আহত হয়ে হাসপাতালে ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥  রংপুর উপনির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে গিয়ে পড়ে জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। ট্রাকে করে প্রচারের সময় তিনি পড়ে গিয়ে জখম হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান বিএনপি নেতারা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমানের পক্ষে প্রচারে গতকাল সোমবার দুপুরেই রংপুর গিয়েছিলেন ফখরুল। বিকালে নগরীর পায়রা চত্বরে একটি পথসভার পর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাপলা চত্বরে যাচ্ছিলেন ফখরুল। মিছিলের সামনে থাকা ট্রাকের উপর ছিলেন তিনি। ফখরুল একপর্যায়ে নিজেই মিছিলে স্লোগান ধরতে শুরু করেন; ওই সময় ভিড়ের মধ্যে ট্রাক হঠাৎ গতি কমাতে বাধ্য হলে ট্রাকের উপরেই পড়ে যান তিনি। তখন বিএনপি মহাসচিবকে কাছের প্রাইম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার অধ্যক্ষ নুরুল ইসলামই বিএনপি মহাসচিবের চিকিৎসা করেন বলে তার সঙ্গে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন। ফখরুলের বাম হাতে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। আঘাত পাওয়ার পর বাম হাতের তালু থেকে রক্ষক্ষরণ হচ্ছিল বলে শায়রুল জানান। বিএনপি মহাসচিবের সফরসঙ্গী সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসার পর ফখরুলর ‘সুগার ফল করেছিল’। চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রাম রেখেছেন। সন্ধ্যার পর বিমানে ফখরুলের ঢাকায় ফেরার কথা জানান স্বপন। হাসপাতালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, শামা ওবায়েদ ও তানভীরুল ইসলাম ছিলেন। এর আগে পায়রা চত্বর এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার ক্যাসিনোর মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করছে। অন্যদিকে জনগণের অধিকার হরণ করছে। আবার ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সব কিছু দখল করে নিয়েছে। এ সরকারের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা উপ-নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি শুধু গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আওয়ামী লীগ জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে আটকে রেখে দেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। তারা দেশে একদলীয় সরকার কায়েম করার জন্য এসব করছে। এ সময় মির্জা ফখরুল বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমানের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব, ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হাবিব- উন-নবী খাঁন সোহেল, রংপুর বিভাগীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলু প্রমুখ। রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে আগামি ৫ অক্টোবর। এই নির্বাচনে ধানের শীষের রিটার প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন জাতীয় পার্টির সাদ এরশাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহরিয়ার আসিফ। আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় নৌকার প্রার্থী এখানে নেই।

 

আরো খবর...