কবি ও ছড়াকার নাসের মাহমুদের ইন্তেকাল

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কবি ও ছড়াকার নাসের মাহমুদ মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে স্বতন্ত্র  বৈশিষ্ট্যের অধিকারী সত্তরের দশকের জনপ্রিয় ছড়াকার নাসের মাহমুদের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪। স্ত্রী ও দু’সন্তান কুশল ও সুফল কবির পাশে ছিলেন। ছড়াকার নাসের মাহমুদের ভাই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি  মেজর জেনারেল মতিউর রহমান জুয়েল। অন্য ভাইয়েরা ব্যবসায়ী ও আমেরিকা প্রবাসী। ছড়াকার নাসের মাহমুদ ছিলেন ছড়া-কবিতার কুশলী কারিগর। ছন্দের আধুনিকতা ও বিষয়  বৈচিত্রে তাঁর দক্ষতা লক্ষণীয়। ১৯৫৬ সালের ১লা জুলাই তিনি পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম শাহ লুৎফর রহমান ও মা সুফিয়া রহমান। পৈতৃক বাড়ি রাজবাড়ী জেলার পাংশার উপজেলার ভাতশালা গ্রামে। তাঁর জীবনের সিংহভাগ কেটেছে কুষ্টিয়ায় তাঁর প্রিয় শহরে। পাংশার ভাতশালা তাঁর প্রিয় গ্রাম।নাসের মাহমুদের ছেলেবেলা ও কৈশোর কেটেছে করাচি, কোয়েটা, লাহোর, মুলতান, পেশোয়ার, ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুরের ধনাগোদা তালতলী ও রাজবাড়ীর ভাতশালা গ্রামে। একুশে টেলিভিশনের হেড অফ ইনপুট ড. অখিল পোদ্দার আরও জানান, কবি নাসের মাহমুদকে আমরা জানতাম সক্রেটিস হিসেবে।  যেকোন সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি তা হাসিমুখে সমাধান করে দিতেন এবং যথাযথ যুক্তি দিয়ে। তিনি ছিলেন প্রখর জ্ঞানের অধিকারী এবং প্রবল যুক্তিবাদী। পড়াজানার গন্ডি ছিল বিশাল। এখন তিনি মহাকালের আদিঅন্তহীনতায় সমর্পিত। কিন্তু তাঁর আলো চারপাশে  প্রোজ্জ্বলিত। করোনাকাল শেষ হলে বিশেষ সময়ে তাঁর গুণগ্রাহীদের সঙ্গে কথা বলে স্মরণসভার আয়োজন হবে।  ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন নাসের মাহমুদ। ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন,  খেলাঘর, উদীচী ও অঙ্গীকার চলচ্চিত্র সংসদ যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রথম সারির নেতাও ছিলেন তিনি।  নাসের মাহমুদ বাংলাদেশ ছড়া একাডেমীর উদ্যোক্তা পরিচালক। বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমী (চট্টগ্রাম), বাংলাদেশ লিমেরিক সোসাইটি (চট্টগ্রাম), লালন একাডেমী (কুষ্টিয়া), বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি (কুষ্টিয়া)-র জীবন সদস্য ও বাংলাদেশ রাইটার্স কপিরাইট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক। নাসের মাহমুদ ছড়া সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্মৃতিপদক ও বিশেষ সম্মাননা ২০১৪ লাভ করেন।  তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ২৭টি। এর মধ্যে, ছড়ার বই ১২টি, কবিতা ও ছড়াকাহিনীর বই একটি করে, যৌথছড়ার বই ৩টি ও সম্পাদিত বই ১০টি।ছড়াকার নাসের মাহমুদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে কুষ্টিয়া এবং সে গন্ডি পেরিয়ে তার তীর্যক ছড়াগুলো ঢাকা পর্যন্ত যে প্রতিবাদী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল তা তার সমসাময়িক কবি, ছড়াকাররা খুব কমই করতে পেরেছিলেন। তাঁর রম্য, মিঠেকড়া ছড়া এদেশের সাহিত্যের ছড়া শাখাকে শুধু পুষ্টই করেনি, সৃস্টি করেছে নতুন আনন্দমোহন ক্ষেত্র। তার কবিতার হাতটিও ভিন্ন দ্যোতনার।  ছড়াকারের আছে মৌলিক অনেক শিশুতোষ ছড়ার বই। বড়দের জন্যও আছে  বেশ কয়েকটি কবিতা গ্রন্থ। এপার বাংলা ওপার বাংলার কবিদের, গদ্য  লেখিয়েদের গল্প নিয়েও তার সম্পাদিত কিছু গ্রন্থ আছে। এদেশের প্রায় সকল  দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকায় প্রচুর লেখা আছে তাঁর। বাম ঘরানার নাসের মাহমুদ সাম্যবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখতেন। নাসের মাহমুদ শেষ বয়সে নাসের স্নায়ুরোগ এবং স্মৃতিভ্রস্টতায় ভুগছিলেন।

আরো খবর...