আলোকচিত্রী শহিদুলের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত হাই কোর্ট বেঞ্চ

ঢাকা অফিস ॥ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত বোধ করেছে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, আদালত বিষটি শুনতে বিব্রত বোধ করছে। আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন, শাহদিন মালিক ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। পরে সারা হোসেন বলেন, “আমি জানতে চেয়েছিলাম, বিষয়টি কয়েকদিন কার্যতালিকায় থাকার পর আজ কেন বিব্রত বোধ করছেন? আদালত বিব্রত বোধ করার কারণ বলেননি। এভাবে বিব্রত বোধ করা সত্যিই অস্বাভাবিক।” তিনি বলেন, “আমরা আজ আদালতের কাছে বলেছি, আমাদের যে জামিন আবেদনটি আছে সেটি শুনানি করা হোক। সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা আদালতের ব্যাপার। আমরা শুনানির সুযোগ চাই। এটা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। আমরা কারণ জানতে চেয়েছি কেন আমাদের আবেদন শোনা হবে না। পাঁচদিন ধরে আমাদের আবেদনটি কার্যতালিকায় রয়েছে। কোনো না কোনো কারণে শুনানি করা যায়নি। এক পর্যায়ে আমাদের বলা হল, বাস্তবতা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা তখন আদালতে বলেছি, বাস্তবতা কি এটাই যে, একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো যাবে, তাকে আটকে রাখা হবে। তার জামিন চাইতেই দেওয়া হবে না, এটাই কি আমাদের বাস্তবতা?” এই আইনজীবী বলেন, “আমি জানি সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে তার অধিকারের সুরক্ষা পেতে এই আদালতে আসতে হবে। এখানে আসার পর যদি ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে কোথায় যাব সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।” এখন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য নতুন একটি বেঞ্চে পাঠাবেন। নতুন বেঞ্চে যেন দ্রুত শুনানি হয় সে জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হবে বলে জানান সারা হোসেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত ৫ আগস্ট রাতে পুলিশ দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে ‘উসকানিমূলক ও মিথ্যা’ অপপ্রচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এ মামলা করে পুলিশ। ঢাকার হাকিম আদালত শহিদুলের জামিন আবেদন নাকচ করে দিলে তার আইনজীবীরা ১৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে যান। বিচারক আবেদনটি ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য রাখলে তারা শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার জন্য আরেকটি আবেদন করেন। কিন্তু বিচারক তা গ্রহণ না করলে ২৬ আগস্ট শহিদুল আলমের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে ওই আদালতেই ফের আবেদন করা হয়। আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ না করায় গত ২৮ আগস্ট শহিদুলের জামিন আবেদন নিয়ে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে আসেন। কয়েক দিন আটকে থাকার পর সোমবার আবেদনটি বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চের কার্য তালিকায় আসে। কিন্তু ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় সময়ের আবেদন করে আদালতকে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই এ শুনানিতে থাকতে চান। এরপর আদালত বিষয়টি মঙ্গলবার শুনানির জন্য রাখে। কিন্তু মঙ্গলবার আদালত বিব্রত বোধ করায় শহিদুলের জামিন শুনানি আরও পিছিয়ে গেল।

 

আরো খবর...