আল্লাহর ওলী ও ওছিলা

॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

রাসূল (সাঃ) বলেন ঃ “আমার পর্দা করার পর নবুয়াতের ধারা বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু সুসংবাদের ধারা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সাহাবার জিজ্ঞাসা করলেন; সুসংবাদের ধারা কি? রাসূল বললেন, “আউলিয়া কোরমগণ।” তাই; রাসূল বলেছেন; “আলা ইন্না আউলিয়াল্লাহ্  লাইয়া মুতুন বাল ইয়ান কালেবু মিন্দার ইলাদ্দারÑঅর্থাৎ ওলী আল্লাহর মৃত্যু নেই, তারা দরজা বদরজা ঘুরে বেড়ায়।”

উদাহারণ স্বরূপ সূরা কাহাফে যে কয়জন ব্যক্তির কথা উল্লে¬খ আছে তারা সবাই ছিল আউলিয়া। তাই ৩০৯ বছর ঘুমানের পরও  তারা জীবিত ছিল।  এটা এক বিরল ঘটনা। আর এদর সাথে একটা কুকুরও ছিল ফলে সেই কুকুরটি ও জান্নাতে প্রবেশ করবে। কুকুর  যদি ওলীদের সাথে থেকে জান্নাতে যেতে পারে তাহলে মানুষ কেন পার পাবে না? মাওলানা রুমী বলেছেন ঃ “তুমি যদি নিজেকে বিলীন করে দিয়ে আল¬াহর তাওহীদে অবস্থান করতে পার; তাহলে তুমি তার পরম বন্ধু রূপে তাঁরই সত্তায় অবস্থান করতে পারবে।” এই স্তুরে উত্তীর্ণ  সাধক অমরত্ব লাভ করেন। এই অর্থেই হাদীসে বলা হয়েছে ঃ “আল্লাহর ওলীদের জন্য মৃত্যু নেই।”

এ প্রসঙ্গে আওলাদে  রাসূল বারো শরীফের মহান ইমাম (রঃ) কলেমার ব্যখ্যা দানের মাধ্যমে এ বিষয়টি বুঝিয়েছেন। যেমন ঃ কলেমা তৈয়ব অর্থাৎ স্বাক্ষ্য বাক্য অর্থাৎ ইসলামে অর্ন্তভূক্ত হওয়া। এর পর শাহাদৎ অর্থাৎ শহীদ হয়ে যাওয়া। এটা এসে গেলে আসে তৌহিদ অর্থাৎ একত্ববাদ। এই অবস্থায় কলুবুল মুমেনিনা আরশিল¬াহ হয়। এরপর তাম্জিদ অর্থাৎ পরিপূর্ণতা। এটাই বাকাবিল্লাহ। আগে ফানাফিল্লাহ, তারপর আবার অস্তিত্বে ফিরে আসা। এ স্তরে সাধক হন মৃত্যুঞ্জয়ী। তাই, আল¬াহ বলেন ঃ আল¬াহ রাস্তায় যারা শহীদ হন, তাদের মৃত মনে কর না; তারা আল¬াহর দৃষ্টিতে জীবিত ও রিযিক প্রাপ—। (আল-কোরআন)

তাই ইমাম গাজ্জালী; মোল্লা আলী ক্বারী; আল¬াম মানাভী তাদের নিজ  নিজ কিতাব যথাক্রমে ঃ ইহ ইয়াউল উলুম, মেরকাত; ওতাইছির-এ বর্ণনা করেছেন পবিত্র আত্মা সমূহ যখন উর্দ্ধ জগতের  ফেরেশতাদের সাথে মিশে যায়, তখন আসমান ও জমিনের বিভিন্ন স্থানে তারা ভ্রমণ করেন এবং জীবিত ব্যক্তিদের ন্যায়ই তাঁরা সবকিছু দেখতে ও শুনতে পান।” (বই নুর নবীÑঅধ্যক্ষ এম.এ. জলীল)

যার পীর নেই  তার পীর শয়তান Ñ(হাদীস)।

“প্রত্যেক মানুষকে তার শরীয়ত ও তরিকতের ইমামের সাথে  হাশরÑনাশর করাব।” (সূরা ঃ বনি-ইসরাঈল)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন ঃ নবীর মর্যাদা তার সম্প্রদায়ে যেমন শায়েখের মর্যাদা ও তার সম্প্রদায়ে তেমন। হযরত ঈসা (আঃ) বলেন, যারা আমাকে না মেনে বলে এক আল¬াহকে মানি, তারা শয়তানের ইবাদত করে।” প্রশ্ন আসে যারাÑনবীÑরাসূলÑওলীÑআউলিয়াÑপীরÑমৃর্শিদ মানিনা; যানি নাÑতারা কার ইবাদত করে? ওছিলা সম্পর্কে আল্লাহ বলেন;  “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে পেতে ওছিলা খোঁজ কর এবং আল¬াহর পথে জিহাদ  কর যেন তোমরা মুক্তি পাও।” এ দুনিয়াতে যত ওলী আউলিয়া এসেছেন তারা ওছিলা বা পীর মুর্শিদ ধরেছেন।

হযরত আদম (আঃ) এর দোয়া কবুল হয় রাসূল (সাঃ) এর ওছিলায়। নবী হয়েও যদি আদম এর ওছিলা লাগে দোয়া কবুলের তাহলে আমাদের দোয়া ওছিলা ছাড়া কবুল হবে এর নিশ্চয়তা কোন দলিলে আছে?

বনি ইস্রাইলের নবী হযরত মূসা (আঃ) এর উপর তৌরাত কিতাব নাযিল হয়। একবার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় এ জামানার শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী  কে? উনি চিন্তা করলেন আমি বর্তমান জামানার নবী অতএব আমি  ছাড়া কে হবে জ্ঞানী। তাই উত্তর দিলেন আমিই জামানার শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী। কিন্তু মহাজ্ঞানী আল্লাহ এতে অসন্তুষ্ট হলেন। মুসারও পর ওহী নাযিল বন্ধ হয়ে গেল। মুসা তখন বললেন, হে প্রভু! আমার উপর অসন্তষ্ঠির কারণ কি? আল্লাহ বললেন; তুমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী মনে করে অপরাধী হয়েছো। তখন মুসা ক্ষমা প্রার্থী হলেন। আল্লাহ  বললেন; তুমি খাযা খিযির  এর কাছে যাও। খিযির হলেন কিতাব হীন নবী বা ওলী। নবী হয়েও যদি উনাকে ওলীর কাঝে যেতে হয় তবে  আলেম সমাজ আমরা গেলে দোষটা কি? আমরা তো সাধারণ জ্ঞানী।

আল্লাহ বলেন; “যারা তোমার কাছে রাসূল (সাঃ) আত্ম বিক্রয় করেছে তারা আমারই কাছে আত্ম বিক্রয় (বয়াত বা মুরিদ) করেছে। তাদের হাত আমার হাতের উপর।” কোরাণে আছে ঃ “আতিউল্লাহ ওয়া আতিউর রাসূল ওয়াউলিন আমরে মিনকুম (সূরা নিসাÑ৫৭)। অর্থ তাবেদারী কর আল্লাহর, তাবেদারী কর রাসূলে এবং তাবেদারী কর মাশায়েখগণের।” মাশায়েখ অর্থÑপীরÑওলীগণ। মানব জনম ওছিলায়, জীবন ধারণ ওছিলায়; এবং মৃত্যু ও ওছিলায়। নির্বাক জিনিস (কোরান) কখনও সবাকের ওছিলা হতে পারে না। তাই, দরকার জীবিত কামেল বা ওলীর।

ডাঃ এস খলিউল্লাহ লিখেছেন ঃ হাদীসে আছে, উম্মতের জন্য নবী  যেরূপ, ভক্তদের জন্য পীরও তদ্রুপ। মুর্শিদ ছাড়া আল্লাহর রাস্তায় চলা বড় কঠিন ও ধৃষ্ঠতা। তাই নবী (সাঃ) বলেছেন ঃ যার গুরু নেই শয়তান তার গুরু”।

বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) বলেছেন; ওলীর হাতে হাত মিলানো দরকার। মুরিদ হওয়া মানে আপন হওয়া। সেদিনের জন্য একটা অবলম্বন। আমাদের জীবনে আল্লাহ ও রাসূল পাবার জন্য কামেলের সংস্পর্শ খুবই দরকার। আমাদের সমাজে মাওলানা মৌলভী বা আলেম সম্প্রদায় এ দিকটা আলোচনা করেন না। বাড়ীর পার্শ্ব দিয়ে ঈঁৎৎবহঃ এর লাইন গেছে বলেই কি বলবো এটা কোর্টপাড়ার বা আমাদের পাড়ার ঈঁৎৎবহঃ, কিন্তু এটা সেই মূল এর সাথে যোগ রেখেছে। তেমনি আল¬াহর স্বীকৃত খলিফার কাজও সেই  মহা ঈঁৎৎবহঃ এর সাথে যোগাযোগটা করে দেয়া। আবার ঈড়হহবপঃরড়হ খড়ড়ংব হলে ঠিক মতোকাজ হবে না। ঈঁৎৎবহঃ আসবে না। তাই  মুরিদ বা বায়াত বা দীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তাই কবি নজরুল বলেছেন ঃ নবী মোর পরশমণি….। তাই সে পরশ নিতে  হলে দরকার তার খলিফা যে আগেই পরশের স্পর্শে পরিপূর্ণ (কামেল)। তাই পীর বা মুর্শিদ প্রয়োজন। সংসার ধর্মের মাঝে মুক্তির ব্যবস্থা দরকার।  মুরিদ হলে একটা অবলম্বন থাকে।” (মোহাম্মদী ডাইরী ১৮Ñ০৫Ñ৮৩)।

আরো খবর...