কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে

ত্রাণ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের জন্য তিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও চার ইউপি সদস্যকে (মেম্বার) সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার এই সাত চেয়ারম্যান ও  মেম্বারকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আলাদা আলাদা আদেশ জারি করা হয়েছে। এদের কেউ ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের সরঞ্জামাদিসহ পুলিশের কাছে হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন, কেউ ভিজিডি কর্মসূচির প্রায় সাড়ে ৭ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে প্রমাণিত এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা চাল আত্মসাতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, কেউ ভিজিএফের (মৎস্য) চাল বিতরণে অনিয়ম, জেলেদের ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে সরকারি চাল আত্মসাৎ এবং সরকারি সহায়তা প্রদানের নামে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। আবার কেউ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড দেয়ার নাম করে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে পলাতক থাকায় বরখাস্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত শতাধিক জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে ইউপি  চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, জেলা পরিষদ সদস্য, পৌর কাউন্সিলর এবং উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানও রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট হলো- ত্রাণের সুষ্ঠু বণ্টন হয়নি। ত্রাণের চাল-তেল আত্মসাৎ করা হয়েছে। ভিজিডি ভিজিএফের কর্মসূচী নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের কাছ  থেকে হাজার হাজার বস্তা চাল এবং শত শত বোতল ভোজ্যতেল উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি ত্রাণের সুষ্ঠু বণ্টন হওয়া জরুরি। এটা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। মনে রাখতে হবে, দুর্যোগকালে কর্মহীন গরিব মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অবশ্য কর্তব্য। করোনাভাইরাসের মতো দুর্যোগে সারা দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ত্রাণ সহায়তা সরকার অব্যাহত রেখেছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ। এ পর্যন্ত সারা  দেশে প্রায় দেড় কোটি পরিবারের সাড়ে ৬ কোটি মানুষকে ত্রাণের চাল দেয়া হয়েছে। এটা সত্য, টানা ৬৬ দিন দেশ লকডাউনে থাকার কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিল। দৈনিক  রোজগার করতে না পেরে থমকে গিয়েছিল তাদের জীবনযাত্রা। এমন পরিস্থিতিতে সরকার তাদের পাশে দাঁড়ায়। তবে দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের তালিকা প্রণয়নে দলীয়করণের অভিযোগ  তোলা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। এসব মানুষের মধ্যে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করতে সরকার সারাদেশে যেসব চাল বরাদ্দ করেছে এসব চাল বিতরণের জন্য তৈরি করা তালিকা নিয়ে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ গরিবের ত্রাণ মেরে খাওয়া বড় অপরাধ। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী থাবায় আতঙ্কিত মানুষ। দেশে প্রতিদিন বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এ সংকটের সময়ে ত্রাণের সুষ্ঠু এবং সমন্বিত বণ্টন প্রয়োজন। সরকার কর্তৃক হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ যারা আত্মসাৎ করছেন তাদের কেবল বরখাস্ত নয়, কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কারণ গরিবের ত্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার তাদের নেই। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে অন্যদিকে দেশের হতদরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পিত ও কার্যকর উদ্যোগই কেবল পারে এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।

আরো খবর...