ইবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

পবিত্র কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, শোকর‌্যালি, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং আলোচনাসভার মধ্যদিয়ে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। কালো পতাকা উত্তোলন করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান। ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ এসময় তাঁদের সাথে ছিলেন।

সকাল পৌনে ১০টায় প্রশাসন ভবনের সামনের চত্বর হতে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারারের উপস্থিতিতে ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রারসহ সকল হল, অনুষদ, বিভাগ, সকল পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন সমিতি, পরিষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন¦য়ে এক শোকর‌্যালি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতিসৌধে সমবেত হয়। এরপর শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শহীদ স্মৃতিসৌধে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমিতি, হল, অনুষদ, বিভাগ, বিভিন্ন পরিষদ, ছাত্র-সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। সভাপতিত্ব করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস ২০১৯ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন।  প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার সুদূরপ্রসারী একটা চিন্তা নিয়ে উচ্চশিক্ষাকে ঢেলে সাজাচ্ছেন। শিল্পবিপ্লবে ইতোমধ্যে উন্নত বৃটেনকে ছাড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রগামী করার জন্য দেশটির এমআইটি সফল হয়েছে। ঠিক সেরূপ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। শিক্ষা-গবেষণা-উদ্ভাবনে নিজেদেরকে ব্যাপকভাবে নিয়োজিত করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে নিজেকে প্রতিপাদন করতে গেলে আইসিটির কোন বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, বুদ্ধিজীবী হারানোর শোককে আমাদের শক্তিতে পরিণত করতে হবে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে তারা আমাদের মেধা-মননে যে শূন্যতা তৈরি করতে চেয়েছিল সেই শূন্যতা পূরণ করতে হবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হও, আমরা এই বিশ্বের আইসিটিকে আমাদের করায়ত্ত্ব করবো। বুদ্ধিজীবী হত্যার এই দিনে আমরা শোককে শক্তিতে পরিণত করে নবজন্ম লাভ লাভ করতে চাই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, আমাদের মধ্যে রাজাকার, আলবদর, আলশামস এখনও কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার তাদেরকে শক্ত হাতে দমন করার চেষ্টা করছে বলে তারা সরাসরি আমাদের সামনে আসতে পারছেনা। তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থান ঠেকাতে এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে। অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, পাক হানাদারবাহিনী যারা উর্দুতে কথা বলে তারা সুদূর পাকিস্তান থেকে এসে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, এটি ন্যক্কারজনক। কিন্তু এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করে, এই বাংলায় খেয়ে-পড়ে যারা বুদ্ধিজীবীদের এক-এক করে চিহ্নিত করে ধরা এবং হত্যায় সহযোগিতার যে নির্মম ঘটনাটি ঘটিয়েছিল তা আরও বেশি ন্যাক্কারজনক। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা যারা বিশ্বাস করি তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার সময় এসেছে। আলোচনাসভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ। আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক বনানী আফরীনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম (জোহা), সহায়ক কর্মচারী সমিতির যুগ্ম-আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, সহায়ক টেকনিক্যাল কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ সালাহউদ্দিন এবং সাধারণ কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

আরো খবর...