ইসলামে কৃষিকাজের গুরুত্ব

কৃষি প্রতিবেদক ॥ মানুষ মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছে, আবার মাটিতেই মিশে যাবে। এ মাটিতে চাষাবাদ করে তার ফসল খেয়ে মানুষ বেঁচে থাকে। পানির অপর নাম যেমন জীবন তেমন মাটির অপর নামও জীবন। জন্মে যেমন মাটি প্রয়োজন তেমন মৃত্যুর পরও মাটি প্রয়োজন। এ মাটিতে চাষাবাদ করে অন্নের ব্যবস্থা করার নাম হচ্ছে কৃষি। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যারা পরকালের উপযোগী চাষাবাদ করবে তারাই কামিয়াব হবে। যে কৃষক যত বেশি পরিশ্রমী, মনোযোগী এবং পরিচর্যাকারী সে তত বেশি ফসল ফলাতে পারে এবং ফলনের ওপর তার সচ্ছলতা নির্ভর করে। পৃথিবীর একমাত্র আদি পেশা কৃষি শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। হজরত আদম (আ.) প্রথম কৃষক। প্রায় সব নবী-রসুল (আ.)-ই কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পৃথিবীর সব সহায় সম্পত্তি, জৌলুস মাটি থেকে উৎপন্ন। শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল মাটি  থেকে আসে। এ মাটি নিয়ে মানুষের লীলাখেলা। মানুষের জীবনটা একটা কৃষি ক্ষেত্রের মতো। যে যত বেশি পরিচর্যা করবে, আগাছা দমন করবে, সঠিক সময়ে সঠিক যতœ নেবে সে তত বেশি লাভবান হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর সৃষ্টিকুলে একমাত্র মানুষকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিয়েছেন। অন্য প্রাণিকুল থেকে মানুষ সম্পূর্ণ আলাদা, ব্যতিক্রমী। আকৃতি-প্রকৃতি, আচার-আচরণ, বিশ্বাস-সংস্কৃতিতে কোনো প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্য নেই। মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি। মানুষকে আল্লাহ বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন, তাকে কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষের মাধ্যমে তিনি পৃথিবীকে সুন্দর করে গুছিয়েছেন এবং আবাদ করে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। মানুষ  ফেরেশতা নয়। ফেরেশতাদের কোনো ওজর-আপত্তি, সুবিধা অসুবিধা, রুচি, অনীহা-ক্লান্তি নেই এবং মানুষের মতো ঘর-সংসার, দুঃখ-সুখ, খাবার-দাবার,  জৈবিক চাহিদাও নেই। মানুষ আর পশু-পাখির মধ্যেও বিস্তর ব্যবধান। পশু-পাখি দিন আনে দিন খায় এবং নিজের আহার জোগাড় করে, পরের জন্য তাকে ভাবতে হয় না। এখানেই মানুষের সঙ্গে তার বিরাট পার্থক্য। মানুষ সামাজিক জীব। তার ওপর অনেক দায়িত্ব বর্তায়। নিজের, পরিবারের, সমাজের, দেশের, জাতির জন্য তার অনেক করণীয় আছে। মানুষকে শুধু নিজের পেট পুরে খেলে চলে না আর দশ-বিশটি পেটের ব্যবস্থা করতে হয়। ভালো খেতে হয়, রসনা তৃপ্ত করতে হয়, ভালো চলতে হয়। আর এসব করার জন্য তাকে পরিশ্রম করতে হয়। হালাল খাওয়ার মতো হালাল রুজির অন্বেষণ করা ইমানের দাবি। কৃষি হচ্ছে সৃষ্টিকুলের বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। আল্লাহ সুরা নাহলের ৫ নাম্বার আয়াতে বলেন, ‘তিনি পশুকুল সৃষ্টি করেছেন। এগুলোতে রয়েছে তোমাদের জন্য শীত নিবারক উপকরণ ও বহু উপকার। আর তা থেকে তোমরা আহার্য পেয়ে থাক।’ একই সুরার ১৪ নাম্বার আয়াতে তিনি বলেন, ‘তিনি জলরাশিকে অধীন করে দিয়েছেন যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাছ আহার করতে পার।’ সুরা আবাসার ২৪ ও ৩২ আয়াতে রয়েছে- ‘মানুষ খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমি তো অঝর ধারায় বৃষ্টিবর্ষণ করেছি। অতঃপর মাটিকে বিদীর্ণ করেছি। আর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্যাদি। আংশুর, শাক-সবজি, জলপাই, খেজুর, বহুবৃক্ষবিশিষ্ট বাগান ফল-ফলারি ও ঘাস। এসব তোমাদের ও পালিত পশুকুলের জীবনধারণের জন্য।’ সুরা মুলকের ১৪ নাম্বার আয়াতে বলেছেন, ‘তিনিই তোমাদের জন্য মাটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা এর দিগ্দিগন্তে বিচরণ কর এবং তার দেয়া রিজিক আহার কর। পুনরুজ্জীবন তাঁরই কাছে হবে।’

আরো খবর...