আশ্রয়নের ঘরে ঘরে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ত্রাণ  নিয়ে হাজির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা

আমলা অফিস ॥ করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রমজীবি মানুষ প্রায় অসহায় হয়ে পড়েছেন। সব চেয়ে বেশি দুর্ভোগে এখন খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ঘরে একবেলা খাবারের আশায় পথ চেয়ে থাকছেন সরকার ও বেসরকারী সাহায্যের জন্য। আবার সব খাদ্য সামগ্রী নিতে গিয়ে অনেকেই কষ্ট পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রামণের আশঙ্কাও। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা নিয়েছেন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। তিনি  খেটে খাওয়া এসব মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে নিজে হাতে খাবার নিয়ে দিয়ে আসছেন। দেশের শীর্ষ স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে তিনি মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে এসব খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের আশ্রয়ন প্রকল্পের ১২১ বাড়িতেই খাবার পৌঁছে দিয়েছেন নিজ হাতে। হাতে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে তিনি এসব বাড়ীর দরজার সামনে গিয়ে ডেকেছেন। সাধারন মানুষের কাছে এ যেন নাই চাইতেই হঠাৎ পাওয়া। বাড়ী বাড়ী গিয়ে তিনি খাবার বিতরণের সাথে তিনি তাদের মাঝে সচেতনতাও সৃষ্টি করেন। আমলা আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, এই ভাইরাসের কারণে কেউ বাইরে যেতে পারছে না। একদিন কাজ না করলে পরের দিন খাবার থাকে না। খুব চিন্তায় পড়ে ছিলাম ছেলে মেয়ে নিয়ে। কি খাবো? কোথায় পাবো? কিন্তু বিকেলে হঠাৎ দেখি চেয়ারম্যান সাহেব এসে হাজির। বশির সাহেব নাকি আমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছেন। আনোয়ারুল চেয়ারম্যান সেটাই দিয়ে গেলেন। সুকিলা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ঘরে চাল নেই। রাতে কি খাবো খুব চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু বশির সাহেবের দেওয়া চাল, আলু এনে আনোয়ারুল চেয়ারম্যান দিয়ে গেলেন। অনেক সময় দেখি যে কিছু নিতে হলে মেম্বর বা চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হয়। কিন্তু এই দুঃসময়ে বশির সাহেব ও আনোয়ারুল চেয়ারম্যান আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। খোকন নামের এক বাসিন্দা জানান, ১০দিন কাজ করিনি। ছেলে মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। চাল ফুরিয়ে গেছে। কাল সকালে কি রান্না হবে সেই চিন্তা করছিলাম। কিন্তু বিকেলে দেখি আনোয়ারুল চেয়ারম্যান হাতে চাউলের বস্তা নিয়ে হাজির। বশির সাহেব নাকি আমাদের জন্য এসব পাঠিয়েছেন। এতে আমরা খুবই খুশি। ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব বশির আহম্মেদ এর অর্থায়নে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের এক হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা। আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা বলেন, আমি চাই না আমার ইউনিয়নের কোন মানুষ না খেয়ে থাকুক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ত্রাণ সামগ্রী, জেলা ও উপজেলা থেকে আগত সরকারী ত্রাণ সাধারন মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে আমলা ইউনিয়নে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব বশির আহম্মেদ এর ১ হাজার মানুষের কাছে খাবার বাড়ী বাড়ী গিয়ে পৌঁছে দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমলা আশ্রয়ন প্রকেল্পর ১২১টি বাড়ীতেই আলহাজ্ব বশির আহম্মেদ এর দেওয়া খাদ্য সামগ্রী নিজে হাতে করে নিয়ে পৌঁছে দিয়েছি। যাতে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষদের কষ্ট করা না লাগে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজ্বী আসাদুল হক মিল্টন, সাংবাদিক জাহিদ হাসান, জামিরুল ইসলাম, নাসিম রেজা, আরিফ আহম্মেদ। এ ছাড়াও সকালে আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা আমলা ইউনিয়নের খয়েরপুর, কচুবাড়ীয়া এবং চৌদুয়ার এলাকায় এসব ত্রাণ বিতরণ করেন। উল্লেখ্য, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব বশির আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের জন্য গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখছেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভবন, অডিটোরিয়াম, বিদ্যালয়ের ফটক, কম্পিউটার ল্যাব, আইসিটি ল্যাব, প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। সেই সাথে আলহাজ্ব বশির আহম্মেদ তার প্রতিষ্ঠানে জেলার হাজারো বেকার যুবকদের চাকুরীর সুযোগ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন। এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা করে আসছেন। এছাড়া তিনি একজন মিডিয়া বান্ধব ব্যাক্তিত্ব হিসাবে পরিচিত। বিভিন্ন প্রেসক্লাবে তিনি এসি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। দেশের মানুষের দুঃসময়ে তিনি সব সময় এগিয়ে এসেছেন। গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

আরো খবর...