীতিকে কিছুটা সচল করতে নানারকম কৌশল প্রয়োগে ব্যস্ত অর্থনীতিবিদরা। দেশজুড়ে বেড়েই চলেছে করোনার প্রাদুর্ভাব সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধর্ষণ, দুর্নীতি, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ। দেশের দারিদ্র্যসীমার তলদেশে থাকা অর্থনীতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছানোটা এখন বড় চ্যালেঞ্জিং। শুধু করোনাকালে নয়, ধর্ষণ, দুর্নীতি, মাদক এসব থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সবচেয়ে যেটা বেশি প্রয়োজন তা হলো শক্ত সামাজিক কাঠামো। যা দুর্নীতি আর ধর্ষণে জর্জরিত এ দেশে নেই। শক্ত সামাজিক কাঠামো  যেখানে দরকার সেখানে দিন দিন বাড়ছে ধর্ষণ আর দুর্নীতির হিংস্র কালো  ছোবল। সম্প্রতি করোনাকালে ধর্ষণ অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। সম্প্রতি করোনাকালে ধর্ষণ অতীতের যে কোনো রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। নগ্নতা, অতৃপ্ত  যৌন আকাঙ্খা, অবাধ যৌনতায় ঘেরা রাস্তার পাশের দেয়ালে নগ্ন পোস্টার, ফুটপাতের অশ্লীল ছবি, যৌন উত্তেজনামূলক অবৈধ বইয়ের রমরমা ব্যবসা, অশ্লীল প্রদর্শন, বস্নু ফ্লিম, বিভিন্ন পর্নোসাইড অবাধে ব্যবহার, দুর্বল পারিবারিক বন্ধন, নিজ ধর্মচর্চা থেকে দূরে থাকা, সমাজের প্রভাবশালীদের অদৃশ্য হস্তক্ষেপ বর্তমান করোনাকালে ও ধর্ষণের মহোৎসাহ জোগায়। ধর্ষণের আরও একটি কারণ হলো- প্রাপ্ত বয়সে ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যাপারে অভিভাবকদের উদাসীনতা। করোনাকালে মানুষ গৃহবন্দি এমন অবস্থায় কর্মহীন জীবন পার করছে সবাই। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের আখড়া, সম্প্রতি করোনাকালে ধর্ষণের কারণ মানুষ কর্মহীন আর কর্মহীন মানুষের মস্তিষ্কে নানারকম অপরাধ বাসা বাঁধে তার মধ্যে মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতা ও ধর্ষণের মনোভাব তৈরি উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ১৭ জুন প্রদত্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় গত তিন মাসে দেশে ৪৮০ জন নারী ও শিশু সহিংসতার স্বীকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৭ জন মহিলা ও ২১৩ জন শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে ৯০ জন মহিলা এবং ১১৩ জন শিশু। বর্তমান বাংলাদেশে ধর্ষণ একটি বড় সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন নারী বা শিশু ধর্ষণের স্বীকার হওয়ার পর আদালতে বিচার প্রার্থনা করলে ও বহুলাংশে ধর্ষিতার স্বীকার ওই নারীর নাজেহাল অবস্থা হয় ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ সহজে করা গেলে ও বিচারে জটিলতা তৈরি হয়। বিচারব্যবস্থাকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে ক্ষমতাশীল মহল অদৃশ্য হয়ে বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ করে থাকে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় ধর্ষিতার স্বীকার ওই নারী ও তার পরিবারকে। তারপরও বিচার আদালত পর্যন্ত গেলেও বিচারকালে ধর্ষিতা নারীর যৌন সম্পর্কে অতীত আচারণ ব্যাখ্যা করে সংকোচবোধ  তৈরি করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯ ধারায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড রাখা হয়েছে। ধর্ষণের প্রতিকার *আমাদের মন-মানসিকতা সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে এবং ধর্ষণ রোধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। *পারিবারের উচিত এরকম কোনো জঘন্য অপরাধে পরিবারের সদস্যরা যেন লিপ্ত না হয় সেদিকে নজর রাখা। আর ধর্ষিতার স্বীকার হলে তথ্য গোপন না করে যথাযথ বিচারের দাবি করে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা। *কঠোর আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ক্ষমতাসীন মহলের হস্তক্ষেপ এ যেন বিচারব্যবস্থার গতি রোধ বা গতি পরিবর্তন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। *বিচারহীনতা আর ভয়ের যে অপসংস্কৃতি আছে এ দেশে তা থেকে জনগণকে সচেতন হয়ে এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

 

আরো খবর...