ইবি কর্মকর্তা রূপমের অপকর্ম বেড়েই চলেছে

গড়ে তুলেছে অবৈধ অর্থ সম্পদ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরে দু’টি জমির প্লট ক্রয়, ক্যাম্পাসের মরা গাছ কাটার সুযোগে মোটাতাজা গাছ কেটে ফাড়াই করে আসবাবপত্র তৈরি এবং কাঠ বিক্রি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আনসার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলণ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকান থেকে ফ্রি খাওয়া, ক্যাম্পাস লেকের মাছ বিক্রি এবং আনসারদের খাবার থেকে প্রতিদিন ফ্রি খাওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তার নাম মোঃ রোজদার আলী (রূপম)। তিনি বর্তমানে এস্টেট অফিসের অধীনে সিকিউরিটি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মোঃ রোজদার আলী (রূপম) চাকুরীর শুরু থেকেই দুর্নীতি করে আসছে। তিনি একজন সুস্থসবল মানুষ হয়েও ২০১০ সালে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে শ্রবণ প্রতিবন্ধি কোটায়  অর্থ ও হিসাব বিভাগে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে। বর্তমানে তিনি সহকারী হিসাব পরিচালক হলেও তাকে এস্টেট অফিসের সিকিউরিটি প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। চাকুরী পেয়েই তিনি তৎকালীন ভিসির পিএস সাইফুল আলমের সান্নিধ্য লাভ করে এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের অতি আস্তাভাজন হয়ে উঠে। আর এ সুযোগে তিনি বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পরে। দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তুলেছে অবৈধ অর্থ সম্পদ। তিনি ক্যাম্পাস কোয়াটারে পরিবারসহ বসবাস করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছেÑ ক্যাম্পাসের মরা গাছ কাটার সুযোগে মোটাতাজা গাছ কেটে ফাড়াই করে আসবাব পত্র তৈরি এবং কাঠ বিক্রি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আনসার  দেখিয়ে অর্থ উত্তোলণ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দোকান থেকে ফ্রি খাওয়া,  ক্যাম্পাস লেকের মাছ বিক্রি এবং আনসারদের খাবার থেকে প্রতিদিন ফ্রি খাওয়াসহ নানা অভিযোগ। ইতোমধ্যে তার গ্রামের বাড়ি পাকাকরণসহ কুষ্টিয়া শহরে দু’টি জমির প্লট ক্রয় করেছে এবং পরিবারের ব্যবহারে জন্য তৈরী করেছে মূল্যবান আসবাব পত্র।

অপর সূত্রে জানাযায়, ইবির বিভিন্ন অফিস ও শ্রেণিকক্ষে আসবাব পত্র ও বেঞ্চ তৈরী এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাস সৌন্দর্য বর্ধনের অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে এস্টেট অফিসের মাধ্যমে মরা গাছ কাটার নামে অসংখ্য মোটাতাজা গাছ কাটা চলছে। আর এ কাজের জন্য সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুব এবং এস্টেট অফিসের প্রধান সাইফুল আলমের নেতৃত্বে কিছু অসাধু শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি চক্র গড়ে উঠে।  সে চক্রের একজন সদস্য রূপম। তাকে গাছ ফাড়ায় করে কাঠ তৈরীর দায়িত্ব দেয়া হয়। রূপম সেই চক্রের যোগসাজসে কাটা গাছ ফাড়াইয়ের জন্য কুষ্টিয়া বটতৈল, বিত্তিপাড়া, হরিনারায়নপুরসহ বিভিন্ন স’মিলে নিয়ে আসে। সেখান গাছগুলো ফাড়াই শেষে নামমাত্র কিছু কাঠ ক্যাম্পাসে নিয়ে যায় আর বাকী কাঠ সেখানে এবং ক্যাম্পাস গেটের সামনে জনৈক এক কাঠ মিস্ত্রির নিকট বিক্রি করে। এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কাজ করে আসছে। শোনাযায় রূপম এখান থেকে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেছে। তার চাকুরীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সকল কর্মকান্ডের তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে সকল অপকর্ম এবং অবৈধ অর্থ উপার্জনের চিত্র।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, আমি ও রূপম এক সাথেই চাকুরী পেয়েছি। যে বেতন পাই, তাতে সংসার চালাতে আমার হিমসিম খেতে হয়।  লোন গ্রহণ ছাড়া কোন কিছুই করতে পারি না। কিন্তু রুপম মনে হয় আলাদিনের চেরাগ পয়েছে। দিন দিন অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। তার অপকর্ম বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, রূপম একজন দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা। তার কর্মকান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে। অতিদ্রুত তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে রূপমের সাথে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরো খবর...