উন্নত চিকিৎসায় ‘সম্মতি দেননি’ খালেদা

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতি মামলায় দ-িত খালেদা জিয়া মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ নিতে সম্মতি দেননি বলে আদালতকে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বৃহস্পতিবার নাকচ করেদেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কেএম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় খালেদার জামিন আবেদন নাকচ করে গত ১২ ডিসেম্বর এক আদেশে আপিল বিভাগ বলেছিল, বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দুই মাসের মাথায় নতুন করে জামিন আবেদন করার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি নির্দেশনা চান হাই কোর্টের কাছে। এই প্রেক্ষাপটে গত ২৩ ফেব্র“য়ারি শুনানি করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের উপাচার্যকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়া সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিয়ে থাকলে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না, শুরু হয়ে থাকলে সর্বশেষ কী অবস্থা- তা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের জেনারেলের মাধ্যমে আদালতকে জানাতে বলা হয়। সে অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের পাঠানো প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। পরে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক তা পড়ে শোনান। সেখানে বলা হয়, খালেদা জিয়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও প্রতিস্থাপনজনিত হাঁটুর ব্যথায় (অস্টিও-আরথ্রাইটিস) ভুগছেন। অন্য সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকালেও অস্টিও-আরথ্রাইটিসের ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ শুরুর বিষয়ে তিনি সম্মতি দেননি। এমনকি সেই চিকিৎসকার জন্য যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার, সেগুলোও করা যাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদালতেকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কেন সম্মতি দেননি, সেটা জানতে তার সঙ্গে কথা বলতে চান তিনি। সেজন্য সময়ের আবেদন করে তিনি জামিন প্রশ্নে আদেশের বিষয়টি রোববার পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। তবে তাতে সাড়া না দিয়ে বিচারক বলেন, খালেদা জিয়া কেন সম্মতি দেননি, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তার জামিনের বিষয়ে বেলা ২টায় আদেশ দেওয়া হবে।

আরো খবর...