এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তহবিলে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংস্থাটির প্রধান ডা. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে সে চিঠি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। গত ডিসেম্বর থেকে নতুন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকার তীব্র সামলোচনা করে চিঠিটি লিখেছেন ট্রাম্প। তিনি সংস্থাটিকে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ দেখাতে হবে সংস্থাটিকে। তা না হলে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেবে। এর আগে, দিনের প্রথম ভাগে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটির তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ‘চীনের হাতের পুতুল’ বলেও উল্লেখ করেন। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় লড়বেন ট্রাম্প। কিন্তু করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় দেশে তুমুল সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তিনি। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিপর্যস্ত অর্থনীতি ও বেকারত্ব বৃদ্ধি। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে মাহামারির জন্য চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে লাগাতার দোষারোপ করতে শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮ লাখ। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে মারা গেছে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যখন নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছে, তখনই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্থায়ী তহবিল বন্ধের হুঁশিয়ারি এলো। মহামারি মোকাবিলায় সংস্থাটির পদক্ষেপ যথেষ্ঠ ছিলা কিনা সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়নের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ডা. আধানম। ‘যথাযথ সময়ে সে মূল্যায়ন হবে’ বলে জানিয়েছেন তিনি। জেনেভায় সোমবার থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো অনলাইনের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। সম্মেলনের শুরুর দিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার ভাষণ দিয়েছেন। কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যথাযথ পদক্ষেপের অভাবেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে’ এবং ‘বহু মানুষের’ মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্পের চিঠির বড় অংশজুড়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে চীনের ‘সম্পর্ক’ নিয়ে কড়া কথাবার্তা রয়েছে। চীনের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্বাধীনতা ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। উহান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যেসব কথাবার্তা বলে আসছেন তাতেও সংস্থাটি কোনো পাত্তা দিচ্ছে না বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এসব বিষয় ৩০ দিনের মধ্যে সমাধান করতে সংস্থাটিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের তত্ত্ব অনুযায়ী, চীনের উহান শহরের ল্যাব থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি। তবে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। গত ১৪ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে সাময়িকভাবে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার অভিযোগ, করোনাভাইরাস মহামারি সম্পর্কে চীন যেসব ‘মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে তাতে সহযোগিতা করেছে’ জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি। মহামারি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। এসব বিষয়ে সংস্থাটির পদক্ষেপ পর্যালোচনা করে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া সংস্থাটিকে ‘চীনঘেঁষা’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। গত শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর বদলে দেশটি আংশিক অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এতদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি প্রতি বছর ৪০ কোটি ডলার দিত সংস্থাটিকে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থায়নের পরিমাণ হতে পারে ৪০ কোটি ডলারের ১০ ভাগের এক ভাগ। এই খবর আসার এক সপ্তাহ না যেতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিলে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।

আরো খবর...