ঈদুল আযহায় মাদকসহ সকল প্রকার নাশকতা রোধে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে কুষ্টিয়া পুলিশ

মাঠে রয়েছে পুলিশের একাধিক টিম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পবিত্র ঈদুল আযহায় যাতে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সে জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুষ্টিয়া পুলিশ। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাতের নির্দেশে জেলার ৭ থানার পুলিশ এরই মধ্যে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। পাশাপাশি মাঠে নেমেছে জেলার  গোয়েন্দা পুলিশও। যে কোন মূল্যে পুলিশ জেলার আইন-শৃঙ্খলার স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

আর একদিন বাদেই খুশীর ঈদ। যদিও করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মানুষের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। তারপরও মানুষ নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী ঈদ উৎযাপনের প্রস্ততি নিচ্ছে। ঢাকাসহ জেলার নানা প্রান্তে কর্মরত এ জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ ইতিমধ্যে নাড়ীর টানে এলাকায় ফিরেছেন। এবারের ঈদে যাতে জেলায় এ ধরণের কোন ঘটনা না ঘটে। যাতে মানুষ নির্বেঘেœ পবিত্র ঈদুল আযহা উদাযাপন করতে পারে, তাদের পশু কোরবানী দিতে পারে। সেটা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ভারত সীমান্ত ঘেঁষা জেলা হিসেবে এখানে মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের তৎপরতা নতুন কিছু নয়। আর ঈদ এলে এই চক্রের তৎপরতা আরো বেড়ে যায়। পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইসহ নাশকতামূলক ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা থাকে ঈদে। সূত্র বলছে এবারের ঈদে জেলার দৌলতপুর থেকে খোকসা, হরিপুর থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। এদিকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভির আরাফাত এবার কুষ্টিয়া পৌর এলাকার জন্য পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম গঠন করেছেন। এসব টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। তারা চষে বেড়াচ্ছে শহরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। পাশাপাশি জেলার ৭টি থানা তথা দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, সদর, কুমারখালী, খোকসা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসিদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ সুপার। এ নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার জেলা ৭টি থানায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মাদকসহ সকল প্রকার নাশকতা রোধে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে কোন কোন থানা এলাকায় শোভাযাত্রায়ও বের করা হয়।

ঢাকা থেকে গ্রামের কুষ্টিয়ার আলামপুরে পরিবারের সাথে ঈদ করতে এসেছেন গার্মেন্ট কর্মী আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, অনেকদিন পর এলাকায় ফিরে ভাল লাগছে। কারণ, এক সময় এসব এলাকায় চরমন্থীদের আনাগোনা থাকলেও এখন তারা শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন, নির্বেঘেœ চলাচল করতে পারছেন। তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলার এ সদিন আনা সম্ভব হয়েছে। জেলার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ঈদ আসলে ভয়ে ভয়ে দিন কাটত, এই বুঝি গরু চুরি হয়ে গেল, এই বুঝি ছেলের মোটর সাইকেলটা ছিনতাই হয়ে গেল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আলাদা। প্রতিদিন পুলিশ এলাকায় টহল দিচ্ছে। আশা করছি এবার এলাকায কোন দুর্ঘটনা ঘটবে না। কবলিত এলাকা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরফাত এ ব্যাপারে বলেন, কুষ্টিয়া জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক ভাল অবস্থায় রয়েছে। জেলা পুলিশ যে কোন মূল্যে এ অবস্থা ধরে রাখতে চায়। তিনি বলেন, করোনার কারণে এবারের ঈদুল আযহা ততটা বড় পরিসরে হচ্ছে না। তবে জেলা পুলিশ এই উৎসবকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এই লক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঢেলে সাজানো হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ৭ থানার ওসিদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের টিম এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে। ঈদ উৎসব শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ এই তৎপরতা চালিয়ে যাবে। পুলিশ সুপার এ ব্যাপারে জেলার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

আরো খবর...