ইকামা-ভিসা থাকলে সবাই সৌদি যেতে পারবেন – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ যাদের ইকামা, ভিসা আছে, দেশে এসেছেন ছুটিতে, তাদের সবাই সৌদি আরব যেতে পারবেন, কোনো জটিলতা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। এর জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার ফরেন সার্ভিস একাডেমি সুগন্ধা’র নব নির্মিত কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে যুক্ত হয়ে এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সৌদির টিকিট ইস্যুতে কথা বলেন মোমেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের ইকামা আছে, সৌদিতে চাকরি আছে, কিন্তু দেশে এসেছিলেন, তারা সবাই ফেরত যেতে পারবেন। ভিসা নিয়ে কোনো জটিলতা হবে না। এর জন্য আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ইকামা থাকলে তাদের আবার ভিসা দেওয়া হবে। সৌদি প্রবাসীদের টিকিটের ভিড় নিয়ে মোমেন বলেন, যদিও বিষয়টি দুঃখজনক, কিন্তু যারা আগে থেকে টোকেন নিয়েছিলেন, তারা তো আগেই যাবেন। পর্যায়ক্রমে সবাই যাবেন। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এর আগে ফরেন সার্ভিস একাডেমির নতুন কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নিজ বক্তব্যে একে মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু দায়িত্ব গ্রহণের পর সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশ এখন জাতিসংঘে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্র্যান্ডিংয়ে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের ৫৯টি শান্তি মিশনের ৫৪টিতেই কাজ করছে বাংলাদেশ। আর এতে এক লাখ ৬৩ হাজার ১৮১ জন নারী ও পুরুষ শান্তিরক্ষী কর্মী কাজ করছেন। আজ আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় এবং বিদেশের মিশনের সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধি করেছি। বিদেশে অবস্থানরত যারা আছেন, তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন চালু করেছি। এই ভবন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হিসেবে কাজ করেছে। আজকের যে অর্জন তার শুরুর অনেক কিছুর সাক্ষী এই সুগন্ধা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোও বক্তব্য রাখেন। সার্কভুক্ত দেশগুলোকে নিবিড় সহযোগিতার আহ্বান: করোনা পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একসাথে কাজের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত সার্কভুক্ত দেশসমূহের ১৭তম অনানুষ্ঠানিক কাউন্সিল অব মিনিস্টার্সের এক সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে সম্মিলিত কল্যাণ সাধনের বিষয় উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি মার্চে অনুষ্ঠিত সার্ক নেতৃবৃন্দের বৈঠকে ঢাকায় একটি সার্ক জনস্বাস্থ্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনার কথা পুনরুল্লেখ করেন, যা পরবর্তীকালে করোনার মতো যেকোন জনস্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্কভুক্ত সব দেশকে সাহায্য করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের এই বছরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় কার্যকরী আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠাকল্পে সার্ক ফোরামকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গিওয়ালির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সার্কভুক্ত ৮টি দেশের সব পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। এ বছরের সভায় সার্কভুক্ত দেশেগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা করোনা মোকাবিলায় আঞ্চলিক প্রচেষ্টাগুলোকে পর্যালোচনা করেন ও করোনাকালে এ সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সার্কে নবশক্তি সঞ্চারণকল্পে সার্কের কর্ম পরিকল্পনা (প্ল্যান অফ অ্যাকশন) পর্যালোচনা ও তার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন আলোকপাত করেন। ড. মোমেন বলেন, করোনা সহযোগিতার আরও নতুন নতুন ক্ষেত্র ও সুযোগ যেমন তৈরি করবে তেমনি বর্তমানকালের অনেক ক্ষেত্রকেও আংশিকভাবে বা পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক বানিয়ে ফেলবে। তিনি করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য ও কৃষি, জনস্বাস্থ্য, আইসিটি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ- এসব খাতে আলাদা গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের মতো কিছু কার্যকরী বৈঠক অনুষ্ঠানের প্রতি সার্কের অন্যান্য দেশের মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন করোনা পরবর্তী সংকট উত্তরণকল্পে সার্কভুক্ত দেশসমূহের নিবিড় সহযোগিতার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেন সার্ক ভবিষ্যতে একটি গতিশীল ও কার্যকর আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে শক্ত অবস্থান করে নিতে পারে।

আরো খবর...