এক কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ

মানুষ ও পরিবেশ এই শব্দ দুটোর মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পরিবেশের মধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশ একটি উজ্জ্বল দিক- যা মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি প্রধান দিক বৃক্ষ। জীবন ও পরিবেশ বাঁচানোর ক্ষেত্রে বৃক্ষের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ মানুষই এখন বৃক্ষের প্রধান শক্রতে পরিণত হয়েছে। যত্রতত্র বৃক্ষ নিধন করা হচ্ছে। বন উজাড় করে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। আরও কত কী। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক সংবাদ হলো, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে। ওই দিন সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এই কর্সসূচির উদ্বোধন করার পর প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে একটি করে ফলদ ও ঔষধি চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারা রোপণ শেষ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকারের পক্ষ থেকে এসব চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে চারা বিতরণ করা হবে। কে কোথায় গাছ লাগাবেন এবং কারা এসব গাছের চারা পাবেন তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে সভায় ঠিক করা হয়েছে। এক কোটি গাছের চারার মধ্যে ৫০ শতাংশ ফলজ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী। কোনো বিদেশি প্রজাতির গাছের চারা লাগানো হবে না। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ২০ হাজার ৩২৫টি করে বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ বিতরণ করতে বন বিভাগের নার্সারিগুলোতে সেগুলো উৎপন্ন করা হয়েছে।  আমরা মনে করি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সরকারের এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। তবে চারা লাগানোই শেষ নয়, একটি চারাও যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সে জন্য করতে হবে এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এটা একটা অনন্য উদ্যোগ। সুস্থ জীবনের জন্য বৃক্ষ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নির্মল বায়ু ও অক্সিজেন দান করে বৃক্ষ। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করি। মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কটা মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই। তবে প্রকৃতি বনাম মানুষের লড়াইটা শুরু হয়েছে তখনই, যখন মানুষ নিজেদের নগ্ন স্বার্থ হাসিলের জন্য বৃক্ষ নিধন শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি যদি সচেতন ও উদ্যোগী না হন, বৃক্ষের মর্ম উপলব্ধি করতে না পারেন, তা হলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষিত হবে কীভাবে, আর কীভাবেই বা মানুষ সুস্থভাবে জীবনযাপন করবে। দেশের জনসাধারণ ও সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগই কেবল পারে  দেশ আবার বৃক্ষ শোভিত হয়ে সমৃদ্ধ হতে। এ ক্ষেত্রে নগরকেও এই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। যে করেই  হোক বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ দেশ আমাদেরই  রেখে যেতে হবে। সে লক্ষ্য নিয়ে আমাদের অগ্রসর হওয়া উচিত।

 

 

২২

 

 

আরো খবর...