ইভিএম বুথে কেউ যেন জোর করে না ঢোকে – শাহ নেওয়াজ

ঢাকা অফিস \ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ সহজ হলেও জোর করে কেউ বুথে ঢুকে জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ। তাই ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের সময় এই দিকটির দিকে নজর রাখার আহŸান জানিয়েছেন তিনি। আগামী ১ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণই হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে। এই নির্বাচন ধরে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম নামের একটি সংগঠন। ৩১টি নিবন্ধিত ও ২৫টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে এই ফোরামে। এবারের নির্বাচনে এর মধ্যে ১০টি সংগঠনের ৫০০ পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ আবেদ আলী। কর্মশালায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ বলেন, বর্তমানে যে ইভিএম পদ্ধতি চালু হয়েছে, প্রযুক্তির আধুনিকায়নের এই যুগে তা প্রয়োজন ছিল। “কিন্তু এখন পর্যন্ত ইভিএম নিয়ে যা শোনা যাচ্ছে তা হল, একজন ভোটারের ভেরিফিকেশন হওয়ার পর অন্য কেউ দৌড়ে বুথে ঢুকে ভোট দেওয়ার আশঙ্কা। পর্যবেক্ষকদের এই দিকে নজর রাখতে হবে।” “ইভিএম নিয়ে এই মুহূর্তে সমালোচনাকারীদের এটাই সবচেয়ে বড় অভিযোগ। তাই পর্যবেক্ষকদের এই দিকে দৃষ্টি দিতে হবে,” বলেন তিনি। এক দশক আগে এটিএম শামসুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশে ইভিএমে ভোটগ্রহণের সূচনা করে। পরবর্তী কাজী রাকিব উদ্দিন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশন তা নিয়ে বেশি এগোয়নি। ওই কমিশনেই সদস্য ছিলেন সাবেক জজ শাহ নেওয়াজ। কাজী রাকিব কমিশনের পর দায়িত্ব নেওয়া কে এম নূরুল হুদা কমিশন স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইভিএমে ভোটগ্রহণের পক্ষে থাকলেও বিএনপি এর বিরোধিতা করে আসছে। তারা বলছে, এই ইভিএমে পেপার ট্রেইল না থাকায় জালিয়াতির সুযোগ বেশি। কর্মশালায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের একটি কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় বসে না থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ঘোরার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “কেউ অন্যায় ও অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করছে কি না, পর্যবেক্ষকদের কাজ হবে সেই বিষয়টি দেখা। এই ক্ষেত্রে কখনই বিতর্কে জড়ানো যাবে না। পর্যবেক্ষকদের কিছু বলার থাকলে তা বলতে হবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে।” দায়িত্বপালনকালে অনেক পর্যবেক্ষককে নিয়মভঙ্গ করে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে দেখার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই সাবেক কমিশনার। কর্মশালায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকেরই কোনো না কোনো দলের প্রতি সমর্থন থাকতে পারে, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন নির্বাচন পর্যবেক্ষককে দায়িত্ব পালনের সময় দল বা পক্ষ ভুলে যেতে হবে। কোনো প্রার্থীর প্রতিনিধির সঙ্গে খুব সখ্য দেখানো যাবে না। এবারের ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নেই উল্লেখ করে রিয়াজুল বলেন, নতুন এই প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বা¯Íবে তা খুব একটা দেখা যায়নি। পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কমিশন আপনাদের জন্য একটি গাইডলাইন ঠিক করেছে। সর্বদা তা অনুসরণ করেই কাজ করতে হবে। অন্যথায় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।” রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচয় গোপন করে ভোটার হওয়ার তথ্য তুলে ধরে কাজী রিয়াজ বলেন, “কোনো ভোট কেন্দ্রে এমন চিত্র দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে কমিশনকে জানাবেন।” কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশনের মনির হোসেন বলেন, পর্যবেক্ষকদের দেখা এবং সেই অনুযায়ী কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার বাইরে আর কোনো কাজ নেই। সুলতানা রাজিয়া নামের একজন বলেন, অনেকে বিভিন্ন সময় র্পযবেক্ষণ সংগঠনগুলোর কাছে পরিচয়পত্র নেওয়ার জন্য ধর্না দেন। “তারা অন্যের কার্ডের ছবি পরিবর্তন করে পর্যবেক্ষক হতে চান। তেই বোঝা যায়, পর্যবেক্ষণের নামে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অশুভ ইচ্ছা অনেকের থাকে। এধরনের লোককে পর্যবেক্ষক করা হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে।” খন্দকার ফারুক আহমেদ বলেন, “প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কেউ কেন্দ্রে প্রবেশ করার চেষ্টা করবেন না। নির্বাচন শুরুর আগে কিছু দাপ্তরিক কাজ হয়। সেগুলো দেখার জন্য পর্যবেক্ষকদের সকাল ৮টার আগেই কেন্দ্রে যেতে হবে।”

আরো খবর...