ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা বাটলার

ঢাকা অফিস ॥ এই তো, কিছুদিন আগেও ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে জস বাটলারের জায়গা নিয়ে তোলপাড় হলো অনেক। সেই বাটলার যখন খেলতে নামেন রঙিন পোশাকে, তিনিই দলের অপরিহার্য ও সেরা ক্রিকেটারদের একজন। ইংল্যান্ডেরই পেস বোলিং গ্রেট স্টুয়ার্ট ব্রড আবার আরেক ধাপ এগিয়ে। এই দলের সেরা তো বটেই, ব্রডের চোখে সীমিত ওভারে ইংল্যান্ডের সবসময়ের সেরা ক্রিকেটার বাটলার। ব্রডের এই স্তুতি বাটলার আরেকটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৫৪ বলে ৭৭ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংসে দলকে জিতিয়েছেন এই কিপার ব্যাটসম্যান। সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বাটলারের ২৯ বলে ৪৪ রানের ইনিংসে ইংল্যান্ড পেয়েছিল উড়ন্ত শুরু। এই সিরিজেই শুধু নয়, গত কয়েক বছর ধরেই সীমিত ওভারে অসাধারণ পারফর্ম করে আসছেন বাটলার। ইংল্যান্ডের ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়, গত কয়েক বছরে ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ছুটে চলায় বড় অবদান বাটলারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের। ওয়ানডেতে গত বছর তার ব্যাটিং গড় ছিল ৪৭.৬৪, স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৫৬। তার আগের বছর ১১৩.৫৩ স্ট্রাইক রেটে রান করেছিলেন ৫১.৬১ গড়ে! সব মিলিয়ে এই সংস্করণে তার ৩ হাজার ৮৪৩ রান এসেছে ১১৯.৮৩ স্ট্রাইক রেটে। ওয়ানডে ইতিহাসে ৩ হাজার রান ছোঁয়া ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার স্ট্রাইক রেটই সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টিতেও তিনি দুর্দান্ত ধারাবাহিক ও বিধ্বংসী। প্রায় দেড় হাজার রান করেছেন ১৪০ স্ট্রাইক রেটে। সাউথ্যাম্পটনে রোববার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংসটির পর ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান ও একসময়ের সীমিত ওভারের স্পেশালিস্ট নিল ফেয়ারব্রাদার টুইটারে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন বাটলারের। “ জস বাটলারের আরেকটি মাস্টারক্লাস! ইনিংসটির গতি, ছন্দ দারুণ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দলকে জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়াৃ একজন ব্যাটসম্যান তার কাজ করে যাচ্ছে দারুণ স্কিল ও বুদ্ধিমত্তায়ৃ অসাধারণ!!!”ফেয়ারব্রাদারের সেই টুইট শেয়ার দিয়েই সম্প্রতি ৫০০ টেস্ট উইকেট স্পর্শ করা ব্রড লিখেছেন, “ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা সাদা বলের ক্রিকেটার তার কাজ করেছে আবারও।” টি-টোয়েন্টিতে বরাবরই সেরাদের একজন বাটলার এখন আরও কার্যকর হয়ে উঠেছেন ওপেনিংয়ে উঠে আসার পর। ২০ ওভারের ক্রিকেটে ইনিংস শুরু করতে নেমে তার গড় ৫১, স্ট্রাইক রেট ১৫৭! ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারে এখন বাটলারের সঙ্গে আছেন জনি বেয়ারস্টো। সামনে চোট কাটিয়ে ফিরবেন জেসন রয়। ওপেনিংয়ে সুযোগের অপেক্ষায় আছেন অ্যালেক্স হেলস, টম ব্যান্টন। দাভিদ মালানও ওপেনিংয়ে পারফর্ম করেছেন। অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান তবু বাটলারকেই দেখতে চান ইনিংসের শুরুতে। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর বাটলার নিজেও জানালেন, এই পজিশনই তার বেশি পছন্দ।“ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই সম্ভবত আমার প্রিয় পজিশন। এখানে বেশ সাফল্য পেয়েছি আমি। আর সত্যি বলতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শীর্ষ তিন পজিশনই যে কারও জন্য ব্যাটিংয়ের সেরা জায়গা। প্রথম তিন পজিশনে ব্যাট করার সুযোগ পেলে লুফে নেওয়ার মতো আমাদের মনে হয় অন্তত ৮-৯ জন ব্যাটসম্যান আছে।” “ আমি এখানে সুযোগ পেয়ে খুবই খুশি। পাশাপাশি, দল আমার কাছে যা চায়, সেটি করতে পেরেও আমি খুশি। ওয়ানডে-টি-টোয়োন্টিতে অনেক ম্যাচ মিডল অর্ডারে খেলে, দল চাইলে সেখানে খেলতেও কোনো সমস্যা নেই। কোচ-অধিনায়কই এসব ঠিক করবেন।” টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরে যাওয়ার পর এখন শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো ও পরের ওয়ানডে সিরিজে তাকিয়ে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ান পেসার মিচেল স্টার্ক জানালেন, মূল বাধা মনে করছেন তারা বাটলারকেই।“ বাটলার এমন একজন, যাকে নিয়ে শেষ টি-টোয়েন্টিতে এবং অবশ্যই ওয়ানডে সিরিজের জন্যও খুব ভালো পরিকল্পনা করতে হবে। গত দুই ম্যাচে সে যেভাবে খেলছে, এমন খেলতে থাকলে, প্রতিপক্ষের কাজ কঠিন। দল হিসেবে এটা নিয়ে কথা বলতে হবে আমাদের।”

আরো খবর...